home top banner

খবর

নকল ওষুধে সয়লাব মফস্বল
০৫ এপ্রিল, ১৪
Tagged In:  medicine adulteration   Posted By:   Healthprior21
  Viewed#:   15

সরকারি নজরদারির অভাবে ভেজাল, নকল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধে সয়লাব হয়ে গেছে মফস্বলের ওষুধের বাজার। নিম্নমানের ভেজাল ও নকল ওষুধ ব্যবহার করে দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ অসুস্থতায় আরোগ্যের পরিবর্তে নতুন করে স্বাস্থ্যগত জটিলতায় পড়ছেন। বাড়তি টাকা খরচ করেও কাঙ্ক্ষিত সুফল পাচ্ছেন না। ওষুধের বাজারে পর্যাপ্ত তদারকি ও নজরদারি না থাকায় একশ্রেণীর প্রতারক প্রতিষ্ঠান মফস্বলের ক্রেতাদের ঠকিয়ে ফায়দা লুটছে। একশ্রেণীর ওষুধ ব্যবসায়ী ভেজাল, নকল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সারা দেশে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মফস্বলের বাজারে ছড়িয়ে পড়েছে এসব ওষুধ। এ ছাড়া সরকারি হাসপাতালের মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধও প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিক্রি হচ্ছে অবাধে। মাঝেমধ্যে এ ওষুধ সিন্ডিকেটের হোতারা কেউ কেউ ধরা পড়লেও সহজেই জামিনে বেরিয়ে আবার পুরনো অপকর্মে লিপ্ত হন। অন্যদিকে সরকারি তদারকির অভাবে ওষুধের দাম বাড়ানো হচ্ছে নিয়মিত। নিত্যপ্রয়োজনীয় এবং বিদেশি ওষুধের দাম মাঝেমধ্যেই বাড়িয়ে দেয় ওষুধ সিন্ডিকেট। ফলে জিম্মি হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ।

জানা গেছে, গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প দ্রুত বিকশিত হলেও সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ওষুধনীতির আধুনিকায়ন করা হয়নি। এ সেক্টরের অনিয়ম রোধে জোরদার হয়নি প্রশাসনিক নজরদারি। এতে নকল, ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধ সহজেই বাজারে ঠাঁই করে নিচ্ছে। পুরনো নীতিমালার বাধ্যবাধকতায় ওষুধের মান ও কার্যকারিতা নিয়েও ক্রেতারা কোনো তথ্য জানতে পারছেন না। বিশেষ করে মফস্বলের মানুষ নকল, ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধ সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। দেশে যুগোপযোগী ওষুধনীতি না থাকায় দেশজুড়ে ওষুধ বাণিজ্যে চলছে সীমাহীন নৈরাজ্য। সাধারণ ক্রেতারা ওষুধ বাণিজ্যের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে।

মফস্বলে ভেজাল বেশি : জানা গেছে, জেলা সিভিল সার্জন, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ স্থানীয় প্রশাসনের নির্লিপ্ত ভূমিকার কারণে গ্রামাঞ্চলের সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরেই থেকে যাচ্ছে মানসম্পন্ন ওষুধ। এর বিপরীতে ভেজাল, নকল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ গ্রামাঞ্চলের বাজারগুলোয় ঠাঁই করে নিচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, একটি যুগোপযোগী ওষুধনীতি থাকলে এ অরাজক পরিস্থিতি রোধ করা সহজ হতো। ওষুধ ও কোম্পানি ভেদে দামের হেরফের বন্ধ হতো। নকল, ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির হোতাদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হতো। কিন্তু এসবের কিছুই করা সম্ভব হচ্ছে না। পুরনো আইনের কারণে ওষুধের মূল্য নির্ধারণ, গুণগতমান এবং কার্যকারিতা সম্পর্কে ক্রেতারা জানতে পারেন না কিছুই। অন্যদিকে কমিশনপ্রলুব্ধ অধিকাংশ ডাক্তার অপ্রয়োজনীয় ওষুধ ও টেস্ট লিখে দিচ্ছেন রোগীকে। এতে অতিরিক্ত টাকা খরচ করেও পর্যাপ্ত সুফল পাচ্ছে না রোগী। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এসব নিয়মনীতির ফাঁক গলে বাজারে ঢুকে পড়ছে নিম্নমানের, ভেজাল ওষুধ। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় একশ্রেণীর অসাধু সিন্ডিকেট ওষুধ নকল করছে, ভেজাল মেশাচ্ছে। দেশে বর্তমানে প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রির বিকাশের কারণে খুব সহজেই সুদৃশ্য মোড়কে বাজারজাত করা যাচ্ছে ওষুধসহ বিভিন্ন পণ্য। সে সুযোগটাই নিচ্ছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। এর পাশাপাশি সরকারি প্রতিষ্ঠানের মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংগ্রহ করে মফস্বলের বাজারে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। রাজধানীর মিটফোর্ডে ওষুধের মার্কেটের একটি চক্রের মাধ্যমে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে মানহীন ওষুধ।

