home top banner

স্বাস্থ্য টিপ

মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা, এবং বিষাদ্গ্রস্ততা কিভাবে আপনার স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলে
০৭ নভেম্বর, ১৩
Tagged In:  Health Care  
  Viewed#:   377

মানসিক চাপ হল মানসিক চাপের কারণের জন্য সৃষ্ট এমন অবস্থা, যার ফলাফল হল আমাদেরকে এটি চ্যালেঞ্জ করে এবং নতুন কোন পরিস্থিতির সাথে জোর পূর্বক খাপ খাইয়ে নিতে বাধ্য করে। আমাদের মস্তিস্ক মানসিক চাপের কারণ সমূহকে সম্ভাব্য বা আসন্ন বিপদ হিসাবে অনূদিত করে। কোন একটি পেশা গ্রহণ, তা চালিয়ে যাওয়া, বা তা হারিয়ে ফেলা; পারস্পরিক সম্পর্ক বিষয়ক কিছু, অথবা যে কোনও পরিস্থিতি হল মানসিক চাপের সম্ভাব্য কারণ। মানসিক চাপের কারণে পরিলক্ষিত সাড়া সমুহের মধ্যে আছে জৈবিক, শরীরবৃত্তীয়, মনস্তাত্বিক এবং বুদ্ধিগম্য ভাবে খাপ খাইয়ে নিতে চেষ্টা করা যাতে মানসিক চাপের ভয়কে জয় করা যায়। মানসিক চাপ নিজ থেকে মন্দ কিছু নয়, বেঁচে থাকার জন্য এবং আমাদের নিজকে সতর্ক রাখার জন্য পরিমিত পরিমাণে মানসিক চাপের প্রয়োজন আছে। সবিরাম এবং নিয়ন্ত্রিত মানসিক চাপ আমাদেরকে আরও স্বাভাবিক অবস্থায় প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনাপূর্ণ সামর্থ্য এনে দেয় যাতে আমরা সাফল্যের সাথে মানসিক চাপযুক্ত ঘটনাবলী মোকাবেলা করতে পারি।

আধুনিক সভ্যতা বেশ কিছু মানসিক চাপ সম্পর্কিত অসুস্থতা এনে দিয়েছে যেগুলি হাসপাতালে যেতে এমনকি মৃত্যুর কারণ হতে পারে, যার মধ্যে অল্প কয়েকটি হল Schizophrenia, Alzheimer’s disease, অ্যালার্জি, তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী ব্যাথা, এবং fibromyalgia। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ এসবের জন্য দায়ী। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ হল সেগুলি যা অনেক দীর্ঘ সময় ধরে ক্রিয়াশীল যেমন, দারিদ্র্য, বেকারত্ব, অনৈতিক সম্পর্ক ইত্যাদি। অনিশ্চিত মানসিক চাপ আরও বেশী খারাপ। গবেষণাগারে ইঁদুরের উপর পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে, দীর্ঘস্থায়ী তীব্র মানসিক চাপ আচরণ এবং মস্তিস্কের কার্যকারিতার উপর প্রভাব বিস্তার করে। বিভিন্ন রকম মানুষ বিভিন্ন রকম ভাবে মানসিক চাপ দ্বারা প্রভাবিত হয় এবং এটা নির্ভর করে তার জীবনের অভিজ্ঞতা এবং সে যেরূপ নানাবিধ কৌশলে তা মোকাবেলা করছে তার উপর। মানসিক চাপের কারণে অনেকের অ্যালার্জি, তীব্র দীর্ঘস্থায়ী ব্যাথা, পেশীর সংকোচন বা মাথা ব্যাথা হয়; অনেকে hyperhydrosis এ ভোগে; অনেকে এমন অবস্থা পরিবর্তন করতে না পারায় সে অবস্থাতেই থাকে ; অনেকের মধ্যে ভীতির সঞ্চার হয় বা দুশ্চিন্তা দূর করার জন্য একটি ঘোরের মধ্যে থাকতে দেখা যায়। আমাদের দেহের উপর মানসিক চাপের প্রতিক্রিয়া জৈবিক ভাবে সহানুভূতিশীল উপায়ের অতি সক্রিয়তার সাথে সম্পর্কিত। প্রতিবার যখন আমরা মানসিক চাপের মধ্যে পরি তখন আমাদের সত্ত্বাকে সক্রিয় করি যা আমাদের আচরণ, অনুভুতিকে প্রভাবিত করে এবং হরমোন, neurotransmitters এবং autonomic pathways এর কারণে সাড়া প্রদান করে যা মানসিক চাপের দৈহিক প্রতিক্রিয়া হিসাবে পরিলক্ষিত হয়।
 
