home top banner

স্বাস্থ্য টিপ

সচেতন থাকুন ঋতু পরিবর্তন জনিত সমস্যায়
০৯ অক্টোবর, ১৩
Tagged In:  Health Care  
  Viewed#:   260

সময়টা এখন ঋতু পরিবর্তনের। মানে শীত আসছে আসছে ভাব এমন একটা অবস্থাবিরাজ করছে এখন। এ সময়টাতে কখনো গরম লাগে, আবার কখনো শীত লাগে। সবচেয়েঅস্বস্তিকর যন্ত্রণায় পড়তে হয় এ সময়ের চাপা বা ভ্যাপসা গরমের কারণে।এসময় আমরা যেসব শারীরিক সমস্যায় ভুগি সেসব বিষয়ে আগে থেকেই একটু সচেতনহলে অনেকটাই নিরাপদ থাকতে পারি। আসুন এসব বিষয়গুলো আমরা জেনে নিই।

ঠাণ্ডার সমস্যা 
দেশজুড়ে আমরা এখন কমবেশি অনেকেইঠাণ্ডাজ্বর, কাশিতেভুগি। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে সমস্যাটা একটু বেশি।তারা কাশিতে ভোগে বেশি। কাশি হওয়া মানেই যে গুরুতর অসুস্থ, তা নয়। আবারসচেতন থাকাও জরুরি। সুস্থ-স্বাভাবিক শিশু ঠাণ্ডায় আক্রান্ত হলে কাশি হতেপারে। দিনে এক থেকে ৩০ বার পর্যন্ত শিশু কাশতে পারে। চলতে পারে সপ্তাহদুয়েক। তবে রাতে ঘুমের মাঝে কাশি হলে ধরতে হবে অস্বাভাবিক কাশি। তখনচিকিৎসকের পরামর্শ দরকার।

ভাইরাল কাশি, জ্বর
হঠাৎ এক-দুই সপ্তাহের কাশিকে বলিএকিউট কাশি; মূলত ভাইরাল। এগুলো সাধারণ প্রি-স্কুল শিশুদের বেশি হয়।বাতাসে ঠাণ্ডা হাওয়ায় ভাইরাস ঢুকে পড়ে চট করে। গরম পানিতে মধু আর তুলসিপাতা মিশিয়ে খাওয়ালে ভালো ফল পাওয়া যায়। ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠলে যেনঠাণ্ডা না লাগে। হালকা গরম কাপড় গায়ে পরাতে হবে।

দীর্ঘস্থায়ী কাশি
হাঁপানি বা অ্যাজমায় আক্রান্তহলে বিশেষ ধরনের শব্দযুক্ত কাশি হতে পারে। এটা থাকবে কয়েক সপ্তাহ।অন্ততমাস খানেক ভোগাবে। খেলাধুলা, ধূলাবালি ও ঠাণ্ডা বাতাস হাঁপানিজনিতকাশিকে উসকে দেয়। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শমতো ইনহেলার ও মুখে খাওয়ারওষুধ দিতে হবে।

নাক ও সাইনাসের সমস্যা
নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া ওসাইনাসের সমস্যা এই সময়ে খুবই ঘন ঘন হয়। অ্যালার্জিক রাইনাইটিস হলেসারাক্ষণ নাক দিয়ে পানি-সর্দি ঝরবে; সঙ্গে কাশিও। এর জন্য বয়সভেদেসাইনাসের এক্স-রে দরকার হতে পারে। নাকে গরম পানিতে বাষ্প টানলে, একটুম্যানথোল মিশিয়ে নিলে ভালো ফল পাওয়া যায়।

পাকস্থলি ও খাদ্যনালির অসুখ
খাবার খাচ্ছি। যাচ্ছেকোথায়? খাদ্যনালি দিয়ে পাকস্থলিতে। ঠিকঠাক নাথাকলে, যে হারে খাদ্যেভেজাল,পাকস্থলি সইবে কী করে। বুকজ্বালা, এসিডিটি, সংক্রমণ—সবই ভোগায়।শিশুদের এ ধরনের সমস্যা থেকে হতে পারে গ্যাস্ট্রো-ইসেফেজিয়াল রিফ্লাক্স।গলার স্বর বসে যায়, কর্কশ হয়ে যায়। উসকে দেয় দীর্ঘমেয়াদি কাশি। ঢেঁকুরতোলা বা খাবার গিলতে অসুবিধার কারণে শিশুদের কাশির উদ্রেক হতে পারে খুব।

