ক্যানসার-হৃদরোগ রুখবে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টের ‘বাপ’!
26 July,14
Viewed#: 49

‘অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট’-এর কথা অনেকেই জানেন। কিন্তু সব 'অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট'-এর 'বাপ'কে চেনেন কি? এ হলো সেই মহা ‘অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট’ যার সাহায্যে ক্যানসার, হৃদরোগ, জরা, স্মনায়ুরোগ-সহ এক গাদা সমস্যার সমাধান সম্ভব। অথচ মানবদেহে এর উপস্থিতি এতই কম যে চিকিৎসকরা তার জোগান দিতে হিমশিম খেয়ে যান।
‘গ্লুটাথাইওন’-এর নাম চিকিৎসা জগতের সঙ্গে জড়িত প্রায় সবাই শুনেছেন। শক্তিশালী ‘ডিটক্সিফায়ার’ এই অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলে সুস্থ জীবনযাপনের সহায়ক।
আমাদের শরীর অবশ্য তার নিজস্ব গ্লুটাথাইওন তৈরি করতে সক্ষম, কিন্তু সুষম খাদ্যাভ্যাসের অভাব, দূষণ, বিষাক্ত আবহাওয়া, অতিরিক্ত পরিশ্রম, সংক্রমণ ও তেজষ্ক্রিয় বিকিরণের জেরে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় তৈরি এই গ্লুটাথাইওন নষ্ট হয়ে যায়।
‘গ্লুটাথাইওন’ আসলে কী? 
এ হলো এক অণু যা হরদম আমাদের শরীরে সৃষ্টি হয়ে চলেছে। মূলত তিনটি উপাদানের সংমিশ্রণে এই অণু তৈরি হয়। এগুলি হলো cysteine, glycine এবং glutamine। গ্লুটাথাইওন-এ রয়েছে গন্ধকজাত কয়েকটি রাসায়নিক যা পারা ও ভারি ধাতুর মতো শরীরের ক্ষতিকর ও বিষাক্ত উপাদানগুলিকে রুখে দিয়ে পরে তা শরীর থেকে বের করে দিতে সাহায্য করে।
কীভাবে মিলতে পারে ‘গ্লুটাথাইওন’?
শরীরে স্বাভাবিকভাবে তৈরি হওয়া এই বিশেষ অণু অনেক সময়েই প্রয়োজনের তুলনায় কম হয়। তাই খাদ্য তালিকায় রাখতে হবে এমন কিছু খাবার যা গ্লুটাথাইওন জোগাবে।
কী কী খাদ্য ‘গ্লুটাথাইওন’ জোগাবে?
ব্রকোলি, ব্রাসেল স্প্রাউটস, বাঁধাকপি, ফুলকপি, অ্যাভোক্যাডো, পিচ, তরমুজ, দারচিনি, বড় ও ছোট এলাচ, হলুদ, কড়াইশুটি, টম্যাটো, রসুন, পেঁয়াজ, ক্যাপসিকাম আর লাল লঙ্কা গ্লুটাথাইওন-এর উৎস।
লক্ষ্য করে দেখুন, তালিকায় থাকা প্রতিটি আনাজই স্বাস্থ্যকর খাদ্য বলে পরিচিত। কিন্তু এর কোনোটি কখনো বেশি পরিমাণে খাওয়া হয় না।
বর্তমানে মানুষ এই সমস্ত স্বাস্থ্যকর খাবার ছেড়ে জাঙ্ক ফুড, মাংস, দুগ্ধজাত দ্রব্য, ও প্রসেসড খাদ্যের প্রতি ঝুঁকেছে। আমরা সকলেই প্রায় জানি যে এই সব খাবারের সূত্রেই শরীরে বহু রোগ বাসা বাঁধে।
এ সব হজম করতেও শরীরের বেশি পরিশ্রম হয়। তাই খাদ্যাভ্যাস বদলে রোজের খাবারের তালিকায় রাখতে হবে টাটকা ফল ও সবজি। তা ছাড়া নিয়মিত শরীরচর্চা করাও দরকার। কারণ স্বাস-প্রশ্বাস ও ঘামের মধ্যে দিয়েও শরীরের ক্ষতিকর পদার্থ বেরিয়ে যায়।
মার্কিন চিকিৎসক মার্ক হাইম্যানের নিদান, শরীরে গ্লুটাথাইওন-এর মাত্রা বাড়াতে হলে কিছু টিপস মেনে চলুন:
১। গন্ধকের পরিমাণ বেশি, এমন খাবার খান। রোজের মেনুতে রাখুন বেশি পরিমাণে ফুলকপি, রসুন, পেঁয়াজ, ব্রকোলি, বাঁধাকপি।
২। দুধ পান করতে পারেন তবে তা যেন পাস্তুরাইজড হয়। কোনো কীটনাশকের উপস্থিতি আছে কিনা, তা দেখে নিন
৩। নিয়মিত ব্যায়াম করুন। এতে শরীরে গ্লুটাথাইওন-এর মাত্রা বাড়ে
৪। পারিবারিক চিকিৎকের পরামর্শ অনুযায়ী N-acetyl-cysteine, Alpha lipoic acid, Methylation nutrients ও Selenium-এর মতো রাসায়নিক ও খনিজ নিয়মিত ডোজ হিসেবে প্রয়োগ করতে পারেন।
সূত্র - ওয়েবসাইট