শরীরে পানিশূন্যতার কারণ ও করণীয়
02 June,14
Viewed#: 111
গরমে শরীর বেশি ঘামতে থাকে আর ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে বের হয়ে যায় পানি ও লবণ৷ অতিরিক্ত পানি হারিয়ে কখনো কখনো শরীর হয়ে পড়তে পারে পানিশূন্য৷ প্রচণ্ড গরমে বৈরী আবহাওয়ায় কাজ করতে গেলেও এমন হতে পারে৷ এ প্রসঙ্গে কথা বলেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক খান আবুল কালাম আজাদ৷ তিনি বলেন, গরমে সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয় দুপুরে, যখন তাপমাত্রা খুব বেশি থাকে৷ এ সময় স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে গিয়েও হঠাৎ পানিশূন্যতা হতে পারে৷ এ সমস্যার কারণে কেউ যে শুধু তৃষ্ণার্ত হবে বা চোখে অন্ধকার দেখবে তা-ই নয়, তাঁর কিডনি-বৈকল্য পর্যন্ত হতে পারে৷
কী করে বুঝবেন?
পানিশূন্যতার লক্ষণের মধ্যে রয়েছে প্রচণ্ড পিপাসা পাওয়া, ঘন ঘন শ্বাস নেওয়া, মাথা ঘোরানো, চোখে অস্পষ্ট দেখা ও প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া৷ মাথা ঘুরে রোগী পড়েও যেতে পারে৷ পানিশূন্যতায় রোগীর হৃৎপিণ্ডের গতিও বেড়ে যেতে পারে৷
পানিশূন্যতার আরও কারণ
প্রচণ্ড ঘাম হওয়া ছাড়াও পানিশূন্যতার অন্যান্য কারণের মধ্যে রয়েছে ডায়রিয়া ও খুব বেশি বমি হওয়া৷
হঠাৎ পানিশূন্যতায় করণীয়
যাদের প্রচণ্ড ঘামের কারণে পানিশূন্যতা হয়, তাদের অবশ্যই লবণসমৃদ্ধ পানি পান করতে হবে৷ এ ক্ষেত্রে শুধু পানি পান করলে আবার লবণ কমে যাওয়ার সমস্যাও হতে পারে৷ তাই লবণসমৃদ্ধ পানিই পান করতে হবে৷ খাওয়ার স্যালাইন দেওয়া যেতে পারে অথবা এক বোতল পানিতে এক চিমটি লবণ ও দুই ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে সেই পানি পান করানো যেতে পারে৷ তবে পানির ঘাটতি মেটাতে পানি পান করতেই হবে বলে আবার অপরিশোধিত পানি পান করা যাবে না৷ কারণ, এর ফলে জন্ডিস, টাইফয়েডসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ হতে পারে৷ এ ছাড়া সঙ্গে বমি বা ডায়রিয়া থাকলে সেটির চিকিৎসারও প্রয়োজন হতে পারে৷
হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে গেলে
হঠাৎ কেউ অজ্ঞান হয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে শুইয়ে দিতে হবে৷ জ্ঞান ফিরে এলে তাকে পানি এবং লবণ-পানি খাওয়াতে হবে৷
কখন যাবেন চিকিৎসকের কাছে?
কারও যদি প্রস্রাবের পরিমাণ খুবই কমে যায় বা একেবারেই প্রস্রাব না হয়, তাহলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে৷ আবার কেউ যদি ঘোরের মধ্যে চলে যায় বা কারও যদি প্রচণ্ড মাথা ঘোরায় অথবা শরীরের তাপমাত্রা যদি খুব বেশি বেড়ে যায়, তাহলেও চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে৷
পানিশূন্যতা প্রতিরোধে করণীয়
বাড়ি থেকে বেরোনোর আগে প্রচুর পানি পান করুন৷ বাইরে গেলে ছাতা ব্যবহার করুন৷ দীর্ঘক্ষণ কড়া রোদে থাকবেন না৷ অপেক্ষাকৃত ছায়াযুক্ত স্থানে থাকতে চেষ্টা করুন৷ বাইরে বেশি সময় না থাকতে চেষ্টা করুন৷ কিছুক্ষণ পর পর পানি পান করুন৷ কখনোই প্রস্রাব আটকে রাখবেন না৷ গরমে অনেকেই ছোট হাতার জামা পরেন, তবে এ সময় আসলে ফুলহাতা জামা পরা উচিত৷
পানিশূন্যতা থেকে জটিলতা
পানিশূন্যতার কারণে কেউ হঠাৎ পড়ে গিয়ে আঘাত পেতে পারে৷ এর কারণে জীবননাশের আশঙ্কাও দেখা দিতে পারে৷ এ ছাড়া পানিশূন্যতার কারণে কিডনি-বৈকল্য, এমনকি হৃৎপিণ্ডে সমস্যাও হতে পারে৷
সূত্র - প্রথম আলো