home top banner

স্বাস্থ্য টিপ

চুলপাকা সমস্যা
২৮ সেপ্টেম্বর, ১৩
Tagged In:  hair care  
  Viewed#:   556

অনেক কারণে চুল পাকতে পারে। অনেক চর্মরোগ এর জন্য দায়ী। এ ছাড়া জ্বর, ম্যালেরিয়া, ইনফুয়েঞ্জা প্রভৃতি রোগ শরীরকে চুল পাকানোর দিকে ঠেলে দেয়। এজাতীয় অন্যান্য কারণের মধ্যে রয়েছে: মারাত্মক আঘাত, কয়েক প্রকারের রেডিয়েশনের শিকার হওয়া, হাইপার-থাইরয়েডিজম, ডায়াবেটিস, পুষ্টিহীনতা, ক্ষত, ব্যথা ও রক্তহীনতা।

কিভাবে রাতারাতি চুল পেকে যায় তা বুঝতে হলে চুল বাড়ার স্বাভাবিক পদ্ধতি বুঝতে হবে। এটি তিন অবস্থার চক্রের মাধ্যমে আসে। প্রথমত, এনাজেনকাল বা চুল জন্মানোর সময় মাসে আধা ইঞ্চি হারে চুল বাড়তে থাকে। এভাবে দুই থেকে ছয় বছর বাড়ার পর দ্বিতীয় অবস্থায় পৌঁছে। ক্যাটাজেন বা বিশ্রামকালে এটি কয়েক সপ্তাহের জন্য থামে। তৃতীয় ও শেষ ধাপ হলো টেলোজেন কাল। চুল তখন পেপিলা থেকে আলাদা হয়। পরে এনাজেলকাল শুরু হলে নতুন গজানো চুল পুরনো চুলগুলোকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয়। অতিরিক্ত শ্রম থেকে অ্যালোপেসিয়া নামক গোলযোগের উৎপত্তি হয়, যা কখনো কখনো এনাজেনকালে চুলের গোড়ায় আঘাত হানে। এতে এক সপ্তাহ বা ১০ দিন সময়ের মধ্যে পুরনো কালো চুল উঠিয়ে দিতে পারে। তখন রয়ে যাওয়া সাদা চুলের অনুপাত বেশি হয়। ফলে মাথার চুল পেকে যাচ্ছে বলে মনে হয়।

আসলে, চুল হচ্ছে আঙ্গুলের নখের মতো কেরোটিন দ্বারা তৈরি বস্তু। প্রতিটি চুলের গোড়ায় থাকে বাল্ব বা ডারমিস, যা চর্মের দ্বিতীয় স্তর থেকে পুষ্টি আহরণ করে। এ বাল্বের মধ্যে পেপিলা ও ম্যাট্রিক্স টিস্যুর সূক্ষ্ম স্তম্ভ এক প্রকার মিশ্রণ তৈরি করে, যা থেকে চুল গজায়। চুল যখন গঠিত হতে থাকে তখন সূক্ষ্ম মেলানিনের হাজার হাজার কণা ভেতরে ঢোকে। মেলানোসাইট নামক কোষ দুই রকমের মৌলিক রঙ উৎপাদন ও মিশ্রণ করে। ইউমিলানিন কণা চুলকে গাঢ় কাল থেকে অতি হালকা তামাটে পর্যন্ত রঙে রাঙিয়ে দেয়। অপর কণা ফিওমিলানিন চুলকে হালকা স্বর্ণাভ থেকে গভীর সোনালি, সোনালি তামাটে বা লাল পর্যন্ত রঙে রাঙায়।

২০ বছর বয়স অতিক্রান্ত হওয়ার পর মেলানোসাইটের উৎপাদন কমতে থাকে। তখন যেসব চুল গজায়, তাতে এই উপাদানটির পরিমাণ কমে যাওয়ায় চুল ধূসর বা সাদা হতে থাকে। আবহাওয়া ও জলবায়ুগত কারণ ছাড়াও চুল পাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ নির্ধারণ করে বংশগত বৈশিষ্ট্য। কিছু দিন আগেও ধারণা করা হতো, একবার চুল সাদা বা ধূসর হয়ে গেলে তা আর কখনো কালো হবে না।

কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা থেকে দেখা গেছে, সুপ্ত মেলানোসাইটগুলোকে কার্যকর করে চুলকে আবার অস্বাভাবিক রঙে ফিরিয়ে আনা যেতে পারে। কিছু ননস্টেরয়ডেল ও জ্বালা প্রতিরোধকারী বাহন চুলকে আবার কালো বা রঙিন করতে পারে। চুল ধূসর হয়ে যাওয়ার পর রক্তহীনতায় ভোগা রোগীদের মধ্যে ভিটামিন বি-১২ সেবনে চুলের প্রকৃত রঙ ফিরে আসতে দেখা গেছে। তবে পাকা চুল কোনো আশীর্বাদও নয়, আবার অভিশাপও নয়। এ নিয়ে অধিক চিন্তাযুক্ত না হয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই শ্রেয়


সুত্র - দৈনিক নয়া দিগন্ত

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: গর্ভাবস্থায় খিঁচুনি: সতর্কতা জরুরি
Previous Health Tips: জিংকের ছোঁয়ায় দেহের সৌন্দর্য

আরও স্বাস্থ্য টিপ

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... আরও দেখুন

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... আরও দেখুন

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... আরও দেখুন

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... আরও দেখুন

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... আরও দেখুন

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')