মাছ খেতে অনেকের উৎসাহ থাকে না। মাছ খেলেও ছোট মাছ খেতে শিশুদের অনেক অনীহা। শিশুদের গুঁড়া মাছ খাওয়া দরকার। গুঁড়া মাছ স্বাস্থ্যের জন্য যেমন উপকারী, তেমনি আর্থিকভাবেও তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী।
কেন খাবেন
* বয়স ৪০-এর ওপরে আমাদের শরীরে ফ্যাট এবং কলস্টেরল জমা হতে শুরু করে। গুঁড়া মাছে এ চর্বি কম থাকে। তাই বয়স্করা গুঁড়া মাছ খাবেন।
* গুঁড়া মাছে আছে প্রচুর আমিষ, ভিটামিন, খনিজদ্রব্য, আয়রন, ভিটামিন-সি, নিয়াসিন, ভিটামিন-ডি, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও ভিটামিন-এ।
* শিশুদের রাতকানা রোগ ঠেকাতে ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ মলা, ঢেলা ও গুঁড়া মাছ খাওয়ান। দৃষ্টিশক্তির জন্য গুঁড়া মাছ দরকার।
* উঠতি বয়সী শিশুদের প্রোটিন, আয়রন, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, এসকরবিক এসিড, ভিটামিন বি-৩, ভিটামিন ডি এর জন্য গুঁড়া মাছ উপকারী।
গুঁড়া মাছে প্রচুর প্রোটিন আছে
* যাদের উচ্চ রক্তচাপ আছে ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ গুঁড়া মাছ তাদের ব্ল্যাডপ্রেসার কমাতে সাহায্য করবে।
* ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খনিজ লবণ সমৃদ্ধ গুঁড়া মাছ উপকারী।
হৃদরোগী, স্ট্রোকের রোগীর ও গর্ভবতী মা ও দুগ্ধদানকারী মায়ের জন্য গুঁড়া মাছ উপকারী।
গুড়ামাছ দুই ধরনের
* খুব গুঁড়া মাছ কাঁচকি , মলা, ঢেলা, দাড়কিলা, আউন্যা, চান্দা, বজুরি, ছোট ইচা (চিংড়ির বাচ্চা)।
* একটু বড় প্রকৃতির পুঁটি, টেংরা, গনিয়া, কাটা মেনী, চাপিলা, টাকি, চেলা, বাইন, বেতরাঙ্গি, পাবদা, শিং, মাগুর, কৈ, খইল্যা, থইয়া।
তবে বাংলাদেশের এলাকাভিত্তিক নানা স্থানে নানা নামে গুঁড়া মাছ পাওয়া যায়।
গুঁড়া মাছের তরকারি
গুঁড়া মাছ বাঙালির বেশ উপাদেয় খাদ্য:
* এ শীতের সকালে আগের রাতে রান্না করা আউন্যা, বজুরি মাছের সরপড়া তরকারি মজাদার খাদ্য।
* টমেটো ও জলপাই দিয়ে বা টক শাক (চুয়াই পাতা), মেট্রস দিয়ে গুঁড়া মাছের টক ঝোল দুপুরের গরম ভাতে সুস্বাদু।
* টাকি মাছের ভর্তা আজে আমাদের ভর্তার রাজা।
* মলা, ঢেলা, কাঁচকি মাছ ধনিয়াপাতা, পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ দিয়ে রান্না মুখরোচক খাবার।
* পুঁটি মাছ ভাজা গরমভাতে ধনিয়াপাতা ও কাঁচামরিচ দিয়ে অতুলনীয়।
* মাগুর মাছ বা শিং মাছের আনাজি কলার তরকারি আর ঝোল জিব্বায় জল আসার মতো।
* চান্দা মাছের বাটা দিয়ে বড়া ভাজা মজাদার।
* হইল্যা মাছের বাটা দিয়ে কোপ্তা হলে আর যেন ভাত খেতে কিছুই লাগে না।
* চাপিলা বা পাবদা মাছের দো-পেঁয়াজা মজাদার।
সূত্র - দৈনিক যুগান্তর


Comments