সরকারি চিকিৎসকেরা গ্রাম-মফস্বলে যেতে চান না—এটি একটি গুরুতর ও বহুল আলোচিত সমস্যা। কিন্তু দিনাজপুর তো গ্রাম নয়, একটি বড় জেলা শহর। ৯১৭ জন শিক্ষার্থীর একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ আছে সেখানে। শিক্ষকদের ৫৩টি পদ শূন্য আছে, কিন্তু যে ৯৮ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন, তাঁদের একটা বড় অংশ কর্মস্থলে প্রায়ই গরহাজির থাকে। গত মঙ্গলবার প্রথম আলোয় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের তথ্য থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, ছুটি না নিয়েই দিনের পর দিন শিক্ষকদের অনুপস্থিত থাকা দিনাজপুর মেডিকেল কলেজে নিয়মিত চর্চায় পরিণত হয়েছে।
অধ্যক্ষ হামিদুল হকের বাড়ি ও ব্যক্তিগত চেম্বার রংপুরে। তিনি কোনো সপ্তাহে দুই দিন, কোনো সপ্তাহে তিন দিন কলেজে আসেন। কোনো কোনো সপ্তাহের পুরোটাই অনুপস্থিত থাকেন। এমন অধ্যক্ষের পরিচালনায় একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ কীভাবে চলতে পারে? শিক্ষকদের অনেকে সারা মাসে কলেজে উপস্থিত হন মাত্র এক দিন; ছুটি নেওয়ার কোনো বালাই নেই। ছুটি না নিয়েই কলেজে দিনের পর দিন অনুপস্থিত থেকে যদি মাস গেলে বেতন-ভাতা তুলে নেওয়া যায়, কারও কাছে কোনো জবাবদিহি করতে না হয়, তাহলে ছুটির দরখাস্ত দেওয়ার বা অনুমতি নেওয়ার কোনো প্রশ্ন থাকে না। এই শিক্ষকদের কেউ থাকেন ঢাকায়, কেউ ময়মনসিংহে, কেউবা রাজশাহীতে। দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ তাঁদের সরকারি চাকরিস্থল; নিজ নিজ ব্যক্তিগত চেম্বারে তাঁরা নিজেদের নামের সাইনবোর্ডে সেই পরিচয় ব্যবহার করেন।
একজন শ্রমিক বা মজুর কাজ না করে মজুরি প্রত্যাশা করেন না। কিন্তু উচ্চশিক্ষিত এই শিক্ষক-চিকিৎসকেরা দিনের পর দিন কর্মস্থলে উপস্থিত না হয়ে বেতন-ভাতা তুলে নেন; কোনো নৈতিকতাবোধ তাঁদের পীড়িত করে না! তাঁদের অনুপস্থিতির কারণে শুধু যে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি হয়, তা তো নয়; কলেজটির সঙ্গে যে হাসপাতাল রয়েছে, সেখানকার রোগীরাও একইভাবে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয়। এ রকম সমস্যা শুধু দিনাজপুর মেডিকেল কলেজেই সীমাবদ্ধ নয়, দেশের অন্য সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালগুলোতেও কমবেশি রয়েছে।
প্রজাতন্ত্রের প্রথম শ্রেণীর এই কর্মকর্তাদের চাকরির বিধানগুলো মেনে চলার বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করার কোনো প্রশাসনিক উদ্যোগ নেই। কিন্তু এই সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষা ও চিকিৎসা কার্যক্রম তাঁদের মর্জিমাফিক চলতে দেওয়া যায় না। বিনা ছুটিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
সূত্র - প্রথম আলো

