কালিজিরা সব অসুখের মহৌষধ
০৯ ফেব্রুয়ারী, ১৪
Viewed#: 608
‘নাইজেলা সাটিভা’ বা ‘ব্ল্যাক সিড’ বা কালিজিরা এক ধরনের ভেষজ উদ্ভিদ। সামান্য গন্ধযুক্ত এ বীজ গুঁড়া করা হলে বা চিবিয়ে ভেঙে ফেললে ঝাঁজালো এবং তিতা স্বাদযুক্ত অনুভূত হয়। জানা যায়, প্রায় দুই হাজার বছর আগে থেকে কালো রঙের এ বীজটির ব্যবহার ছিল। এশিয়া এবং আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে সনাতন চিকিৎসা ব্যবস্থায় কালিজিরার ব্যবহার ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্বখ্যাত আরব চিকিৎসাবিদ ইবনে সিনহা তার ওষুধের ইতিহাস-সংক্রান্ত বই দি ক্যানন অব মেডিসিনে কালিজিরা সম্পর্কে বলেছেন, এটি এমন ধরনের একটি বীজ যা শরীরকে দুর্বলতা থেকে মুক্ত করে উজ্জীবিত করে তোলে এবং মনোবল ফিরিয়ে আনে।
কালিজিরার তেলে আছে শরীরের জন্য উপকারী বিভিন্ন ধরনের প্রায় ১০০টি উপাদান। এ তেলের প্রধান উপাদান থাইমোকুইনান ছাড়াও আছে পিসাইমন (৪০%), এ পিনিন (প্রায় ১৫%), ডিথাইমোকুইনাইন, থাইমোহাইড্রোকুইনাইন এবং স্বল্প মাত্রার অন্যান্য উপকারী উপাদান। এতে বিদ্যমান ফ্যাটি এসিডের (১০%) মধ্যে লাইনোলেইক এসিডই প্রায় ৫০-৬০%। এতে ক্ষতিকারক সম্পৃক্ত চর্বির পরিমাণ কম।
এক সমীক্ষায় দেখা গেছে ভেষজ উদ্ভিদের মধ্যে কালিজিরা নিয়েই গবেষণা বেশি হয়েছে। এর মধ্যে বিদ্যমান বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, বি-ভিটামিন, ১৫ ধরনের অ্যামাইনো এসিড, ওমেগা-৩ ও ওমেগা-৬ অসম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিডের উপাদানই শরীরের রোগ প্রতিরোধ পদ্ধতিকে শক্তিশালী করে তুলতে সাহায্য করে। এর মধ্যে বিদ্যমান ‘নাইলেজন’ নামক উপাদান প্রদাহজনিত সমস্যা নিরসনে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে বলে ধারণা করা হয়। ঠাণ্ডাজনিত কাশি, শ্বাসনালির প্রতিবন্ধকতা থেকে সৃষ্ট হাঁপানি এবং ব্রংকাইটিসে আক্রান্ত রোগীদের কষ্ট লাঘবে এ উপাদানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সেই সঙ্গে থাইমোকুইনানের উপস্থিতি এলার্জি, দীর্ঘমেয়াদি ত্বকের সমস্যা, সোরিয়াসিস, একজিমাসহ সংক্রমণজনিত রোগের প্রকোপ কমাতে এবং সুস্থ কোষগুলোর স্বাভাবিকতা অক্ষুণ্ন রেখে ক্যান্সার প্রতিরোধে ভূমিকা পালন করে থাকে।
কালিজিরার তেল অগ্নাশয়ের মধ্যস্থ বিটা-সেলগুলোকে উদ্দীপ্ত করে ইনসুলিনের নিঃসরণ বাড়িয়ে তুলে ডায়াবেটিস-২ এর প্রকোপ কমিয়ে আনতে সাহায্য করে, এর মধ্যস্থ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বিভিন্ন খনিজ জৈবগুলো ডায়াবেটিস-২ সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ন্ত্রণে আনতে সাহায্য করে।
কালিজিরা হজম সমস্যা সমাধানে, পেট ফাঁপা রোধ করতে, কৃমিনাশক এবং মূত্র বৃদ্ধিকারক হিসেবেও ব্যবহার করা হয়। এ বীজ উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে, মাংসপেশির শিথিলতা আনয়নে, বুকে দুধের পরিমাণ বৃদ্ধি এবং স্ত্রী-রোগজনিত সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় এ উপাদানটি যুক্ত করা অথবা ওষুধ হিসেবে কালিজিরার তেল গ্রহণ করা যেতে পারে।
সূত্র - দৈনিক যুগান্তর