home top banner

Health Tip

মেনিনজাইটিস লক্ষণ ও কারণ
03 March,14
Tagged In:  meningitis symptoms  Health Care  
  Viewed#:   179

Meningitis-symptomsজামালপুর শহরের ১০ বছরের রিয়া ৫ম শ্রেণীর ছাত্রী। হঠাৎ তার কানে, গলায় ও নাকে প্রচণ্ড ব্যথা হল এবং ব্যথানাশক ওষুধ সেবনে ভালো হয়ে গেল। পরের দিন আবারও সেই ব্যথা। শরীরের ভারসাম্য রক্ষা করতে পারছে না। রিয়ার আত্মীয়স্বজন তাকে নাক, কান ও গলা বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে গেলেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ডাক্তার জানালেন রিয়ার মেনিনজাইটিসে আক্রান্ত হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিয়েছে। দেরি না করে দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করান। মেনিনজাইটিসের চিকিৎসা শুরু হল।

লক্ষণ : অনেক ক্ষেত্রে লক্ষণ প্রকাশের ১২ ঘণ্টার মধ্যেই মেনিনজাইটিসের রোগী মারা যায়। তীব্র মাথা ব্যথার সঙ্গে থাকে স্মৃতি বিভ্রম, বমি-বমি ভাব, আলোর দিকে তাকাতে না পারা, অস্বস্তি, শরীরে বিশেষ দাগ। মূর্ছা যাওয়া, ঘুম পাওয়া, শরীরের ভারসাম্য হারানো এবং গলার মাংস শক্তি হয়ে যাওয়াও মেনিনজাইটিসের লক্ষণ।

কারণ ও প্রকারভেদ : অধিকাংশ ক্ষেত্রে মেনিনজাইটিসের কারণ হল বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ফাঙ্গাশ, প্রোটোজোয়া প্রভৃতি। বিভিন্ন ধরনের ওষুধের প্রতিক্রিয়ায় বা ক্যান্সারের কারণেও মেনিনজাইটিস হতে পারে।

ব্যাকটেরিয়াল মেনিনজাইটিস : বয়সভেদে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাকটেরিয়া ব্যাকটেরিয়াল মেনিনজাইটিসের জন্য দায়ী। সদ্যজাত থেকে শুরু করে ৩ মাস বয়সী শিশুর ক্ষেত্রে প্রধানত গ্র“প-বি স্ট্রেপটেকক্কাই ও লিস্টেরিয়া মনোসাইটোজিনেসিস দ্বারা মেনিনজাইটিস হয়ে থাকে।

ভাইরাল মেনিনজাইটিস : ভাইরাসজনিত মেনিনজাইটিস ব্যাকটেরিয়াজনিত মেনিনজাইটিসের চেয়ে কম ক্ষতিকারক। ভাইরাল মেনিনজাইটিসের জীবাণু এন্টেরোভাইরাসের বাইরেও কিছু ভাইরাস এ রোগ সৃষ্টি করে যা মশার মাধ্যমে একজনের থেকে অন্যজনের কাছে ছড়াতে পারে।

ফাঙ্গাল মেনিনজাইটিস : ফাংগাল মেনিনজাইটিসের জীবাণু ক্রিপটোকক্কাস নিউফরমান্স। রোগ প্রতিরোধকারী ক্ষমতা হ্রাসের ওষুধ সেবনকারী, এইডস/এইচআইভি আক্রান্ত রোগী ও বয়স্ক মানুষ ফাংগাল মেনিনজাইটিসের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। ফাংগাল মেনিনজাইটিসের প্রকোপ আফ্রিকা মহাদেশে বেশি ।

প্যারাসাইটিক মেনিনজাইটিস : মেরুদণ্ডের হাড় থেকে সংগৃহীত রসে বা সেরেব্রো স্পাইনাল ফ্লুইডে ইসোনোফিল পাওয়া যায়।

জীবাণুবিহীন মেনিনজাইটিস : জীবাণুর বাইরেও কিছু কারণে মেনিনজাইটিস হতে পারে। এর মধ্যে ক্যান্সারের কিছু বিশেষ ওষুধ সেবন (ব্যথা ও প্রদাহবিরোধী ওষুধ, ইমিউনোগ্লোবিন, জীবাণুবিরোধী ওষুধ), সারকোডিয়াসিস, কানেকটিভ টিস্যু ডিজঅর্ডার, সিস্টেমিক লুপাস ইরাথে মেটাসাস উল্লেখযোগ্য। কোনো কোনো ক্ষেত্রে মাইগ্রেন থেকেও মেনিনজাইটিস হতে পারে যদিও এ হার অনেক কম।

