মানব দেহে অনুভূতিতে দীর্ঘ মেয়াদী এমন তীব্র চাপ যা সে বুঝতে পারে যে এর উপর তার কোন নিয়ন্ত্রণ নেই তাকে দীর্ঘমেয়াদী মানসিক চাপ (chronic stress) বলা যায়। দীর্ঘমেয়াদী মানসিক চাপ আমাদের দেহের জন্য ভাল নয়, বিশেষ করে হৃদপিণ্ডের জন্য। সর্বদা এরূপ দীর্ঘমেয়াদী মানসিক চাপ চলতে থাকলে উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত, দৈহিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়া, এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যেতে পারে। কিছু উপায় আছে যেগুলি অবলম্বন করে আপনি দীর্ঘমেয়াদী মানসিক চাপকে জয় করতে পারবেন, এমন কয়েকটি নীচে উল্লেখ করা হলঃ
১. প্রক্রিয়াজাতকৃত এবং পরিশোধিত খাবার পরিহার করুন
সাদা ময়দা, সাদা চিনি, কৃত্রিম মিষ্টিকারক, সোডা, জাংক ফুড, এবং এমন ধরনের খাবার যাতে প্রিজারভেটিভ দেয়া হয়েছে তা পরিহার করা উচিত যাতে মানসিক চাপ কমে। এ ধরনের খাবার পরিহারের পেছনে যুক্তি হল, এমন খাবার খেতে উৎসাহিত করা যেগুলিতে রক্তে ধীরে সমন্বয় যোগ্য শর্করা থাকে। দীর্ঘমেয়াদী ব্যাথা হওয়ার একটি অন্যতম কারণ রক্তে শর্করার পরিমাণ সঠিক না থাকা, এবং এ সমস্যা দূর করে রক্তে শর্করার সঠিক মাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করার জন্য quinoa, millet, এবং buckwheat এর মত দানাশস্য জাতীয় খাবার খাওয়া উচিত। প্রক্রিয়াজাতকৃত এবং পরিশোধিত খাবার মানসিক চাপ বাড়িয়ে দেয় যা দেহ অভ্যন্তরে ব্যাথা বাড়িয়ে দিতে ভুমিকা রাখে।
২. নিজেকে সরিয়ে রাখুন
প্রযুক্তির অগ্রগতি আমাদের জীবন যাত্রাকে বেশ সহজ করে তুলেছে, তবে সময়ের পরিক্রমায় এ সকল উপকরণগুলি বেশ বড় ধরণের মানসিক চাপ সৃষ্টিকারী হয়ে উঠতে পারে। কিছু সময় কেবল নিজেকে নিয়ে মগ্ন থাকুন, ওই সময়টুকুতে সেল ফোন, টেলিভিশন, ল্যাপটপ, এবং আইপড ইত্যাদি থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখুন। আপনি নিজের মানসিক দিকে মনোযোগী হন এবং রিল্যাক্স থাকুন। গবেষণাতে দেখা গেছে যে যতই আপনি নিজকে নিয়ে মগ্ন থাকবেন, ততই আপনার মানসিক চাপ কম হবে।
৩. খবরাখবর নেয়া থেকে একটু বিরতি নিন
আমাদের দেহ ক্ষুদ্র কোষ দিয়ে গঠিত যেগুলি আনন্দে উদ্দীপিত হতে সক্ষম। যখন আমরা খবরের কাগজ পড়ি বা টেলিভিশনে খবর দেখি, তখন দেখা যায় যে তার বেশির ভাগই হতাশা ব্যাঞ্জক। অভিজ্ঞজনেরা বলে থাকেন যে কিছু সময়ের জন্য খবরাখবর জানা থেকে বিরতি নেয়া উচিত। নিয়মিত ভাবে হতাশা ব্যাঞ্জক খবর পেতে থাকা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য ভাল নয় এবং এতে মানসিক চাপ বেড়ে যেতে পারে।
৪. আপনার দেহভঙ্গি উন্নত করুন
আমাদের দেহভাষা আমাদের আরও বেশী ভাল অনুভব করতে এবং আরও বেশী আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠতে সাহায্য করে, যে ভঙ্গিতে আমরা দাঁড়িয়ে থাকি বা বসি তার জন্যও এ কথাটি প্রযোজ্য। অনেক সময় সাবলিল দেহভঙ্গী নিজেকে আরও গ্রহণীয় করে তুলতে এবং নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ তুলে নিতে সাহায্য করে যা মানসিক চাপ কমাতে পারে। অনেক সময় মন্দ দেহভঙ্গী আমাদেরকে অস্বস্থিকর অবস্থায় ফেলে দিতে পারে এবং এমনটি ভাবতে দেয় যে আমাদের চারপাশের সবকিছুই কেমন যেন সঠিক নয়। সঠিক দেহভঙ্গী আমাদেরকে আরও আত্মবিশ্বাসী এবং স্বাস্থ্যবান করে তুলবে।
৫. কান্না ঠেকিয়ে রাখার চেষ্টা করবেন না
অনেক রকম গবেষণাতে দেখা গেছে যে কান্নার মাধ্যমে চোখ এবং আমাদের চেহারার উপরাংশ পরিস্কার হয় যা আমাদের একটি ঝরঝরে অনুভুতি এনে দেয়। এজন্য একটি ভাল রকমের কান্নার পর আমরা প্রায়ই বেশ ভাল অনুভব করি। কান্না চেপে রাখা মানে আমরা দূষিত কিছু ভেতরে ধরে রাখছি। কান্নার সময় গভির ভাবে ফোঁপানো বুক এবং বুকের পর্দাকে চাপ মুক্ত করে দেয় যা শক্তি ছেড়ে দেয়ার মাধ্যমে হৃদপিণ্ডের পেশী গুলিকে সহজ করে তুলে। এছাড়াও কান্নার মাধ্যমে মস্তিস্ক থেকে ‘neurochemicals’ নিঃসরণ হয় যার ফলে সমস্ত দেহে অক্সিজেন প্রবাহ বেড়ে যাওয়ার কারনে আরও ঝরঝরে অনুভূতি বোধ হয় এবং শরীরে উদ্দীপনা আসে।
৬. নোনা জলে সাঁতার
সাঁতার একটি ভাল ব্যায়াম, আপনার শরীরের জন্য সবচেয়ে ভাল কিছু যা আপনি করতে পারেন তার একটি হল লবনাক্ত পানিতে সাঁতার কাটা। মানসিক চাপ মুক্ত ঝরঝরে শরীরের প্রয়োজনে জোড়া সন্ধির এবং পেশীর ব্যাথা কমানোর জন্য লবন পানি বেশ আদর্শ বলে পরিচিত। যদি আপনার সমুদ্রের পানিতে যাওয়া সহজ না হয় তবে এর বিকল্প হিসাবে গোসলের পানিতে একটু ‘Epsom salt’ মিশিয়ে একটি সতেজ গোসল সেরে নিতে পারেন।