চড়া দাম, দিশাহারা মানুষ : এদিকে অতিরিক্ত মুনাফার জন্য একশ্রেণীর অসাধু সিন্ডিকেট ওষুধের মূল্য বৃদ্ধি এবং বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে। এ সুযোগে নকল ও নিম্নমানের ওষুধে বাজার সয়লাব হয়ে গেছে। জীবন রক্ষাকারী ওষুধের দাম বৃদ্ধিতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের এখন করুণ অবস্থা। টাকার অভাবে ওষুধ কিনতে না পেরে সারা বছর রোগ-শোকে ভুগছে তারা। অন্যদিকে, ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধ কেনায় চরম হুমকির মুখে পড়ছে জনস্বাস্থ্য। জানা গেছে, ওষুধের দাম নির্ধারণেও সরকারের ভূমিকা সীমিত। বর্তমানে দেশে প্রচলিত প্রায় ২৩ হাজার ওষুধের মধ্যে মাত্র ১১৭টির গুণ, মান ও মূল্য নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা রয়েছে সরকারের। এর বাইরে থাকা ওষুধের মূল্য নির্ধারণ করে উৎপাদক কোম্পানি। এতে বিক্রেতা পর্যায়ে ওষুধের অতিরিক্ত মূল্য নির্ধারণ করা হয় এবং কোনো কোনো সময় কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে নির্ধারিত কিছু ওষুধের বেশি মূল্য রাখা হয়। একই ওষুধের দাম কোম্পানিভেদে দু-তিন গুণ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ইতোমধ্যে দেশের প্রধান প্রধান ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন জীবন রক্ষাকারী ওষুধের দাম প্রতি পিসে ২ থেকে শুরু করে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছে। স্কয়ারের এনজিলার ফিফটি প্লাস ট্যাবলেট প্রতি পিস ৬ থেকে ৮, সেফরিন-২ আড়াই থেকে ৮, সেফরিন-৪ সাড়ে ৪ থেকে ৮ টাকায় বৃদ্ধি করেছে। একই প্রতিষ্ঠানের জি ম্যাক্স-৫০০ প্রতি পিস ৩০ থেকে ৩৫, সেফ ৩০ থেকে ৩৫, এসুন ক্রিম ২৯ থেকে ৩৫ এবং ক্রুপ্যান-২০ ট্যাবলেট ৩ থেকে বাড়িয়ে ৫ টাকা করেছে। বেঙ্মিকো ফার্মাসিউটিক্যালসের অ্যাজিপ্রোসিন ৫০০ মিলিগ্রাম প্রতি পিস ট্যাবলেট ৩০ থেকে ৩৫, প্যানটোনেক্স-২০ ও ৪০ ট্যাবলেট যথাক্রমে ৪ থেকে ৫ ও ৬ থেকে ৭ টাকায় বৃদ্ধি করেছে। পেডিয়ামিন সিরাপ ১৮ থেকে বাড়িয়ে ৩২ টাকা করা হয়েছে। একমি ল্যাবরেটরিজের মিল্ক অব ম্যাগনেশিয়া সিরাপ ২৮ থেকে বাড়িয়ে ৬০ টাকা করা হয়েছে। ১৮ টাকার ফেনাড্রিল সিরাপ করা হয়েছে ৩২ টাকা। এভাবে জীবন রক্ষাকারী বিভিন্ন অ্যান্টিবায়োটিক গ্রুপের ওষুধের দাম ক্ষেত্রবিশেষে ৩০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

সরকারি ওষুধ খোলাবাজারে : এদিকে সরকারি হাসপাতালগুলোর বিনামূল্যের ওষুধ বিক্রি হচ্ছে খোলাবাজারে। ঢাকাসহ সারা দেশের সরকারি হাসপাতালের ওষুধ পাশের ফার্মেসিতে নিয়মিত বিক্রি করে দেন একশ্রেণীর কর্মচারী। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ক্রেতারা টাকা দিয়ে কিনছেন সরকারি ওষুধ। সরকারি হাসপাতালগুলোয় দেওয়া নমুনা ওষুধও বাজারে চলে আসে। কিন্তু রোগীরা সরকারি ওষুধ কখনই পায় না। তাদের খোলাবাজার থেকে ওষুধ কিনতে হয়। অধিকাংশ সময় দেখা যায়, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধও বাজারে বিক্রি হচ্ছে, বিশেষ করে মফস্বলের বাজারে। এতে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। জানা গেছে, হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় রাজনৈতিক প্রভাব বেশি থাকায় সরকারি দলের শ্রমিক সংগঠনের নামধারী কর্মচারীরা সিন্ডিকেট করে হাসপাতালের ওষুধ বিক্রি করে দেন। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাদের কোনো শাস্তির আওতায় আসতে হয় না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদের অধ্যাপক আ ব ম ফারুক বলেন, ওষুধের জেনেরিক নাম প্রচলনের পাশাপাশি দেশে বিদ্যমান ওষুধগুলোর মধ্য থেকে একটি ওভার দ্য কাউন্টার-ওটিসি তালিকা তৈরি করতে আমরা সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়েছি। এতে মানুষ তাদের সাধারণ জ্ঞান থেকে চিকিৎসকের পরামর্শপত্র ছাড়াই ফার্মেসিতে গিয়ে ওই তালিকাভুক্ত ওষুধ কিনতে পারবে। তিনি বলেন, সবকিছুর জন্য একটি কার্যকর ওষুধনীতি প্রয়োজন। তিনি বলেন, ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধ বন্ধ করতে সরকারের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