যখন আমরা মানসিক চাপে আক্রান্ত হই তখন আমাদের শরীরে দুইটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমোন তৈরি হয় যা মন্দ ধরণের হরমোন হিসাবে পরিচিত এবং তা মানসিক অবস্থা, adrenaline এবং cortisol নামক হরমোনের উপর প্রভাব ফেলে। Adrenaline এবং cortisol হরমোন neurotransmitters এবং বেঁচে থাকার জন্য বিভিন্ন রাসায়নিক ক্রিয়া সংঘটিত করার মত শরীরের অনেক প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চালনার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। Cortisol শরীরের অনেক রোগ প্রতিরোধী হিসাবে, প্রদাহনাশী হিসাবে, এবং রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রকের সাথে সম্পর্কিত বিষয় হিসাবে কাজ করে। মানসিক চাপের বিরুদ্ধে এটি প্রাকৃতিক অভিবাবক হিসাবে কাজ করে এবং শরীরের মানসিক চাপ নিরোধের জন্য প্রতিরোধকের সহায়ক হিসাবে এটি শরীরে উৎপন্ন হয়। এটির যেকোনো রকম ভারসাম্যহীনতা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্থ করে এবং সমগ্র দেহের কার্যক্রমকে প্রভাবিত করে।
 
কিছু গবেষকগণ দেখিয়েছেন যে উচ্চমাত্রার adrenaline অংকের ভাল ফলাফল, সময় প্রভাবিত কাজ, এবং দীর্ঘ সময় যাবত লেগে থাকতে হয় এমন কাজ সমাধা ইত্যাদির সাথে সম্পর্কিত। এছাড়াও উচ্চ মাত্রার adrenaline এর ভাল যে সকল প্রভাব দেখা যায় তার মধ্যে আছে, উচ্চ মাত্রার adrenaline—যা রক্তের নমুনার থেকে মাপা হয়েছে— সম্বলিত ছাত্রদের তাদের স্কুল কার্যক্রম ও তাদের সমাজের সাথে খাপ খাইয়ে চলার সক্ষমতা অনেক ভাল, এবং কম adrenaline লেভেল সম্বলিত ছাত্রের চেয়ে আবেগ সংক্রান্ত বিষয়ে তারা অনেক বেশী সুস্থির থাকতে পারে। গবেষকরা বিভিন্ন রকম গবেষণার মাধ্যমে একটি ধারনা তৈরি করে দেখিয়েছেন যে adrenaline এবং অন্যান্য মানসিক চাপ সৃষ্টিকারী হরমোনের নিঃসরণ উপকারী হতে পারে যদি তা দীর্ঘস্থায়ী না হয়ে সবিরাম হয়। দৈনন্দিন মানসিক চাপের কারণে কোনরূপ ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি না করে মানসিক চাপের হরমোন আমাদের বেশ উপকার করতে পারে।
 
Cortisol এর ক্ষেত্রেও একই রকম প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। মানসিক চাপ সমুহের সবিরাম পুনরাবৃত্তি কোন একটি অংগকে আরও স্থিতিস্থাপক করে তোলে এবং মানসিক চাপের ঐ পরিস্থিতিকে সাফল্যের সাথে মোকাবেলা করতে সক্ষম করে তুলতে পারে। মানসিক চাপের কারণে অন্যান্য অনেক দীর্ঘস্থায়ী প্রতিক্রিয়ার মত ব্যাপক অবসাদ এবং bipolar disorder এর ক্ষেত্রে উচ্চমাত্রার cortisol এর উপস্থিতি পাওয়া গেছে। হাসপাতালে ভর্তিকৃত বিষাদ্গ্রস্ত রোগীর cortisol এর উচ্চ মাত্রায় বৃদ্ধি মানসিক চাপ এবং বিষাদগ্রস্ততার মধ্যে পরিস্কার সম্পর্ক নির্দেশ করে। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ নানাবিধ বিষাদগ্রস্ততার উপসর্গ যেমন হতাশা, দুর্বলতা, প্রেষণার অভাব, ঋণাত্মক চিন্তাধারা, এবং ব্যাথার প্রতি উচ্চমাত্রায় সংবেদনশীলতা ইত্যাদি তৈরির মাধ্যমে শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে বিপর্যস্ত করে দিতে পারে।
 
মানসিক চাপ বিষাদগ্রস্ততার একমাত্র কারণ নয়। বেশীর ভাগ মানুষই নিকট আত্মীয়ের মৃত্যু, কাজ হারানো, দুর্ঘটনা অথবা সম্পর্ক ভেঙ্গে যাওয়ার মত ব্যাপার গুলি হতাশাগ্রস্ত না হয়ে মেনে নিতে পারে আবার অনেকে একেবারেই তা পারে না। বিষাদগ্রস্ত লোকেরা মানসিক চাপ বেশ কমই সহ্য করতে পারে এবং তারা অন্যদের চেয়ে মানসিক চাপ সংক্রান্ত সমস্যায় বেশী আক্রান্ত হয়। মানসিক চাপের কারণে শিক্ষা এবং উন্নয়নের প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায় এবং ব্যক্তি সামাজিক ভাবে এগিয়ে যেতে প্রবল মানসিক চাপের সম্মুখীন হয় যার কারণে শেষ পর্যন্ত সে সামাজিক ভাবে অযোগ্য এবং বিচ্ছিন্ন হয়ে পরে।

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: কোমরে ব্যথা মানেই কিডনি সমস্যা?
Previous Health Tips: হাঁপানি নিরাময়ে আদা

আরও স্বাস্থ্য টিপ

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... আরও দেখুন

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... আরও দেখুন

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... আরও দেখুন

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... আরও দেখুন

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... আরও দেখুন

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')