বেল্স পলসি বলতে মুখের মাংসপেশির দুর্বলতা বোঝায় এবং সেটা ফেসিয়াল নার্ভের দুর্বলতার কারণেই হয়। যে পাশে নার্ভ দুর্বর্ল হবে, মুখের সেই পাশের মাংসপেশি কাজ করতে পারে না। অনেক কারণে মুখের মাংসপেশি কাজ করে না, যেমন_ ব্রেনের কোনো টিউমার, স্ট্রোক অথবা লাইম ডিজিজ। তবে যদি কোনো নির্দিষ্ট কারণ পাওয়া না যায় সেটাকেই বেল্স পলসি বলে। স্ট্রোকের সঙ্গে এর ভিন্নতা হলো, স্ট্রোকে মুখ বেঁকে গেলে সেগুলোর সঙ্গে সাধারণত কথা বলার অথবা হাত-পায়ের সমস্যা থাকে। তাই হঠাৎ মুখ বেঁকে গেলে দেখতে হবে মুখের এক পাশের পুরোটা নাকি নিচের অংশ বেঁকে গেছে। স্ট্রোকে সাধারণত মুখের নিচের অংশ বেঁকে যায়।
স্কটিশ অ্যানাটমিস্ট, চার্লস বেল প্রথমে এটি আবিষ্কার করেন। হঠাৎ মুখের মাংসপেশি অবশ হয়ে যাওয়ার এটি সবচেয়ে সাধারণ কারণ। বেল্স পলসি রোগীদের অবশ্যই হার্পিস জোস্টার দিয়ে ফেসিয়াল নার্ভ আক্রান্ত হয়েছে কি-না দেখে নিতে হবে। এ রোগে সাধারণত কানের বাইরের দিকে ছোট ছোট ফোসকা পড়ে এবং যে পাশে আক্রান্ত হবে সে পাশের কানে শুনতে সমস্যা থাকে।
বেল্স পলসি সাধারণত কিছুদিন পর আপনাআপনি ঠিক হয়ে যায়। সে জন্য ভয়ের কোনো কারণ নেই। তবে এটি দুই পাশের ফেসিয়াল নার্ভকেই আক্রামণ করতে পারে (<১%)। সাধারণত কোনো কারণে ফেসিয়াল নার্ভ সংক্রমিত হলে এরকম হয়ে থাকে। ফেসিয়াল নার্ভ একটা ছোট্ট ছিদ্র দিয়ে মাথা থেকে কানের নিচ দিয়ে বের হয়ে মুখের দিয়ে বের হয়ে মুখের পেশিকে নিয়ন্ত্রণ করে। কোনো কারণে নার্ভ ফুলে গেলে, কোনো টিউমার বা অন্যকিছু দিয়ে চাপ পড়লে ফেসিয়াল নার্ভ কাজ করতে পারে না।
স্টেরয়েড ব্যবহারে তাড়াতাড়ি নার্ভ আগের অবস্থায় ফিরে আসে। তবে সেটা অবশ্যই দু-এক দিনের মধ্যেই হতে হবে। অ্যান্টি ভাইরাস চিকিৎসার উপকারিতা এখনও প্রমাণিত হয়নি।
অধিকাংশে ক্ষেত্রে নিজে নিজেই ফেসিয়াল নার্ভ ঠিক হয়ে যায়। তবে যদি চোখের মাংসপেশি আক্রান্ত হয় তাহলে চোখ বন্ধ করা যায় না। তাই চোখ সব সময় বন্ধ করে রাখতে হবে। নচেৎ চোখের কর্নিয়া নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
কারও মুখের মাংসপেশি যদি হঠাৎ দুর্বল হয়ে যায় তবে অবশ্যই একজন স্নায়ু রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেবেন_ এটি বেল্স পলসি অথবা অন্য কোনো কারণে হয়েছে কি-না? সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা রোগীর আরোগ্য লাভে সহায়ক হবে।
সূত্র – সময়কাল.কম