সূত্র - দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন

Please Login to comment and favorite this News
Next Health News: হাত বাড়ালেই মিলছে ফরমালিন
Previous Health News: নিরামিষভোজিদের তুলনায় আমিষভোজিরা সুস্বাস্থ্যের অধিকারী

আরও খবর

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় অ্যান্টিবায়োটিক!

সম্প্রতি এক গবেষণায় জানা গেছে, কম বয়সে অ্যান্টিবায়োটিক খেলে পরবর্তী ক্ষেত্রে মানব শরীর বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধ করতে সক্ষম থাকে৷ কলোম্বিয়ার ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যায়লের এ গবেষণা অনুযায়ী, অন্ত্রে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া বিরাজ করে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাস্থ্যকর রাখে৷ কিন্তু... আরও দেখুন

ঢাবিতে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগ ও বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে  ‘Mental Health Gap in Bangladesh: Resources and Response’ শীর্ষক চার দিনের চতুর্থ মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন  হয়েছে। বুধবার ঢাকা... আরও দেখুন

৯টি ভয়ংকর সত্যি, যা আপনাকে ডাক্তাররা জানান না!

অনেক সময় কোনো ওষুধ একটি রোগ সারিয়ে তুললে, সেই ওষুধই অন্য একটি অসুখকে আমন্ত্রণ জানিয়ে রাখে। এমনকি এক্স রে রশ্মিও আমাদের শরীরে ক্যান্সারের মতো মারণ রোগের জন্ম দেয়। ওষুধের প্রভাবে কী কী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে ১. ওষুধে ডায়াবিটিস বাড়তে পারে: সাধারণত ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবিটিস হয়।... আরও দেখুন

প্রাকৃতিক ভায়াগ্রা হর্নি গোটউইড

চীনের একটি গাছের নাম হর্নি গোটউইড। এই গাছ থেকেই অদূর ভবিষ্যতে সস্তায় মিলবে ভায়াগ্রার বিকল্প ওষুধ। পুরুষাঙ্গকে দৃঢ়তা প্রদানের জন্য যে যৌগটি দরকার, সেই আইকারিন প্রচুর পরিমাণে রয়েছে হর্নি গোটউইডে। এই উপদানটিকে প্রকৃতিক ভায়াগ্রা হিসেবে শনাক্ত করেছেন ইউনিভার্সিটি অফ মিলানের গবেষক ডা. মারিও ডেল... আরও দেখুন

ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি দেবে ‘সোনা’

ব্রেন ক্যানসার চিকিৎসায় এবার ব্যবহৃত হবে সোনা৷ কারণ সোনা নাকি ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি  দিতে পারে৷ বিজ্ঞান পত্রিকা ন্যানোস্কেল অনুযায়ী, ব্রেন ক্যানসারের  চিকিৎসার সোনার একটি অতি সুক্ষ টুকরো সাহায্যকারী প্রমাণিত হতে পারে৷ বৈজ্ঞানিকরা একটি সোনার টুকরোকে গোলাকৃতি করে... আরও দেখুন

যৌবন ধরে রাখতে অশ্বগন্ধা

বাতের ব্যথা, অনিদ্রা থেকে বার্ধক্যজনিত সমস্যা। এ সবের নিরাময়ে অশ্বগন্ধার বিকল্প নেই। তেমনটাই তো বলেন বিশেষজ্ঞরা। এমনকি যৌবন ধরে রাখতেও অশ্বগন্ধার উপকারিতা অনস্বীকার্য। ত্বকের সমস্যাতেও দারুণ কাজ দেয় অশ্বগন্ধার ভেষজ গুণ। বিদেশেও এর চাহিদা ব্যাপক। সে কারণেই অশ্বগন্ধা চাষ অত্যন্ত লাভজনক।... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')