চুল নিয়ে অনেকেই পড়েন বিপাকে। যে যা বলেন তা শুনেই শুরু করে দেন চুলের চর্চা। তবে চুলের ধরণ না বুঝে চর্চা করলে ঘটবে উল্টো ঘটনা। যত্নের আগে বুঝতে হবে চুলের ধরণ, সে অনুযায়ী ব্যবহার করতে হবে প্রসাধনর সামগ্রী, মানতে হবে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ।
চুলের ধরণ : চুলের যত্ন নেয়ার আগে প্রথমেই বুঝতে হবে চুলের ধরণ। সাধারণত যাদের ত্বক তৈলাক্ত, তাদের চুলও তৈলাক্ত হয়। আর যাদের ত্বক শুষ্ক, তাদের চুল শুষ্ক ও রুক্ষ হয়। যাদের চুল তৈলাক্ত, তাদের চুলে প্রচুর খুশকি হয়। আর যাদের চুল শুষ্ক, তাদের চুল খুব দ্রুত রুক্ষ হয়ে পড়ে। অন্যদিকে, চুল মোটা হলেই চুলের রুট বা চুলের গোড়া কিন্তু শক্ত নাও হতে পারে। তাই চুলের যতেœর মুখ্য উদ্দেশ্য হওয়া উচিত মাথার ত্বক ও চুলের গোড়ার যত্ন নেয়া।
চুলের হারবাল যত্ন: চুলে স্যাম্পু করার এক ঘন্টা আগে অলিভ অয়েল চুলের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত লাগিয়ে ১৫-২০ মিনিট ম্যাসাজ কারুন। নারিকেল তেল দিতে চাইলে এর সাথে সামান্য পানি দিয়ে নিবেন। কারণ নারিকেল তেল সরাসরি ব্যবহার করা ঠিক না। নারিকেল তেলে এক ধরণের এসিড থাকে যা চুলের গোড়ার জন্য ক্ষতিকর। তাই নারিকেল তেলের সাথে সামান্য পানি মিশিয়ে নিন। এক ঘন্টা পর ধুয়ে ফেলুন শ্যাম্পু দিয়ে। শ্যাম্পু করার পর কন্ডিশনার ব্যবহার করতে ভুলবেন না যেন। কন্ডিশনার যেন মাথার স্কাল্পে না লাগে সেদিকেও খেয়াল রাখেবেন।
মাথায় খুশকি থাকলে তেলের সঙ্গে মিশিয়ে নিন লেবুর রস। এক ঘণ্টা মাথায় রেখে তারপর শ্যাম্পু করুন।
একটি কাঁচের শিশিতে এক টেবিল-চামচ মধু ও চার টেবিল-চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে পাঁচ-ছয় ঘণ্টা রেখে দিন। ব্যবহারের আগে আরেকবার ঝাঁকিয়ে নিন। পাঁচ-দশ মিনিট ম্যাসাজ করে আঁচড়ে নিন। শাওয়ার ক্যাপ পরে রাখুন ২০ মিনিট। তারপর শ্যাম্পু করুন। দেখুন না, প্রাকৃতিক কন্ডিশনারের কী জাদু!
