চুল নারীর সৌন্দর্যের অপরিহার্য অংশ। নারীর রূপের বর্ণনা দিতে- কত কবি, সাহিত্যিক রচনা করেছেন তাদের অসংখ্য সৃষ্টি। অসংখ্য গল্প, কবিতা, গানে সবসময় ফুটে উঠেছে প্রেয়সী প্রশংসা। তাই সৌন্দর্যের সুন্দরতম ধারাটিকে একটু দীর্ঘ করতে প্রয়োজন হয়, নিয়মিত যত্ন। এই শীতে হাতের কাছে অবশই দরকার হয় বাড়তি কিছু জিনিসের। তাই খানিকটা জেনে নেই- কি কি উপায়ে স্বাস্থ্যজ্জ্বল, সুন্দর চুল পেতে পারি:
পরিষ্কার ও স্বাস্থ্যজ্জ্বল চুলের জন্য স্কাল্প ম্যাসাজ
চুল পরিষ্কার ও স্বাস্থ্যজ্জ্বল রাখার জন্য স্কাল্প ম্যাসাজ খুবই জরুরী। এতে ফলিকলস্ সক্রিয় থাকে, চুল মজবুত হয়। স্কাল্প ম্যাসাজে টেনশন কমে ও রক্ত সঞ্চালন ভাল হয়। এই হেয়ার ম্যাসাজটি আপনি গোসলের আগে কিংবা অবসর সময়ে করতে পারেন। আপনার যা লাগবে তা হলো তেল এবং চুল ধোয়ার জন্য শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার। সপ্তাহে একবার করে নিয়মিত ম্যাসাজ করুন। এতে আপনার দুশ্চিন্তা দূর হবে, চুল হবে স্বাস্থ্যজ্জ্বল ও সুন্দর। এর সাথে পুষ্টিকর খাবার খাবেন।
চুলের যত্নে তেল একটি বাটিতে কয়েক ফোটা এসেন্সিয়াল অয়েল দিয়ে তার মধ্যে আলমন্ড বা অলিভ অয়েল কিংবা নারকেল তেল দিন।একটি ভাল পরিস্কার চিরুনী দিয়ে উপর থেকে নিচ পর্যন্ত চুল আঁচরান। সাধারণ চিরুনীর বদলে হেয়ার ব্রাশ ব্যবহার করলে ভাল হয়। আঙুলে অল্প পরিমাণ তেল নিয়ে চক্রাকারে ম্যাসাজ শুরু করুন। আপনার আঙুলগুলো দিয়ে মাথার ত্বক ও চুলে ম্যাসাজ করতে থাকুন। একটু পর পর আঙুলে তেল নিয়ে নিন। চুলে গরম ভাপ দিন ম্যাসাজ শেষ হয়ে এলে একটি তোয়ালে সামান্য গরম করে মাথা ও চুল ঢেকে দশ মিনিট বিশ্রাম করুন। একটি ভাল শ্যাম্পু এবং কন্ডিশনার দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। যদি আপনার চুল বেশি শুষ্ক হয়, তবে সঙ্গে সঙ্গে না ধুয়ে সারা রাত রেখে পরদিন সকালে ধুয়ে ফেলুন। চুল ভাল করে পরিষ্কার করতে আপনাকে দুবার শ্যাম্পু করতে হতে পারে।
চুল পড়া কমাতে যা ব্যবহার করবেন লিভ ইন কন্ডিশনার: সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে চুলকে রক্ষা করে লিভ ইন কন্ডিশনার। রং করা চুল কিংবা কোঁকড়া চুলের জন্য এ কন্ডিশনারটি ব্যবহার করা ভালো।
প্রাকৃতিক কন্ডিশনার:
শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধোয়ার পর পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন চুল ঝরঝরে হয়ে গেছে। এ ছাড়া সাদা সিরকাও এভাবে প্রাকৃতিক কন্ডিশনার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।
হট অয়েল ট্রিটমেন্ট:
তৈলাক্ত চুল সহ যেকোনো চুলের জন্য এটি উপকারী। তেল হালকা গরম করে তুলা বা হাত দিয়ে হালকা করে মাথার ত্বকে ঘষে লাগান। আধা ঘণ্টা পর শ্যাম্পু করে ফেলুন।
টু-ইনশ্যাম্পু:
যেসব শ্যাম্পুর গায়ে টু-ইন লেখা থাকে তা এ দেশের আবহাওয়ার জন্য খুব একটা উপযোগী নয়। একনাগাড়ে এ ধরনের শ্যাম্পু ব্যবহার করা উচিত নয়।
প্রাকৃতিক উপায়ে চুলের যত্ন:
- পাকা কলা পেস্ট করে ৩০-৪০ মিনিট চুলে রেখে ধুয়ে ফেলুন।
- তেল দিয়ে মেহেদি, একটা ডিম ও দুই টেবিল চামচ টক দইয়ের প্যাকও ব্যবহার করা যেতে পারে। যদি আপনার চুলের ধরনের সঙ্গে মেহেদি খাপ খায়।
- রাঙানো চুলে বাসায় কোনো ধরনের প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহারের আগে কোনো বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলে নিন। কারণ টক জাতীয় অর্থাৎ এসিডিক কিছু যেমন, টকদই বা লেবু ইত্যাদির ব্যবহারে চুলের রং ফিকে হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
- চুল পড়া রোধে তেল ও ক্যাস্টর অয়েল এক সঙ্গে হালকা গরম করে নিন। ঠাণ্ডা হয়ে গেলে তাতে ভিটামিন-ই ক্যাপসুল ভেঙে মিশিয়ে চুলে লাগান।
- আমলকীর রস বা আমলকী বাটাও চুল পড়া রোধে বেশ কার্যকরী।
- হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করতে হলে চুল থেকে একটু দূরে ধরে রেখে ড্রায়ারের কোল্ড বোতাম চেপে ঠান্ডা বাতাস দিয়ে চুল শুকিয়ে নিন।
- খাদ্যাভ্যাস একটা বড় ভূমিকা পালন করে চুলের সুরক্ষায়। তাই প্রচুর পানীয় গ্রহণ করা উচিত। বেশি করে পানি ও ফলের রস খান। পাকা পেঁপের রস চুল পড়া রোধে সাহায্য করে। শীতকালীন ফল, সবজি ও পানির অংশ বেশি এমন খাবার যেমন লাউ, শশা বেশি করে খান।
- হেনা, সামান্য পরিমাণে টকদই ও ডিমের মিশ্রণ।
- ডিম, মাখন, সামান্য পরিমাণে পানি ও জাম্বুরার রস মিশিয়ে ১৫-২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।
- মেথি বাটা, আমলকির রস, অল্প গ্লিসারিন, একটি ডিম ও টকদই সামান্য গরম পানিতে পেস্ট করে মাথায় লাগান এবং আধঘণ্টা পর চুল শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ২ দিন করুন। চুল কে খুশকি মুক্ত ও ঝলমলে করতে এই প্যাকের বিকল্প নেই।
- রুক্ষ এবং নিষ্প্রাণ চুলের জন্য আধা কাপ পালং শাক, ১চা চামচ মধু এবং ১ চা চামচ অলিভ অয়েল বা নারিকেল তেল নিয়ে ব্লেন্ডারে ভালো মতো ব্লেন্ড করুন। এরপর এই মিশ্রণটি চুলে লাগিয়ে ৩০ মিনিট পর শ্যাম্পু করে ফেলুন। চুলে সিল্কি ভাব আসবে। চুল হবে মসৃন প্রাণবন্ত।
সূত্র – বিডিপ্রতিদিন.কম

