home top banner

Health Tip

চুল পড়া যখন সমস্যা
21 April,14
Tagged In:  hair loss  hair care  
  Viewed#:   310

problem-of-hair-fallমাথার চুল পড়ে যাওয়া এক অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতা ও বিড়ম্বনা। দিন দিন মাথার চুল পাতলা হয়ে যাচ্ছে অর্থাৎ ঝরে যাচ্ছে বা টাক পড়ে যাচ্ছে এমন ব্যক্তির সংখ্যা অনেক।

 
চুল ঝরে যাওয়া বা টাক পড়া দুভাবে হয়ে থাকে-

এক. পুরো মাথার চুল পড়ে যাওয়া। এ ক্ষেত্রে মাথার তালু বা চামড়া দেখা যায়।
দুই. মাথার কিছু কিছু অংশে গোল গোল আকারে চুল পড়ে যাওয়া।

যেসব কারণে মাথার চুল ঝরতে পারে-
 
চুলে টান লাগা : প্রচলিত একটি ধারণা আছে, রাতে শোয়ার আগে টান টান করে বেণী বেঁধে ঘুমালে চুল তাড়াতাড়ি লম্বা হয়। এটি ভুল ধারণা। চুল কতটুকু লম্বা হবে তা নির্ভর করে জেনেটিক, হরমোন ও পুষ্টির ওপর। এটি করলে ক্ষতিই হয়ে থাকে। যে চুলগুলো আরও কিছু দিন মাথায় থেকে ঝরে যাওয়ার কথা, তা আগেই ঝরে যায় অতিরিক্ত টান লাগার কারণে।

প্রসব পরবর্তী : সন্তান প্রসবের দুই থেকে পাঁচ মাস পর হঠাৎ চুল পড়ে যেতে থাকে। মাথা প্রায় খালিই হয়ে যায়। ২ থেকে ৬ মাস ধরে এ প্রক্রিয়া চলতে থাকে। আশার বিষয়, এ চুল আবার গজিয়ে থাকে। চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে থাকুন।

নবজাত অবস্থায় : নবজাতকের মাথার চুল জন্মের পর থেকে ৪ মাসের ভেতর অনেকটা ঝরে যায়। এতে মা-বাবা ভয় পেয়ে যান। ৬ মাস বয়সের সময় আবার নতুন চুল গজায়। কখনও কখনও পুষ্টিহীনতার কারণে চুল গজাতে দেরি হতে পারে।

জ্বরের পর : কঠিন কোনো জ্বর যেমন নিউমোনিয়া, টাইফয়েড হওয়ার ২ থেকে ৪ মাস পর হঠাৎ চুল ঝরতে শুরু করে এবং প্রায় পাতলা হয়ে যায়। কিছু দিন পর এ চুল আবার গজিয়ে থাকে।

মানসিক কারণে : মানসিক রোগ বা দুশ্চিন্তা যদি বেশি থাকে তবে চুল পড়ে যায়।
 
ওষুধ : কিছু কিছু ওষুধ যেমন ক্যান্সারের ওষুধের কারণে, যে চুলগুলো গজাচ্ছে, সেগুলোও ঝরে যায়।

অনাহার : ওজন বা মেদ কমানোর জন্য অনেকে হঠাৎ খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দেয়। এটি চুল পড়ার কারণ হতে পারে, যেমনটি হয় অপুষ্টিজনিত কারণে।

অ্যানড্রোজেন হরমোন : পুরুষ হরমোনের প্রভাবে ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সে পুরুষের কপালের দুই দিকে এবং মাথার মধ্য অংশে টাক পড়ে। একে বংশগত টাকও বলা হয়।
এ জাতীয় বংশগত টাক ঠেকাতে এবং টাক পড়া স্থানে কিছু চুল গজাতে সক্ষম এমন ওষুধ এখন বাজারে পাওয়া যায়। এর বৈজ্ঞানিক নাম ফিনাস্টেরয়েড। মাথার চুলের আনুমানিক সংখ্যা প্রায় ১ লাখ, এর মধ্যে ৭০ থেকে ১০০টি চুল প্রতিদিন ঝরে যায়। যখন ১০০টির বেশি চুল পড়ে তখনই মাথার তালু খালি হয়ে যেতে থাকে।

মাথার চুল পাতলা হয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে খুশকি। মাথা চুলকালে গুঁড়ো গুঁড়ো খোসা দেখা যাওয়াকে খুশকি বলে। তবে কখনও কখনও খোসা দেখা যায় না, মাথায় শুধু তেলতেলে ভাব থাকে। খুশকি বা তেলতেলেভাব বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হরমোন (এনড্রোজেন)-এর প্রভাবে হয়ে থাকে। খুশকিকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব, খুশকি হবে না এটাও সম্ভব নয়। অ্যান্টিড্যানড্রাফ শ্যাম্পু ব্যবহারে খোসা খোসা ভাব খুশকি খুব দ্রুত নির্মূল হয়ে যায়। অ্যান্টিডেনড্রাফ শ্যাম্পু প্রতিদিন ব্যবহার করা যায় না, তাতে চুলের ক্ষতি হয়। প্রতিদিন এমন কিছু দিয়ে মাথা ধুতে হবে যাতে চুলের ক্ষতি না হয়। এ সিস্টেমে খুশকি হয়তো ভালো হবে না তবে খুশকি ও তেলতেলে ভাব নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং চুলও কম ঝরবে।

মাথার গোল টাক : এ ক্ষেত্রে রোগী কোনো একদিন ঘুম থেকে উঠে দেখে যে মাথার কিছু কিছু অংশে গোলাকার টাক পড়েছে। আক্রান্ত স্থানের ত্বক মসৃণ, কোনো চুলকানি বা লাল ভাব নেই, কোনো খোসাও নেই। প্রচলিত ধারণা হচ্ছে তেলাপোকা চুল খেয়ে ফেলেছে। এটি ভুল ধারণা। এ অবস্থা বেড়ে গিয়ে সম্পূর্ণ মাথায় এমনকি শরীরের লোমও ঝরে যেতে পারে। প্রাথমিক অবস্থায় আক্রান্ত স্থানে স্টেরয়েড ইনজেকশন দিয়ে আকারে বেড়ে যাওয়াটাকে রোধ করা যায় এবং নতুন চুল গজাতে থাকে। প্রতি মাসে একবার এ ইনজেকশন দিতে হয়।

সূত্র - দৈনিক যুগান্তর

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: গরমে পানিশূন্যতা দূর করবে যে খাবারগুলো
Previous Health Tips: গরমে ঘামহীন ঘুমের উপায়!

More in Health Tip

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... See details

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... See details

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... See details

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... See details

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... See details

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... See details

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')