রাজশাহী মহানগরীর কাদিরগঞ্জ এলাকার ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় মোস্তাকিন নামের চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার পর নিহতের স্বজন ও স্থানীরা ক্লিনিকটিতে ভাঙচুর চালায়। বুধবার রাত পৌনে ৮টার দিকে ডলফিন ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটে। ক্লিনিক থেকে চিকিৎসকসহ ৪ কর্মচারীকে আটক করে পুলিশ। নিহত মোস্তাকিন তানোর উপজেলার আবদুল্লাপুর গ্রামের কৃষক সামশুদ্দিনের ছেলে। সে ওই এলাকার মহাদেবপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র। সামশুদ্দিন বাংলানিউজকে বলেন, মঙ্গলবার বিকেলে সাইকেল চালানোর সময় পড়ে গিয়ে মোস্তাকিনের বাম হাত ভেঙ্গে যায়। বুধবার বিকেলে চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। কিন্তু এক দালাল ভালো চিকিৎসা দেওয়ার নাম করে মোস্তাকিনকে ডলফিন ক্লিনিকে নিয়ে যায়। ওই ক্লিনিকে নেওয়ার পর সেখানকার ডাক্তার নওশের আলী শিশু মোস্তাকিনের হাতের অপারেশন করার জন্য ওষুধ কেনার দুই হাজার ৫০০ টাকা নেয়। এর পর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তাকে অজ্ঞান করার ইনজেকশন দেওয়া হয়। পরের ৫টার দিকে তার মুত্যু হয়। সামশুদ্দিন আরও বলেন, সন্ধ্যা ৬টার দিকে ক্লিনিকের মালিক ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজের অর্থপেডিক বিভাগের চিকিৎসক নওশের আলী আমাকে ডেথ সার্টিফিকেট ধরিয়ে দিয়ে জানান, যে আমার ছেলে মারা গেছে। এদিকে, নিহতের স্বজনদের কান্নায় স্থানীয় লোকজন বিষয়টি জেনে যায়। পরে পৌনে রাত ৮টার দিকে বিক্ষুদ্ধ জনতা ক্লিনিকে হামলা চালিয়ে ৮টি কক্ষে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এসময় তারা চিকিৎসকসহ কর্মীচারীদের আটকে রাখে। খবর পেয়ে বোয়ালিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনে।বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউর রহমান জিয়া বাংলানিউজকে জানান, ভুল চিকিৎসায় শিশুর মৃত্যুর অভিযোগে ডলফিন ক্লিনিকের একাংশের মালিক ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. নওশের আলীসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃত অন্যরা হলেন, ক্লিনিকের নার্স মুক্তা, ম্যানেজার মাসুদ রানা ও অপারেশন থিয়েটারের ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম।এদিকে, ওই ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে দৈনিক কালের কণ্ঠের রাজশাহী অফিসের স্টাফ রিপোর্টার রফিকুল ইসলামের ব্যবহৃত ডিসকভারি মোটরসাইকলে চুরি হয়ে যায়। এ ব্যাপারে থানায় পৃথক মামলা দায়ের করা হবে বলে জানান ওসি।
সূত্র - বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

