home top banner

Health Tip

জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে করণীয়
10 March,14
Tagged In:  uterus cancer  Cancer prevention  
  Viewed#:   368

cervix-cancerআমাদের দেশের মহিলাদের মধ্যে যতরকম ক্যান্সার হয় তার মধ্যে জরায়ুমুখ ক্যান্সার অন্যতম। সাধারণত ৩৫ বছর বয়সে বা ৫০-৫৫ বছর বয়সে এই রোগ বেশি হয়।


কাদের ঝুঁকি বেশি :
১. অল্প বয়সে বিয়ে (১৬ বছরের নিচে), একাধিক বিয়ে। ২. অল্প বয়সে প্রথম গর্ভধারণ/অল্প বয়স থেকে শারীরিক সম্পর্ক শুরু। ৩. ঘন ঘন বাচ্চা হওয়া, অনেক বেশি বাচ্চা হওয়া। ৪. একের অধিক যৌনসঙ্গী। ৫. এমন লোকের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক হওয়া, যার একের বেশি যৌনসঙ্গী আছে বা যার প্রথম স্ত্রীর এই রোগ ছিল তার পরবর্তী স্ত্রীর এই রোগ হতে পারে। ৬. দরিদ্রতা/অপুষ্টি। ৭. সিগারেট, গুল ইত্যাদি তামাকজাত দ্রব্য সেবন। ৮. জন্মনিয়ন্ত্রণের বড়ি একটানা অধিক দিন (১২ বছরের বেশি সময় ধরে) খাওয়া। ৯. ইমিউনিটি কম এমন মহিলাদের।

প্রতিরোধ : ৯৯.৭% ক্ষেত্রে এই রোগটি হয় হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস দিয়ে।

প্রতিরোধ ১. প্রাইমারি প্রিভেনশন (প্রাথমিক প্রতিরোধ) : ক) যে যে কারণে রোগটি হওয়ার সম্ভাবনা সেগুলোকে এড়িয়ে চলা। খ) টিকা (এইচপিভি ভেকসিন) নেওয়া। প্রত্যেকটি মেয়েরই নয় থেকে ১৫ বছরের মধ্যে জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধের টিকা নাওয়া উচিত।

২. সেকেন্ডারি প্রিভেনশন : রোগের খুব প্রাথমিক অবস্থায় Pap Smear নামক পরীক্ষার সাহায্যে রোগটিকে শনাক্ত করে এর চিকিৎসা করানো। প্রাথমিক অবস্থায় রোগটি শুরু হয় CIN দিয়ে। CIN হলো ক্যান্সারের প্রাথমিক বা পূর্ববর্তী অবস্থা। এর তিনটি ধাপ ঈওঘ CIN I, II, III; CIN I হলে ক্যান্সার হওয়ার আশঙ্কা <১%, CIN II হলে ৫% এবং CIN III হলে এই আশঙ্কা বাড়ে ২২%। তাই CIN II বা CIN III অবস্থায় চিকিৎসা করলে জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব। ঈওঘ CIN II/III থেকে ক্যান্সার হতে ১০-১৫ বছর সময় লাগে। তাই খুব প্রাথমিক অবস্থায় রোগটিকে শনাক্ত করে চিকিৎসা করলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সম্পূর্ণভাবে রোগ মুক্ত থাকা যায়।

রোগ শনাক্তকরণ : সাধারণত জরায়ুমুখ খালি চোখে দেখে বা যন্ত্রের সাহায্যে দেখে বা VIA পরীক্ষার মাধ্যমে জরায়ুমুখের সন্দেহজনক স্থান থেকে বায়োপসি করে প্রাথমিক অবস্থায়ও রোগ নির্ণয় করা যায়। যদি জরায়ুমুখে ঘা বা টিউমার থাকে সেখান থেকে বায়োপসি নিয়ে পরীক্ষা করে রোগ শনাক্ত করা যায়।

কখন প্যাপস করতে হবে : যেসব মহিলার বয়স ২১ বছর বা যারা তিন বছর ধরে যৌন সম্পর্কের মধ্যে আছে তাদের প্রতিবছর একবার Pap’s Smear এবং জরায়ুমুখ পরীক্ষা করাতে হবে। পর পর তিন বছর নেগেটিভ রিপোর্ট (ভালো) আসলে এবং বয়স ৩০ বছর বা বেশি হলে তিন বছর পর পর পরীক্ষাটি করাতে হবে। বয়স ৭০ হলে এবং আগের ১০ বছরে পর পর তিনটি বা বেশি নেগেটিভ রিপোর্ট (ভালো) আসলে পরীক্ষাটি করাতে হবে না।

সূত্র - বাংলাদেশ প্রতিদিন

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: পুদিনা পাতায় অসাধারণ ঘরোয়া চিকিৎসা
Previous Health Tips: বয়সকালে স্ত্রী-রোগ

More in Health Tip

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... See details

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... See details

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... See details

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... See details

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... See details

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... See details

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')