রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে প্রায় দেড় যুগ আগের একমাত্র কোবাল্ট-৬০ যন্ত্রটি দিয়ে চলছে ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা ও শিক্ষার্থীদের পাঠদান। বাড়তি রোগীর চাপ নিতে না পেরে মাঝেমধ্যেই অচল হয়ে পড়ে যন্ত্রটি। এদিকে আড়াই মাস আগে মন্ত্রণালয় থেকে হাসপাতালের জন্য নতুন আরেকটি যন্ত্র অনুমোদন করা হলেও আজও তা এখানে এসে পৌঁছায়নি।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, ঢাকার বাইরে শুধু রাজশাহী মেডিকেল কলেজেই এমফিল ও এমডি রেডিও থেরাপি (অনকোলজি) ডিগ্রি দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি এখানে প্রতিদিন ক্যানসারে আক্রান্ত এক থেকে দেড় শ রোগীর চিকিৎসা হয়। এ জন্য ১৯৯৬ সালে আনা চীনের তৈরি কোবাল্ট-৬০ যন্ত্রটিই একমাত্র ভরসা। তবে দীর্ঘ ব্যবহারে এটির কার্যক্ষমতা প্রায় নিঃশেষ। সূত্রটি জানায়, জুলাই মাসে হাসপাতালের পাঠানো চাহিদাপত্র অনুযায়ী স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় একটি কোবাল্ট-৬০ যন্ত্রের অনুমোদন দেয়। গত ৩ সেপ্টেম্বর মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আবদুল মালেক স্বাক্ষরিত অনুমোদনপত্রের অনুলিপি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে পাঠানো হয়। কিন্তু যন্ত্রটি এখনো হাসপাতালে সরবরাহ করা হয়নি।
এমফিলের ছাত্র শাফায়াত হাবিব জানান, এখানে এমফিল ও এমডি (ডক্টর অব মেডিসিন) করার সুযোগ আছে। কিন্তু ভালো যন্ত্রপাতি নেই। তিনি আরও বলেন, লিন্যাক যন্ত্র না থাকায় এখানে চামড়ায় ক্যানসারের চিকিৎসা করা যায় না। এতে যেমন চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি শিক্ষার্থীদেরও যথাযথ জ্ঞানার্জনে সমস্যা হচ্ছে। রেডিও থেরাপি বিভাগের প্রধান দায়েম উদ্দিন জানান, কোবাল্ট-৬০ যন্ত্রের সঙ্গেই লিন্যাক নামের আরেকটি যন্ত্রের চাহিদাও মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। কোবাল্ট যন্ত্রটি কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তাঁরা শুনেছেন। কিন্তু লিন্যাক যন্ত্রটির বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না, জানা নেই।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইদুর রহমান বলেন, বর্তমানে একটি পুরোনো যন্ত্র দিয়ে ক্যানসারের মতো রোগের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এই যন্ত্রে রোগের নির্ভুল পরিমাপ করা সম্ভব হচ্ছে না। নতুন একটি যন্ত্রের জন্য মার্কিন একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের চুক্তি হয়েছে। নতুন যন্ত্রটি আসতে হয়তো আরও বছর খানেক লাগবে।
সূত্র - প্রথম আলো

