শারীরিক গঠনকে সুন্দর, আকর্ষণীয় ও সুগঠিত করা এবং শরীরকে রোগমুক্ত রাখার জন্য কিছু সু-অভ্যাসই যথেষ্ট। তবে তা করতে প্রথম যে বিষয়টি প্রয়োজন, সেটি হচ্ছে ইতিবাচক মানসিকতা, অধ্যবসায় ও প্রত্যয়। সারাজীবন একটি সুুনিয়ন্ত্রিত প্রাত্যহিক রুটিন অনুসরণের দৃঢ় সংকল্প মনে লালন করতে হবে এবং সেটার বাস্তব প্রতিফলন ঘটাতে হবে। এখানে সুস্থ ও সুঠাম দেহ লাভের ৫টি উপায় উপস্থাপন করা হলো:
১) বেশিক্ষণ বসে থাকবেন না: টেলিভিশন বা কম্পিউটারের সামনে দীর্র্ঘক্ষণ একনাগাড়ে বসে থাকার অভ্যাস রয়েছে অনেকের। কর্মক্ষেত্রে একটানা বসে কাজ করার মতো মানুষের সংখ্যাও কম নয়। বরং, এ সংখ্যাটাই সবচেয়ে বেশি। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হচ্ছে, একনাগাড়ে কখনও বেশিক্ষণ বসে থাকবেন না। যেখানেই থাকুন, নিজেকে কর্মচঞ্চল রাখুন শারীরিকভাবে আরও সক্রিয় হয়ে ওঠার মাধ্যমে। কাজের মাঝখানে সামান্য একটু বিরতি নিয়ে হাঁটাহাঁটি করুন। এতে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক থাকবে, মনটাও থাকবে প্রফুল্ল। একই সঙ্গে আপনার শরীরে বাড়তি মেদ যেমন জমার সুযোগ পাবে না, তেমনি শারীরিক গঠনটাও থাকবে আপনারই নিয়ন্ত্রণে।
২) ব্যায়ামের সময় বের করুন: শরীরকে সুস্থ-সবল রাখতে ব্যায়ামের বিকল্প নেই। তাই হাজার ব্যস্ততার মাঝেও শরীরচর্চার জন্য দিনের একটি সুনির্দিষ্ট সময় বের করে নিন। সময়টা ভোর কিংবা সকাল হলেই সবচেয়ে ভাল হয়। প্রতিদিন ২০ মিনিট থেকে ৩০ মিনিটের ব্যায়ামই যথেষ্ট। আপনার বয়স, উচ্চতা ও শারীরিক গঠন অনুযায়ী ব্যায়ামের ধরন ও সময়টা নির্ধারণ করতে একজন দক্ষ ব্যায়াম প্রশিক্ষক ও চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। শারীরিক গঠনকে আরও বেশি সুগঠিত ও সুঠাম করার সবচেয়ে কার্যকর ওষুধ হলো ব্যায়াম। আপনার ওজনটা আদর্শ হলেও, ব্যায়ামটা সারাজীবন ধরে রাখা বাঞ্ছণীয়।
৩) ফাস্ট ফুড এড়িয়ে চলুন: খাবার খাওয়ার সময় মজার চেয়ে পুষ্টির দিকেই বেশি নজর দিন। আপনি মোটা নন, তাই ইচ্ছেমতো খাবার খেতে পারবেন, এমন ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। প্রতিদিন আপনি যা খাচ্ছেন, তাতে আপনার শরীরের পুষ্টি চাহিদা পূরণ হচ্ছে কিনা, সেদিকে খেয়াল রাখুন। চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন। ফাস্ট ফুড ও জাঙ্ক ফুড খাওয়ার অভ্যাস থাকলে, তা বাদ দিন। সুষম ও পুষ্টিকর একটি খাবারের তালিকা তৈরি করে সেটি কঠোরভাবে অনুসরণ করুন।
৪) কোমল পানীয় থেকে দূরে থাকুন: যে কোন কোমল পানীয় এড়িয়ে চলুন। কোমল পানীয় পানের অভ্যাসে স্থূলকায় হওয়ার আশঙ্কার পাশাপাশি হাড়ের ক্যালসিয়াম ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। কোমল পানীয়ের পরিবর্তে বেছে নিন ডাবের পানি বা ফলের রস। বেশি পানি পানের অভ্যাস করুন।
৫) ধূমপান ত্যাগ করুন: ধূমপান নিয়ে নতুন কিছু বলার নেই। এ নেশাটি থাকলে, এখনই ছেড়ে দিন। ধূমপায়ীরা ‘দ্রুতই ধূমপান ছেড়ে দেবো’ প্রতিজ্ঞাটি মুখে বারবার উচ্চারণ করলেও, সেটা সচরাচর ঘটে না। তাই জেনেশুনে বিষপান থেকে দূরে থাকুন। মনকে শক্ত করে এই মুহূর্তেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিন।
সূত্র - দৈনিক মানবজমিন

