দেহের গুরুত্বপূর্ণ এবং বৃহৎ অভ্যন্তরীণ অঙ্গ লিভার। বাংলায় যাকে যকৃৎ বা কলিজা নামে জানে। একজন পূর্ণাঙ্গ বয়স্ক মানুষের শরীরে লিভারের ওজন হয়ে থাকে ১.৪ থেকে ১.৮ কেজি পর্যন্ত। এটি শরীরের পেটের ডান পাশের উপরিভাগে অবস্থান করে। দেহের প্রয়োজনীয় অনেক উপাদান, বিশুদ্ধকরণ এবং সংরক্ষণ হয়ে থাকে লিভারে। যদি কোনো কারণে লিভার রোগাক্রান্ত হয়, তবে রোগীর সাধারণ কার্যক্ষমতা মারাত্দকভাবে ব্যাহত হয়। আমরা আমাদের মুখ দিয়ে যেসব খাবার পথ্য, ওষুধ যা কিছু গ্রহণ করি, সেগুলো প্রায় পুরো অংশই খাদ্যনালি থেকে আহরিত হয়ে লিভারে যায়। সেখানে শক্তি উৎপাদন, পিত্ত রস তৈরি, রক্তক্ষরণ বন্ধকরণের জন্য উপাদান তৈরি হয়। এ ছাড়াও সুগার, আয়রন, ভিটামিন, ফ্যাট ইত্যাদি লিভারে জমা থাকে।
ফ্যাটি লিভার রোগ কি :
ফ্যাটি লিভার রোগ সম্বন্ধে আজকাল অনেক কিছুই শোনা যায়। কোনো প্রয়োজনে চিকিৎসক আপনার পেটের উপরিভাগের আল্টাসনোগ্রাফি পরীক্ষা করলে অনেক ক্ষেত্রেই ফ্যাটি লিভার ধরা পড়ে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগী, মেদবহুল ব্যক্তি, রক্তে চর্বি যাদের বেশি এবং মদ্যপানে আসক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে এর প্রবণতা বেশ। বিশেষভাবে পরিলক্ষিত হয়, শুধু মোটা ব্যক্তি নয় অপুষ্টিজনিত রোগাক্রন্তরা ও ফ্ল্যাটি লিভারে ভুক্তে পারে। এ ছাড়া কোনো কোনো ওষুধ, দ্রুত শরীরের ওজন কমানো, পেটের বিশেষ কোনো অপারেশনের পর ফ্যাটি লিভার হতে পারে। প্রাথমিক অবস্থায় লক্ষণ প্রকাশ পায় না। রক্তে লিভার এনজাইম, সিটি স্ক্যান, এমআরআই এবং ইউএসজি পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে। লিভারের বায়োপসির পর সঠিকভাবে নির্ণয় করা যেতে পারে। দুশ্চিন্তা হলো হেপাটাই-টিস বিএন্ডসি'র মতো ফ্যাটি লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যান্সার হতে পারে।
চিকিৎসা :
বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে সঠিক নিয়মে ওষুধ ও খাবার গ্রহণে এটা নিরাময় ও প্রতিরোধ যোগ্য। এই রোগের চিকিৎসা নির্ভর করে সাধারণত প্রাথমিক কারণ দূরীকরণের মাধ্যমে। সঠিক নিয়মের ওজন কমানো। চর্বি জাতীয় খাবার পরিহার করা। অ্যালকোহল পরিহার করা। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ।
সূত্র - বিডিপ্রতিদিন.কম

