প্রশ্ন : ডায়াবেটিস কী?
ডায়াবেটিস হলো এক ধরনের মেটাবলিক ডিজঅর্ডার বা বিপাকজনিত রোগ যা হজমকৃত খাবার থেকে শক্তি উৎপাদনে শরীরের সামর্থ্যকে প্রভাবিত করে। ডায়াবেটিস হজম ক্রিয়াকে ব্যাহত করে না; তবে হজম ক্রিয়ার ফলে সৃষ্ট গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য উপাদান গ্লুকোজ ব্যবহার করতে দেহকে প্রতিরোধ করে।
প্রশ্ন : কী কী ধরনের ডায়াবেটিস রয়েছে?
দুই ধরনের ডায়াবেটিস রয়েছে। টাইপ-১ এবং টাইপ-২
টাইপ-১ রোগে আক্রান্ত রোগীদের প্যানক্রিয়াস বা অগ্ন্যাশয়ে ইনসুলিন তৈরি হয় না। এই রোগ সাধারণত শৈশবে শুরু হয়। এই ধরনের ডায়াবেটিস রোগীদের জীবন ধারণের জন্য ইনজেকশনের মাধ্যমে প্রতিদিন ইনসুলিন গ্রহণ অত্যাবশকীয় হয়ে পড়ে।
টাইপ-২ রোগে আক্রান্ত রোগীদের প্যানক্রিয়াস বা অগ্ন্যাশয়ে কিছু পরিমাণ ইনসুলিন তৈরি হলেও ইনসুলিন রেসিস্ট্যান্সের কারণে তৈরিকৃত ইনসুলিন সঠিকভাবে কাজ করে না ফলে তা রক্তের গ্লুকোজকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না বা বিপাকক্রিয়া যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে পারে না।
প্রশ্ন : ডায়াবেটিসের লক্ষণ কী কী?
ডায়াবেটিসের লক্ষণগুলো ধীরে ধীরে শুরু হয়, শুরুতে যা শনাক্ত করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে সাধারণত নিম্নলিখিত লক্ষণগুলো প্রকাশ পায়। যেমন : ক্লান্তি বা অসুস্থ বোধ হওয়া, ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া (বিশেষ করে রাতে) অত্যাধিক তৃষ্ণা পাওয়া ইত্যাদিসহ নিম্নলিখিত সমস্যাগুলো দেখা দিতে পারে।
জ্বালা-পোড়াজাতীয় ব্যথা, অবশভাব, হাত বা পায়ের পাতা ফুলে যাওয়া প্রভৃতি ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথিজনিত লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
চোখে ঝাপসা দেখা, কখনো আলো জলকানি দেখা, চোখে লাল বা কালো ভাসমান বস্তু দেখা যা দেখতে অনেকটা ভাসমান চুলের মতো বা মাকড়সার জালের মতো বা চোখে ব্যথা অনুভূত হওয়া প্রভৃতি ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথিজনিত জটিলতা দেখা দিতে পারে।
ক্ষত সেরে না ওঠা বা সংক্রমণ আক্রান্ত দৃষ্ট হওয়া, ওই অংশের রক্তনালিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াকে ইঙ্গিত করে। এ ছাড়া হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক বা পেরিফেরাল অরেটারিয়াল ডিজিজ প্রভৃতি ম্যাকোভাস্কুলার ডিজিজ হতে পারে।
কারো কিডনি আগে থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকলে অনেক সময় ডায়াবেটিক নেফ্রোপ্যাথির উপসর্গগুলো বোঝা না যেতে পারে। প্রস্রাবে প্রোটিন পরীক্ষার মাধ্যমে কিডনির ক্ষতিগ্রস্ততা নিশ্চিত করা যায়।
সুত্র - যায়যায়দিন

