দেশের দীর্ঘস্থায়ী ব্যাপক অপুষ্টির অন্যতম কারণ বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একার পক্ষে অপুষ্টি দূর করা সম্ভব নয়। আরও একাধিক মন্ত্রণালয়, নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম, এনজিও এবং উন্নয়ন সহযোগীরা সম্মিলিত উদ্যোগ নিলে পুষ্টি পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব।
গত বৃহস্পতিবার দেশের পুষ্টি পরিস্থিতির উন্নতির লক্ষ্যে যোগাযোগ, অ্যাডভোকেসি ও অংশীদারিবিষয়ক সেমিনারে দেশি-বিদেশি পুষ্টিবিদ ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা এ কথা বলেন। সরকারের জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি, ইউনিসেফ, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এবং ইউএন রিস রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে এ কর্মশালার আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে ইউনিসেফের যোগাযোগ বিভাগের প্রধান ন্যান্স ওয়েবার বলেন, সমাজের দরিদ্র শ্রেণীর মধ্যে খর্বকায় শিশুর সংখ্যা বেশি। বিরাজমান অপুষ্টির অন্যতম কারণ বৈষম্য। অপুষ্টি দূর করতে স্বাস্থ্যের সঙ্গে শিক্ষা, কৃষি, তথ্য, সমাজকল্যাণ, স্থানীয় মন্ত্রণালয়কে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি নীতিনির্ধারকদের মতামত গড়ে তোলার জন্য সঠিক অ্যাডভোকেসি দরকার।
বাংলাদেশ ব্রেস্ট ফিডিং ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন এস কে রায় বলেন, দরিদ্র ৬০ শতাংশ মানুষের মধ্যে অপুষ্টির হার ৮০ শতাংশ। দেশে এখনো ৩৬ শতাংশ নবজাতক কম ওজন নিয়ে জন্মায়। প্রলেপ দেওয়া কোনো উদ্যোগ দেশের পুষ্টি পরিস্থিতির উন্নতির সহায়ক হবে না। এই পুষ্টিবিদ বলেন, অপুষ্টি দূর করার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একাধিক উদাহরণ এখন জানা আছে। সেসব কাজ সংস্কৃতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে এ দেশে প্রয়োগ করতে হবে। অপুষ্টির সমাধান বাণিজ্যিক উদ্যোগের মধ্যে খোঁজা উচিত হবে না। অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের বিভিন্ন অংগ সংগঠনের প্রতিনিধি, সরকারের একাধিক মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, পুষ্টিবিদ, এনজিও কর্মকর্তারা অংশ নেন।
মূল উপস্থাপনায় জাতীয় পুষ্টিসেবার উপকর্মসূচি ব্যবস্থাপক নাসরীন খান বলেন, অপর্যাপ্ত মানসম্পন্ন খাদ্য, সেবাযত্নের অভাব এবং বিশুদ্ধ পানি ও পয়োব্যবস্থার সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবার অপ্রতুলতা অপুষ্টির জন্য দায়ী। ঢাকা, চট্টগ্রামসহ অন্যান্য শহরের বস্তির শিশুদের মধ্যে অপুষ্টির হার তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ছাড়া আরও ১২টি মন্ত্রণালয় পুষ্টি পরিস্থিতির উন্নতিতে কাজ করছে। এসব মন্ত্রণালয়সহ দাতা ও নাগরিক সমাজের পুষ্টিবিষয়ক কাজের সমন্বয় জরুরি হয়ে পড়েছে। এনএনএসের কর্মসূচি ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শফিকুল ইসলাম লস্কর বলেন, পুষ্টির উন্নতি অনেক কিছুর ওপর নির্ভর করে। তাই এ ক্ষেত্রে প্রত্যেক মন্ত্রণালয়ের কিছু না কিছু করার আছে।
সূত্র - প্রথম আলো