অনেকের মাথায় কিছু অংশের চুল পাতলা হয়ে মাথার ত্বক দেখা যায়। তাঁরা আমলকী বেটে পেস্ট করে তার রস লাগাবেন প্রতিদিন। দুই সপ্তাহ লাগানোর পর ভালো ফল পাবেন।
আমলকী পেস্ট দুই টেবিল-চামচ, ডিম একটি এবং টক দই আধা কাপ মেখে প্যাক তৈরি করতে পারেন। কন্ডিশনার ও প্রোটিন দুটোরই উপকার পাবেন।
ক্যাস্টার অয়েল নিন চার টেবিল চামচ। মাথার তালুতে আলতো হাতে মেখে রেখে দিন ২০ মিনিট। পাতলা চুল ঘন হবে, চুল পড়াও কমবে।
মেহেদি ব্যবহার করতে চাইলে মেহেদি বেটে এর শুধু রস মাথায় লাগাবেন। নতুবা উল্টো চুল পড়তে পারে।
এছাড়া প্রতি এক/ দুই মাস অন্তর পার্লারে গিয়ে হেয়ার স্পা করে নিতে পারেন।
যাদের কিছু কিছু প্রসাধন সামগ্রী ব্যবহারে উল্টো চুল পরে কিংবা মাথার ত্বক জ্বলাপোড়া করে তাদের এ্যালার্জি আছে। তাই সেগুলোর ব্যবহার এড়িয়ে চলবেন।
যেসব শারীরিক যত্ন নেয়া জরুরি: এছাড়া শারীরিক যত্ন নেয়া জরুরি। শারীরিক যত্ন না নিলে অসুস্থ হয়ে পড়বেন। অসুস্থ হলে ঔষধ খেতে হবে। আর চুল পড়ার অন্যতম কারণ ঔষধ খাওয়া। তাই প্রতিকার থেকে প্রতিরোধ ভালো। খাবারের দিকেও নজর দিতে হবে। খেতে হবে পুষ্টিকর ও সবজি জাতীয় খাবার। পানি খেতে হবে প্রচুর পরিমাণে।
অনেকে রাতের খাবার খান দেরি করে। দেরি করে খাবার খাওয়াও চুল পরার আরেকটি কারণ। ঘুমানোর দুই ঘন্টা আগে রাতের খাবার খাওয়া উচিত। বিশেষজ্ঞরা বলেন, দেরিতে খাবার খেলে কিংবা খাবার খাওয়ার পর সাথে সাথে ঘুমাতে গেলে, হাঁটাচলা না থাকলে তা হজমে ব্যঘাত ঘটায়। ঘুম ভালো হয় না। গ্যাসট্রিক সমস্যা তীব্র হয়। এতে শারীরিক ক্ষতির পাশাপাশি চুলের উপরও ক্ষতিকর প্রভাব পরে, চুল পরে যায়। এছাড়া রাতে না ঘুমালে চুল পড়বে নিশ্চিত। তাই রাতের খাবার যথাসম্ভব ৯টার মধ্যে খাওয়া উচিত। আর ঘুমাতে যাওয়ার পাঁচ মিনিট আগে এক গ্লাস পানি খেতে ভুল করবেন না।
অনেকেই সকালে ঘুম থেকে উঠেই দাত ব্রাশ করেন। এটা ঠিক নয়। রাতে ব্রাশ করে ঘুমাবেন। ফলে দাতে কোন ময়লা জমে থাকবে না। সকালে ঘুম থেকে উঠে ব্রাশ না করে ১ গ্লাস কুসুম গরম পানি পান করুন। এর পর আধা ঘন্টা পর ব্রাশ করবেন। এতে মুখে জমা হওয়া এন্টি-ব্যকটেরিয়া (ভালো ব্যকটেরিয়া) শরীরে ঢুকে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেবে। গ্যাসট্রিক সমস্যা কমবে এবং চুলের জন্যও উপকার পাবেন।
অনেকেই মনে করেন চুল ঘন ঘন আচড়ালে চুল পরে যায়। এটা ভুল ধারণা। অবশ্যই ঘন ঘন চুল আচড়াতে হবে। ঘন ঘন চুল আচড়ালে মাথার ত্বকের রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক থাকে। এতে চুল মজবুত থাকে। এছাড়া চুল দ্রুত বৃদ্ধি পায় ঘন ঘন চুল কাটলে। তাই প্রতি মাসে অন্তত এক ইঞ্চি পরিমাণ চুল কাটা প্রয়োজন। নিজের চিরুণি আলাদা ও পরিস্কার রাখুন।
সূত্র - ঢাকাটাইমস২৪.কম