কীভাবে হয় : তিন স্তর বিশিষ্ট মেনিনজেস এবং সেরেব্রোস্পাইনাল ফ্লুইড মস্তিষ্ক ও স্পাইনালকর্ডকে আবরণ প্রদান করে প্রতিরক্ষা দেয়। ব্যাকটেরিয়াল মেনিনজাইটিসের ক্ষেত্রে রক্ত প্রবাহ বা নাসারন্ধ্রের মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়া মেনিনজেসের সংস্পর্শে আসে এবং পরে প্রদাহ সৃষ্টি করে। নবজাতকের রক্ত গ্র“প-বি স্ট্রেপটোকক্কিতে আক্রান্ত হলে শতকরা ২৫ ভাগ ক্ষেত্রে মেনিনজাইটিস হওয়ার আশংকা থাকে। রক্ত প্রবাহে ব্যাকটেরিয়া প্রবশ করলে তা সাবএরাকনয়িড স্পেসে চলে যায় এবং এই স্পেসটি হল ব্লাড ব্রেইন বেরিয়ারের সবচেয়ে সংবেদনশীল এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্পেস।

মেনিনজাইটিসে যে মারাত্মক প্রদাহ হয় তার কারণ ব্যাকটেরিয়ার সরাসরি আক্রমণ নয় বরং ব্যাকটেরিয়া কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে অনুপ্রবেশের ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধকারী সিস্টেমের প্রতিরোধের চেষ্টা হয়। 
মস্তিষ্কে ব্যাকটেরিয়ার কোষের উপস্থিতি নিশ্চিত হলে শরীরের রোগ প্রতিরোধকারী সিস্টেম বেশি পরিমাণ সাইটোকাইন ও হরমোন জাতীয় পদার্থ নিঃসরণ করে- এতে ব্লাড ব্রেইন বেরিয়ার দুর্ভেদ্য থেকে ভেদ্য হয়ে উঠে এবং রক্তনালি থেকে তরল নির্গত হয়ে মস্তিষ্ক ফুলে ওঠে। এ অবস্থায় শ্বেত রক্ত কণিকা সেরেব্রো স্পাইনাল ফ্লুইডে প্রবেশ করে এবং প্রদাহ আরও তীব্রতর হয়ে ওঠে। একবারে শেষ পর্যায়ে মস্তিষ্কের কোষ অক্সিজেন প্রাপ্তি হতে বঞ্চিত হয় এবং তখন রোগী মৃত্যুবরণ করে।

কীভাবে ছড়ায় : সংস্পর্শে মেনিনজাইটিস দ্রুত ছড়াবে না, ভাইরাল ও ব্যাকটেরিয়াল মেনিনজাইটিস নাক ও গলার নিঃসরণের সরাসরি সংস্পর্শে একজনের কাছ থেকে অন্যজনের কাছে ছড়াতে পারে। মেনিনজাইটিস রোগের কোনো উপসর্গ ছাড়াই এ রোগের জীবাণু কেউ বহন করতে পারে এবং তার ব্যবহৃত গ্লাস, থালা-বাসন বা সিগারেট ভাগাভাগির মাধ্যমে অন্যজন সংক্রমিত করতে পারে। ভাইরাল মেনিনজাইটিস মলের মাধ্যমে একজন থেকে অন্যজনে ছড়াতে পারে।

টিকা : হেমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা টাইপ-বি-এর টিকা অন্তর্ভুক্ত করেছে। কারণ এ জীবাণু ইনফ্লুয়েঞ্জার পাশাপাশি মেনিনজাইটিস সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে। মাম্পস ভ্যাকসিন মেনিনজাইটিস প্রতিরোধ করে। মেনিনগোকক্কাস ভ্যাকসিন গ্রুপ-এ, সি, ডাব্লিও-১৩৫ এবং ওয়াই মেনিনজাইটিসের বিরুদ্ধে কার্যকরী প্রতিরোধ গড়ে তোলে যা সর্বোচ্চ প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করে।

সূত্র - দৈনিক যুগান্তর

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: দ্রুত পেটের মেদ হ্রাস করার খাবার
Previous Health Tips: ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায় প্রতিদিন টক দই

More in Health Tip

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... See details

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... See details

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... See details

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... See details

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... See details

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... See details

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')