কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গতকাল বুধবার কোনো চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না। এ কারণে কয়েক শ রোগীকে সেবা না নিয়েই বাড়ি ফিরে যেতে হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ৩১ শয্যার এই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নয়জন চিকিৎসকের জায়গায় মাত্র দুজন কর্মরত আছেন। তাঁদের মধ্যে একজন ছুটিতে এবং অপরজন কক্সবাজার শহরে সরকারি কাজে যান। এতে হাসপাতালটি চিকিৎসকশূন্য হয়ে পড়ে। গতকাল বুধবার বেলা ১১টায় হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, শতাধিক রোগীর ভিড়। সকাল আটটা থেকে বেলা একটা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও চিকিৎসকের সাক্ষাৎ না পেয়ে রোগীরা ফিরে যাচ্ছেন।
উপজেলার হলদিয়াপালং ইউনিয়নের মরিচ্যা পালং গ্রামের ছালেহা বেগম (৩৭) আট মাসের একটি শিশু নিয়ে সকাল আটটায় হাসপাতালে আসেন। চিকিৎসকের দেখা না পেয়ে দুপুর ১২টায় আবার বাড়িতে ফিরে যান। বাড়ি ফেরার সময় ছালেহা বেগম সাংবাদিকদের বলেন, ঠান্ডায় তাঁর ছেলের প্রচণ্ড কাশি ও জ্বর হয়েছে। গ্রামের স্বাস্থ্যকর্মীরা বলেছেন, শিশুর নিউমোনিয়া হয়েছে। এ কারণে তিনি ছেলেকে নিয়ে চিকিৎসকের কাছে এসেছেন। কিন্তু সরকারি এই হাসপাতালে কোনো চিকিৎসক না পেয়ে অসুস্থ শিশু নিয়ে তাঁকে বাড়ি ফিরে যেতে হচ্ছে।
চিকিৎসক না থাকার কারণ জানতে চাইলে হাসপাতালের অফিস সহকারী ফরিদুল আলম বলেন, হাসপাতালে কর্মরত দুজন চিকিৎসকের মধ্যে আবু তৈয়ব ছুটিতে আছেন। অপরজন (উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা) এস এম আবু সাঈদ সরকারি কাজে কক্সবাজারে গেছেন। এ কারণে হাসপাতাল কোনো চিকিৎসক নেই।
এ প্রসঙ্গে বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করেও চিকিৎসক এস এম আবু সাঈদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কক্সবাজারের (ভারপ্রাপ্ত) সিভিল সার্জন ডা. পুচনু বলেন, হাসপাতালে শূন্যপদে দ্রুত চিকিৎসক নিয়োগের চেষ্টা চলছে। হাসপাতাল সূত্র জানায়, ৩১ শয্যার এই হাসপাতালটি কয়েক বছর আগে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও এখনো প্রয়োজনীয় সংখ্যক জলবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি। হাসপাতালের ভেতরে ১৯ শয্যার আরেকটি নতুন ভবন নির্মাণ করা হলেও দীর্ঘদিন ধরে তা তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে।
সূত্র- প্রথম আলো

