পুদিনা পাতায় অসাধারণ ঘরোয়া চিকিৎসা
10 March,14
Viewed#: 572
পুদিনা পাতাকে আমরা শুধুমাত্র রান্নার স্বাদ বাড়ানোর কাজেই ব্যবহার করে থাকি। সাধারণত অন্য কোনো কাজে আমরা পুদিনা পাতা ব্যবহার করি না। কিন্তু এই পুদিনা পাতা আমাদের দেহের জন্য অত্যন্ত ভালো একটি জিনিস। আমাদের নানান ভুলে দেহে বাসা বাঁধা দীর্ঘমেয়াদী কিছু রোগের চিকিৎসায় আমরা এই প্রাকৃতিক মহাঔষধটি ব্যবহার করতে পারি। চলুন দেখে নেই পুদিনা পাতার ব্যবহারে ঘরোয়া কিছু চিকিৎসা।
হজমের সমস্যা সমাধানে পুদিনা
পুদিনা পাতায় রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ফাইটোনিউরিয়েন্টসের চমৎকারী গুনাগুণ যা পেটের যে কোনো সমস্যার সমাধান করতে পারে খুব দ্রুত। যারা হজমের সমস্যা এবং পেটের ব্যথা কিংবা পেটের অন্যান্য সমস্যায় ভুগে থাকেন তারা খাবার পর ১ কাপ পুদিনা পাতার চা খাওয়ার অভ্যাস করুন। ৬/৭টি তাজা পুদিনা পাতা গরম পানিতে ফুটিয়ে মধু মিশিয়ে খুব সহজে পুদিনা পাতার চা তৈরি করতে পারেন ঘরে।
মাথা ব্যথা এবং জয়েন্টে ব্যথা দূর করতে পুদিনা
ব্যথা নাশক যে সকল ঔষধ বাজারে পাওয়া যায় তার সবগুলোতেই পুদিনা পাতার ব্যবহার রয়েছে। এর কারন হচ্ছে পুদিনা পাতার রস তাৎক্ষণিক ব্যথানাশক উপাদান হিসেবে কাজ করে। পুদিনা পাতার রস চামড়ার ভেতর দিয়ে নার্ভে পৌঁছে নার্ভ শান্ত করতে সহায়তা করে। তাই মাথা ব্যথা বা জয়েন্টে ব্যথা উপশমে পুদিনা পাতা ব্যবহার করা যায়। মাথা ব্যথা হলে পুদিনা পাতার চা পান করতে পারেন। অথবা তাজা কিছু পুদিনা পাতা চিবিয়ে খেতে পারেন। জয়েন্টে ব্যথায় পুদিনা পাতা বেটে লেপ দিতে পারেন।
দাঁত এবং মাড়ির সমস্যা সমাধানে পুদিনা 
অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাধানে ভরপুর পুদিনা পাতা দাঁত এবং মাড়ির যে কোন সমস্যা সমাধানে সাহায্য করে। পুদিনা পাতার রস মিশ্রিত পানি দিয়ে প্রতিদিন কুলকুচা করার অভ্যাস করলে দাঁত এবং মাড়ির সমস্যা থেকে দূরে থাকতে পারবেন। এছাড়া মাড়ির ইনফেকশন জনিত সমস্যা দূর করতে তাজা পুদিনা পাতা চিবিয়ে খাওয়ার অভ্যাস করুন।
অ্যাজমা এবং কাশির সমস্যা উপশমে পুদিনা
পুদিনা পাতার রস শ্বাসপ্রশ্বাসের নালী খুলে দেয়ার কাজে সহায়তা করে। ফলে যারা অ্যাজমা এবং কাশির সমস্যায় পরেন তাদের সমস্যা তাৎক্ষণিক উপশমে পুদিনা পাতা বেশ কার্যকরী। খুব বেশি নিঃশ্বাসের এবং কাশির সমস্যায় পরলে পুদিনা পাতা গরম পানিতে ফুটিয়ে সেই পানির ভাপ নিন এবং তা দিয়ে গার্গল করার অভ্যাস তৈরি করুন।
দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত করতে
পুদিনা পাতায় রয়েছে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ভিটামিন সি, ডি, ই এবং ভিটামিন বি কমপ্লেক্স। যারা দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার সমস্যায় ভুগেন তারা নিয়মিত পুদিনা পাতা খাবার অভ্যাস করুন। সালাদ কিংবা অন্যান্য রান্নায় পুদিনা পাতা ব্যবহার করুন। খেতে পারেন পুদিনা পাতার শরবত। দেহের ইমিউন সিস্টেম উন্নত হবে।
ক্যান্সার প্রতিরোধে পুদিনা পাতা
আশ্চর্যজনক হলেও সত্যি যে পুদিনা পাতা ক্যান্সার প্রতিরোধের ক্ষমতা রাখে। পুদিনা পাতার পেরিলেল অ্যালকোহল যা ফাইটোনিউরিয়েন্টসের একটি উপাদান দেহে ক্যান্সারের কোষ বৃদ্ধিতে বাঁধা প্রদান করে।
সূত্র - প্রিয়.কম