রোববার দুপুর একটা! নয়-দশ বছরের এক ছেলেকে নিয়ে হবিগঞ্জ আমলি আদালতে হাজির হলেন পুলিশের এক সদস্য (কনস্টেবল)। শিশুটির চোখমুখে চাঞ্চল্য। আদালতে ঢোকার পরই দায়িত্বরত এক কনস্টেবলকে দেখে জড়িয়ে ধরে সে। এক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) এসে শিশুটির সঙ্গে হাত মেলায়। জানতে চান, কেমন আছে সে? শিশুটি আকার-ইঙ্গিতে কিছু একটা বলল।
পরে তাকে নেওয়া হয় আমলি আদালত-২-এর বিচারক মো. কামাল হোসাইনের খাসকামরায়। বিচারককে দেখেই জড়িয়ে ধরে শিশুটি। বিচারক পরম স্নেহে মাথায় হাত বুলিয়ে দেন। জানতে চান কুশল। বরাবরের মতো এবারও নীরব শিশুটি।
বাক্প্রতিবন্ধী এই শিশুটির অভিভাবকদের সন্ধান না পাওয়ায় বিপাকে আছে পুলিশ। গত পাঁচ মাসে তাকে পাঁচবার সিলেটের সরকারি শিশু পরিবার থেকে হবিগঞ্জ আদালতে আনা-নেওয়া করেছে।
পুলিশ জানায়, গত ২৯ আগস্ট রাত সাড়ে নয়টার দিকে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার ইনাতগঞ্জ বাজারে এলাকাবাসী ওই শিশুকে কাঁদতে দেখে। নাম-ঠিকানা জানতে চাইলে সে কথা বলতে পারছিল না। পরে বাজারের লোকজন শিশুটিকে নবীগঞ্জ থানায় নিয়ে যান। পুলিশও শিশুটির পরিচয় উদ্ঘাটনে ব্যর্থ হয়। ১ নভেম্বর শিশুটিকে হবিগঞ্জ আমলি আদালত-২-এ হাজির করে নিরাপত্তা হেফাজতে রাখার আবেদন করে পুলিশ।
বিচারক শিশুটির পরিচয় শনাক্তকরণ ও নিরাপত্তা হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। ১০ দিন পর আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ। তাতে শিশুটি একজন বাকপ্রতিবন্ধী ও তার পরিচয় না পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। পরে আদালত শিশুটিকে সিলেটের বাগবাড়ীতে শিশু-কিশোর হেফাজত নিরাপদ আবাসন কেন্দ্রে (সরকারি শিশু পরিবার) রাখার নির্দেশ দেন। এর পর থেকে তার সার্বিক অবস্থা জানানোর জন্য প্রতি মাসে আদালতে হাজির করা হচ্ছে। এ কারণে আদালত প্রাঙ্গণের মানুষগুলোর সঙ্গে তার বেশ ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। গত রোববার হাজির করার পর বিচারক মো. কামাল হোসাইন ১০ মার্চ পরবর্তী দিন ধার্য করেন।
শিশুটির বিষয়ে দায়িত্ব পাওয়া নবীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আহামঞ্চদ সনজুর মোরশেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘শিশুটির পরিচয় পাওয়ার জন্য আমরা অনেক চেষ্টা করেছি। দেশের সব থানায় বেতার বার্তা ও ছবি পাঠিয়েও পরিচয় মিলছে না।’
সূত্র - প্রথম আলো

