সূর্যের আলো সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রতিদিন
১৩ ফেব্রুয়ারী, ১৪
Viewed#: 104
আলো এক প্রকার শক্তি। সূর্য আলোর সবচেয়ে বড় উৎস। সূর্য থেকে আলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণার আকারে ঢেউ খেলে খেলে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে ছুটে চলে। ঢেউগুলোর বিস্তারকে বলে তরঙ্গ দৈর্ঘ্য প্রত্যেক প্রকার আলো বা রঙ্গের নিজস্ব_ তরঙ্গদৈর্ঘ্য রয়েছে। সবগুলো আলো বা রঙের তরঙ্গ দৈর্ঘ্যকে একসঙ্গে বলে ইলেক্টোম্যাগনেটিক স্পেকট্রাম। এই ইলেক্টোম্যাগনেটিক স্পেকট্রামের একদিক আছে আল্টা ভায়োলেট আলোকরশ্মি আর অন্যদিকে ইনফ্রারেড রশ্মি। এ রশ্মিগুলো আমরা দেখতে পাই না। ইলেক্টোম্যাগনেটিক স্পেকট্রামের এ দুই ধরনের রশ্মির মাঝখানে আছে আমরা দেখতে পাই এমন রশ্মিগুলো। এ অংশটুকুতেই আমরা দেখতে পাই বেগুনি, নীল, আসমানি, সবুজ, হলুদ, কমলা আর লাল রঙ।
এক পশলা বৃষ্টির পর সূর্যের উল্টোদিকে রংধনুতে এসব রঙ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মির তরঙ্গ দৈর্ঘ্য ২৮০ থেকে ৪০০ ন্যানোমিটার। এক ন্যানোমিটার খুবই ছোট, এক মিলিমিটারের ১০ লাখ ভাগের এক ভাগ মাত্র। ইনফ্রারেড রশ্মির তরঙ্গ দৈর্ঘ্য ৭০০ ন্যানোমিটারের চেয়ে বেশি। আর আমরা যে রঙ বা আলো দেখতে পাই সেগুলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য ৪০০ থেকে ৭০০ ন্যানোমিটারের মধ্যে। এরমধ্যে বেগুনি রঙের তরঙ্গদৈর্ঘ্য প্রায় ৪০০ ন্যানোমিটার এরপর নীলের প্রায় ৪৪৫, আসমানির ৪৭৫, সবুজের ৫১০ হলুদের ৫৭০, কমলার ৫৯০ আর লাল রঙের প্রায় ৬৫০ ন্যানোমিটার।
সূর্যের আলোর আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মির প্রায় ৯৮.৭ শতাংশই আটকা পড়ে যায় বায়ুম-লের ওজন স্তরে। সামান্য অংশ আসে পৃথিবীতে। সূর্যের আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি প্রয়োজন শরীর ভিটামিন ডি তৈরি করতে। আমাদের হাড় হাড্ডির জন্য ভিটামিন ডি আবশ্যক। ভিটামিন ডি শরীরে খনিজ পদার্থ শোষণে সহায়তা করে আবার মনমেজাজ ভালো রাখতেও ভিটামিন ডি কার্যকর। আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মির প্রভাবে ত্বকে মেলানিনও উৎপন্ন হয়। সূর্যতাপে পুড়ে যাওয়া থেকে ত্বককে অনেকক্ষণ রক্ষা করে এ মেলানিন। আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মির বেশি সংস্পর্শ অবশ্য শরীরে ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে। তাই বেশি সময় রৌদ্রে থাকা উচিত নয়।
ইনফ্রারেড রশ্মি আলোর অন্য সব রশ্মির চেয়ে ত্বকের গভীর প্রবেশ করতে পারে বেশি। এ রশ্মি শরীরের কোষকে উজ্জীবিত করে। কোষ বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে। রক্ত সরবরাহ বাড়ায়। রক্তের শ্বেতকণিকার সংখ্যা বৃদ্ধি করে। পেশির শক্ত হয়ে যাওয়া কমায়। কমায় পেশিও অস্থিসন্ধির ব্যথাও। লাল আলোকরশ্মি শরীরের জন্য ভালো। এ রশ্মি ত্বকে কোলাজেন ও ইলাস্টিন তৈরিতে সহায়ক। এতে ত্বক থাকে সুস্থ সুন্দর টানটান। এগুলোর জন্য ত্বকের ক্ষত শুকায় দ্রুত। লাল আলোকরশ্মি পেশির খিঁচুনি ও ব্যথায় সাময়িক প্রশান্তি দান করে। অস্থিসন্ধির ব্যথাও জয়েন্ট শক্ত হয়ে যাওয়াও কমায় সাময়িকভাবে।
সূত্র - দৈনিক যায়যায়দিন