আপনার ওজন যদি বেশি হয় এবং আপনার যদি টাইপ ২ ডায়াবেটিস থাকে তাহলে আপনার ওজন কমানোর প্রতি আরও মনোযোগী হওয়া উচিৎ কারন ওজন হ্রাস পেলে রক্তের সুগার লেবেলও কমে আসে। যার ফলে ডায়াবেটিসও নিয়ন্ত্রনে থাকে। কিন্তু ডায়াবেটিস থাকলে কোন প্ল্যান বা এক্সপার্টের পরামর্শ ছাড়া কোন ডায়েট শুরু করা উচিৎ নয়। কারন ডায়াবেটিস থাকা অবস্থায় ডায়েট করলে রক্তের সুগার, ইন্সুলিন এবং মেডিকেশানেও আলাদাভাবে হালনাগাদ করার প্রয়োজন পড়তে পারে।
দিনে একবেলা খাবার গ্রহন করলে ওজন কমলেও এতে রক্তের সুগার, ইন্সুলিন এবং ওষুধের ভারসাম্যের তারতম্য হতে পারে। WebMD এর এক্সপার্টের মতে - ডায়াবেটিস থাকা অবস্থায় ওজন কমালে নিম্নের বিষয়গুলির প্রতি মনোযোগী হতে হবে -
- প্রতিবেলার খাবারে কার্বোহাইড্রেট, ফ্যাট এবং প্রোটিনের নির্দিষ্ট অনুপাত বজায় রাখা উচিৎ। আদর্শ পরিমাপ হল - ৫০ থেকে ৫৫% কার্বোহাইড্রেট, ৩০% ফ্যাট এবং ১৫% প্রোটিন।
- নতুনভাবে মিল প্ল্যান করা উচিৎ। যেহেতু রক্তের সুগারের উপর কার্বোহাইড্রেট সরাসরি কাজ করে তাই এমন কার্বোহাইড্রেট যুক্ত খাবার খাওয়া উচিৎ যা রক্তে আস্তে আস্তে সুগারে পরিনত হয়। যেমন- গ্রেইন ব্রেড এবং সবজি।
- কার্বোহাইড্রেট খাবার থেকে হঠাৎ কমিয়ে দেয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হয়ে পারে। যখন শরীর পর্যাপ্ত কার্বোহাইড্রেট পায় না তখন শরিরে মেটাবোলিজম বজায় রাখতে ফ্যাট সমুহকে বার্ন করে। এই মেটাবোলিজমের পরিবর্তনকে বলা হয় কিটোসিস। কিটোসিসের ফলে ক্ষুধা কম লাগে এবং খাবার গ্রহণও করা হয় কম। কিন্তু শরিরে অনেক দিন ধরে কিটোসিস চললে এটি শরীরের টিস্যুতে অক্সিজেনের প্রাপ্যতা কমিয়ে দেয়, চোখ, কিডনি, হার্ট এবং লিভারের উপর স্ট্রেস দেয়। তাই কম কার্বোহাইড্রেট এবং উচ্চ প্রোটিন যুক্ত ডায়েট ডায়াবেটিস আছে এমন মানুষের জন্য স্বাস্থ্যকর নয়। ডায়াবেটিস আক্রান্ত মানুষের এমন ডায়েট মেনে চলা উচিৎ যা শরীরের মেটাবোলিজম কিটোসিসের দিকে না নেয়।
- ব্যয়াম করা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রন এবং ওজন কমানো দুই ক্ষেত্রেই উপকারে আসে। প্রতিদিন ব্যয়াম করা ওজন কমাতে এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে সহায়তা করে। তবে খেয়াল রাখতে হবে পা যেন আঘাত প্রাপ্ত না হয়। যথাযথ পায়ের যত্ন নিয়ে ব্যয়াম করা উচিৎ।
সুত্র - The Daily Star

