শুরুতেই হোঁচট খেল দেশের প্রথম অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন (বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্টেশন) কর্মসূচি। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হেমাটোলজি বিভাগের বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্টেশন ইউনিটের জন্য কেনা কোটি টাকার যন্ত্র অকেজো হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে রোগীদের চিকিৎসায়ও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
গত রোববার ঢাকা মেডিকেলের নতুন ভবনের দশম তলায় বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্টেশন ইউনিটে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে কোনো রোগী নেই। ক্যানসার চিকিৎসার জন্য যে পাঁচজন রোগীর স্টেম সেল সংগ্রহ করা হয়েছিল, তাদের বাড়ি পাঠানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, সবকিছু ঠিক হলে আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে এদের অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন করা হবে।
গত ২০ অক্টোবর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্টেশন ইউনিটের উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী। তার আগে পাঁচজন ক্যানসার রোগীর অস্থিমজ্জা থেকে স্টেম সেল সংগ্রহ করা হয়। স্টেম সেল বিশেষ ব্যবস্থায় রাখা হয়েছে। কথা ছিল, সব প্রক্রিয়া শেষে ২০ নভেম্বরের মধ্যে তা পাঁচ রোগীর শরীরে প্রতিস্থাপন করা হবে। কিন্তু তা হচ্ছে না।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বলছে, অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনের জন্য যথাযথ প্রস্তুতি ছাড়াই এই ইউনিটের উদ্বোধন করা হয়েছে। রোববার দেখা গেছে বিভিন্ন কক্ষে কাজ হচ্ছে। অনেক যন্ত্রপাতি বাক্সবন্দী অবস্থায়।
ঘোষিত সময়ে অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন হচ্ছে না বলে স্বীকার করেছেন হেমাটোলজি ও হেমাটোঅনকোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক এম এ খান। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতালের (এমজিএইচ) চিকিৎসক, নার্স ও যন্ত্র-কারিগরেরা এই কর্মসূচিতে সহায়তা করছেন। প্রতিস্থাপন কাজে তাঁদের উপস্থিত থাকার কথা ছিল। কিন্তু হরতাল ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস তাঁদের এ সময় এ দেশে না থাকতে অনুরোধ করেছে। তিনি বলেন, ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞরা এলে প্রতিস্থাপন করা হবে।
ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতালের অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন বিশেষজ্ঞ বিমলাংশু রঞ্জন দে ঢাকা মেডিকেলের এই ইউনিট তৈরিতে বিশেষ সহায়তা করেছেন। এই প্রবাসী চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‘অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনের সময় বিশেষায়িত নার্স অপরিহার্য। প্রতিস্থাপনের সময় বাংলাদেশের নার্সদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নার্সরা উপস্থিত থাকবেন। আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে আমাদের বাংলাদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি আছে।’ তিনি বলেন, টুকটাক যেসব কাজ বাকি আছে, ঢাকা মেডিকেল কর্তৃপক্ষ তা শেষ করার উদ্যোগও নিয়েছে।
এদিকে দেড় মাস আগে সরবরাহ করা ফ্লো সাইটোমেট্রি যন্ত্রটি নষ্ট হয়ে গেছে। অস্থিমজ্জায় স্টেম সেলের পরিমাণ মাপতে এই যন্ত্রটি ব্যবহার করা হয়। প্রায় এক কোটি টাকা দিয়ে যন্ত্রটি কেনা হয়েছে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ডায়ামেড-এর কাছ থেকে। বেশি দাম দিয়ে নিম্নমানের যন্ত্র কেনার অভিযোগ রয়েছে।
অধ্যাপক এম এ খান বলেন, যন্ত্রটি তাঁরা কেনেননি। সরকারের কেন্দ্রীয় ঔষধভান্ডার থেকে সরবরাহ করা হয়েছে।
ডায়ামেডের মালিক হাবিবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, যন্ত্রটি নষ্ট না। কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে। খুব শিগগির ভারত থেকে প্রকৌশলী এসে ঠিক করে দিয়ে যাবেন।
সূত্র - প্রথম আলো