ভাইরাস থেকে জ্বর, সর্দি, কাশি -একসঙ্গে
ভাইরালসংক্রমণ হলে শ্বাসতন্ত্রে প্রদাহ হয়। অ্যালার্জি থেকেও হয়। ঋতুপরিবর্তনের কারণে এমনিতেই বতাসে ধূলিকণা বেড়ে যায়, বাড়ে ভাইরাসও।শিশু-কিশোর ও সদ্য তরুণদের মধ্যে প্রবণতা বেশি। কারণ, স্বাভাবিকভাবেইস্বভাবে বেপরোয়া এরা। জ্বর হলে পর্যাপ্ত পানি, সঙ্গে শুধু প্যারাসিটামল।সর্দির জন্য ঠান্ডা পানি, ঠাণ্ডা বাতাস ও ধুলা পরিহার করা জরুরি। কাশির ধরনবুঝে কফ-সিরাপ, গরম পানিতে মধু বা লেবু আর সম্ভব হলে তুলসি পাতার রস।

জ্বর যদি ১০২ ডিগ্রির বেশি হয়, তাহলে পানিতে কাপড় ভিজিয়ে গামুছেদেওয়া। শ্বাস-প্রশ্বাস ঘন ঘন হলে, বুক দেবে গেলে নিউমোনিয়া হতে পারে, সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। অ্যান্টিবায়োটিক অবশ্যইচিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী। নিজে নিজেই ফার্মেসি থেকে অ্যান্টিবায়োটিককিনে খাওয়া খুবই ঝুঁকিপূর্ণ; বড়দের জন্য, শিশুদের জন্যও। হিতে বিপরীত হতেপারে। কজেই ঋতু পরিবর্তনকে মাথায় রেখে রোগ প্রতিরোধে সচেতন হওয়াটাইজরুরি।

চোখ ওঠা
এ সময়টাতে চোখ লালহয়ে যাওয়ারোগ—কনজাংকটিভাইটিস হতে পারে। দুই চোখ লালদেখাবে, পানি ঝরবে। পরিষ্কারকাপড় অথবা একবার ব্যবহার্য টিস্যু পেপারদিয়ে চোখ পরিষ্কার করবেন। দুইচোখে ক্লোরামফেনিকল ড্রপ দুই ফোঁটা করেদেবে; পাঁচ-ছয়বার দিলেই সেরে যাবে।

হতে পারে জলবসন্তও
এই সময়ে আরেকটি অস্বস্তিকর রোগহতে পারে। এটিও ভাইরাস। জলবসন্ত। প্রথমেএকটু জ্বর-সর্দি। তারপর ধীরে ধীরেগায়ে ছোট ছোট দানা। অস্বস্তিকর। চুলকানি; ঢোক গিলতে অসুবিধা। টিকা আছে।জীবনে একবার হয়ে থাকলে আর হওয়ার আশঙ্কা নেই। গায়ে ব্যথা থাকতে পারে।শিশু-কিশোরদের হলে স্কুলে যাওয়া বন্ধকরতে হবে। জ্বর হওয়ার সময়ই রোগটিছড়ায়। জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল আরসংক্রমণ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েঅ্যান্টিবায়োটিক খাবেন।

কী করবেন
বই ঘাঁটতে গিয়ে নাক ঢেকে ধুলা পরিহারকরুন। বাইরে বেরোবেন, খেয়াল রাখুন আবহাওয়ার। সে অনুযায়ী গরম কাপড়নিন।ঠান্ডা শীতেও লাগে, গরমেও লাগে।অতিরিক্ত কাপড়ে ঘেমে ঠান্ডা লেগে যেতেপারে বাচ্চাদের।

ঢাকার বাইরে ঠাণ্ডাবেশি, বেশি বাতাসও। ঠাণ্ডা বাতাস এড়িয়ে চলুন। পানিপান করুন, অন্য সময়ের চেয়ে একটু বেশি। বাচ্চারা তো খেলবেই, খেলাধুলারসময় যাতে ধূলি-বাতাস আরধোঁয়া, সিগারেটেরও হতে পারে, যাতে আক্রান্ত না করেখেয়াল রাখুন।

জ্বর যদি তিন দিনের বেশি থাকে, কাশি যদি দুই সপ্তাহের বেশিহয়, সর্দিযদিনা-ই সারে, তবে নিজে নিজেই কোনো অ্যান্টিবায়োটিক শুরু না করে অবশ্যইবিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। তরল-গরম-টাটকা খাবার সব সময়ই ভালো।

এ সময়ে একটু বেশি ভালো ছোটদের জন্য গরম জলে মধু আর বড়রা গরম লেবু-চা।খুব তাজা রাখবে। শ্বাস নিন বুকভরে, যতটা বিশুদ্ধ অক্সিজেন পাওয়া যায়ততটাই সুস্থতা। ঋতু পরিবর্তন, জলবায়ু পরিবর্তন—এসব নিয়েই তো থাকতে হবে।থাকুন সুস্থ, ভালোভাবে বাঁচুন, হাসিখুশি শিশুদের নিয়ে।


সূত্র - poriborton.com

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: একজিমার যত কারণ
Previous Health Tips: স্কুলে কেমন টিফিন চাই

আরও স্বাস্থ্য টিপ

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... আরও দেখুন

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... আরও দেখুন

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... আরও দেখুন

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... আরও দেখুন

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... আরও দেখুন

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')