ক্যান্সার দমনে ভিটামিন ‘ই’-এর কার্যকারিতা পরীক্ষা করতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা পরস্পরবিরোধী ফল পেয়েছেন। কোনো কোনো পরীক্ষায় দেখা গেছে, ভিটামিন ‘ই’ সেবনকারীদের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার হারের কোনো পরিবর্তন হয়নি। আবার অন্যান্য গবেষণায় এ হার হ্রাস পাওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। যেমন চীনে এক সমীক্ষায় ২৯ হাজারেরও বেশি প্রাপ্তবয়স্ককে ভিটামিন ‘ই’ বিটাক্যারোটিন ও সেলেনিয়াম একত্রে খাইয়ে দেখা গেছে, তাদের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার কিংবা ক্যান্সারে মারা যাওয়ার হার লক্ষণীয়ভাবে হ্রাস পেয়েছে।
বিজ্ঞানীরা অনেক আগ থেকেই লক্ষ করে এসেছেন, শরীরে ভিটামিন ‘ই-এর মাত্রা কম থাকার সাথে ক্যান্সার দেখা দেয়ার ঝুঁকি বেশি হওয়ার এবং ভিটামিন ‘ই’ বেশি থাকার সাথে ক্যান্সারের ঝুঁকি কম হওয়ার একটা সম্পর্ক আছে। ফিনল্যান্ডে ৫০ থেকে ৬৭ বছর বয়সী ২৭ হাজার ধূমপায়ী পুরুষের ওপর সমীক্ষা চালিয়ে ভিটামিন ‘ই’ খাওয়ানোর সুফল পাওয়া গেছে। এ ২৭ হাজার পুরুষকে দুই ভাগে ভাগ করে এক দলকে দৈনিক মাত্র ৫০ আইইউ করে ভিটামিন ‘ই’ খাওয়ানো হয় এবং অন্য গ্রুপকে খাওয়ানো হয় প্লাসিবো। যাদের ভিটামিন ‘ই’ খাওয়ানো হয়েছিল দেখা গেছে, অন্য গ্রুপের চেয়ে তাদের প্রোস্টেটের ক্যান্সার হয়েছে ৩২ শতাংশ কম। তার চেয়ে বড় কথা, এই গ্রুপে প্রোস্টেটের ক্যান্সারে মৃত্যুহার ছিল অন্য গ্রুপের চেয়ে ৪১ শতাংশ কম। কোলন, ফুসফুস ও স্তনের ক্যান্সারের ক্ষেত্রে ভিটামিন ‘ই’ কতখানি কাজ দেয়, তা নিয়ে এখন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।
ভিটামিন ‘ই’ নার্ভের রোগ আলজিমার্স ডিজিজ নিরাময় করতে না পারলেও মন্থর করে দিতে পারে বলে গবেষণায় দেখা গেছে। তা ছাড়া দৈনন্দিন জীবনে এই ভিটামিনের আরো কত যে সুফল রয়েছে, তা হয়তো আমরা জানিই না। এক নতুন সমীক্ষায় দেখা যায়, রোদে গাত্রচর্ম পুড়ে পীতাভ বর্ণ ধারণ করলে ভিটামিন ‘ই’ খেলে তা দ্রুত মিলিয়ে যায়। ভিটামিন ‘ই’ জিনজিভাইটিস সারাতেও যথেষ্ট কার্যকর। ভিটামিন ‘ই’ কী পরিমাণে খাওয়া উচিত, গবেষকেরা বলেন, যারা দিনে ১০০ থেকে ৪০০ আইইউ ভিটামিন ‘ই’ গ্রহণ করে থাকে, তাদের কয়েক ধরনের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা যথেষ্ট কমে যায়। তাই বলে এটি অতিরিক্ত মাত্রায় গ্রহণ করাও ঠিক নয়। কেননা তাতে শরীরে অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের ভারসাম্য বিনষ্ট হতে পারে। অর্থাৎ হিতে বিপরীত হতে পারে।
সূত্র - দৈনিক নয়া দিগন্ত

