রাজধানীর পুরান ঢাকার একটি বাড়ি থেকে নকল খাবার স্যালাইন উদ্ধার করেছে র্যাব। বাড়িটির চারদিকে নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। দেয়ালে মাকড়সার জাল। স্যাঁতসেঁতে মেঝেতে ময়লার ছড়াছড়ি। চারদিকে ছড়িয়ে নোংরা বাক্স, কৌটা আর বস্তা। মেঝেতে ছড়িয়ে আছে লবণ আর লবণ। দেখে কে বলবে, এটি স্যালাইন তৈরির একটি কারখানা!
বাবুবাজার ব্রিজের নিচে ১০ নম্বর জামতলী লেনের সাত তলা পুরানো ভবনের ছয় তলায় তৈরি হচ্ছিল জীবন রক্ষায় অত্যন্ত প্রয়োজনীয় 'আইসিডিডিআরবির খাবার স্যালাইন'। তবে এর পুরোটাই নকল। খরচ কমানোর জন্য কলকারখায় ব্যবহৃত রাসায়নিক পটাশিয়াম ক্লোরাইড খাবার সোডা, খাবার লবণ এবং চাউলের গুঁড়া।
ঘরের মধ্যে হাজার হাজার প্যাকেট স্যালাইন তৈরি করছিল চক্রটি। প্রতারণার গল্প এখানেই শেষ নয়, আইসিডিডিআরবির খাবার স্যালাইনের প্যাকেট নকল করে তাতে নকল স্যালাইন ভরে বাজারজাত করছিল চক্রটি। প্যাকেট দেখে বোঝার উপায় নেই যে এটি আইসডিডিআরবির খাবার স্যালাইন নয়, নকল স্যালাইন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই বাড়িতে অভিযান চালায় র্যাব-১০ এর একটি অভিযানিক দল। এ সময় নিন্মমানের কাঁচামাল দিয়ে আইসিডিডিআরবির স্যালাইনের নকল প্যাকেটে ভরার সময় মালিক ওবায়দুর রহমান পলাশ (৩৬) ও কর্মচারী হিমেল ফকিরকে (১৬) আটক করে র্যাব।
ওই কারখানার সকল স্যালাই ও স্যালাইন তৈরির কাঁচামাল ও সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত করে কারখানাটিকে সিলগালা করে দেয়া হয়। এছাড়া নিজের অপকর্মের কথা স্বীকার করায় র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এএইচএম আনোয়ার পাশা মালিক পলাশকে এক বছরের কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা জরিমানা করেন। এছাড়া হিমেলকে দশ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
র্যাব সূত্র জানায়, পলাশ তিন বছর ধরে এই অবৈধ ব্যবসা করে আসছে। সে ফার্মা গ্রেড কাঁচা মালের দাম সাত হাজার টাকা হওয়ায়। খরচ কমানো জন্য ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রেড কাঁচামাল বস্তা প্রতি দুই হাজার টাকা হিসেবে কিনতো। এছাড়া খাবার লবন ও সোডা এতে মিশানো হয়। পরে আইসিডিডিআরবির নকল প্যাকেটে কাঁচামাল ভরে হিট মেশিন দিয়ে প্যাকিং করা মিটফোর্ডসহ সারা দেশের ফার্মেসিতে এই নকল স্যালাইন ছড়িয়ে দিচ্ছিল।
র্যাব কর্মকর্তাদের তথ্যানুযায়ী, তার মতো এমন অনেক প্রতারক রয়েছে, যাদের গ্রেপ্তারে র্যাবের অভিযান অব্যাহত আছে। এ ছাড়া গত কয়েক বছরে র্যাব সদস্যরা এ ধরনের বেশ কয়েকজন প্রতারককে গ্রেপ্তার করে জেল-জরিমানা করেছেন। সন্ধান পাওয়া গেছে নকল আর ভেজাল ওষুধের কারখানার।
র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এএইচএম আনোয়ার পাশা জানান, ওই কারখানায় প্রায় ৩৬ হাজার পিস ভরা ও খালি প্যাকেট পাওয়া যায়। দৈনিক ওই কারখানা থেকে চার হাজার পিস নকল স্যালাইন বাজারজাত করা হতো।
তিনি বলেন, "আসল আইসিডিডিআরবির স্যালাইনেরও বৈধতা নেই। আইসিডিডিআরবির কর্মচারী সমিতির তৈরি রাইস স্যালাইনটির ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কোন রেজিষ্ট্রেশন নেই। সকল ওষুধ উৎপাদন ও বাজারজাত করতে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী উক্ত রেজিষ্ট্রেশন নেয়া বাধ্যতামূলক হলেও তারা আইন অমান্য করে তা উৎপাদন অব্যহত রেখেছে।"
এ সুযোগে বেশকিছু অসাধু চক্র এই স্যালাইন নকল তৈরির প্রশ্রয় পাচ্ছে। একে তো এটি বাজারে বিক্রি হওয়া অবৈধ, তার ওপর ব্যাপকভাবে এটি নকল হওয়ার তথ্য প্রমাণ থাকায় সাধারণ মানুষের উচিৎ এই পণ্যটি আইসিডিডিআরবির কেন্দ্রের বাইরে কোনো দোকান থেকে ক্রয় না করা।
পাশাপাশি সাধারণ মানুষ সচেতন এবং আইসিডিডিআরবির কর্মচারী সমিতির বিরুদ্ধে ঔষধ প্রসাশনকে এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।
অভিযান পরিচালনা করেন র্যাব-১০ এর মেজর তৌফিকুল বারী। এ সময় ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের প্রতিনিধিগণও উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র - poriborton.com

