কাজ করতে গিয়ে তাঁরা ক্লান্ত হন, ত্যক্ত-বিরক্ত হন, একঘেয়ে হয়ে আসে সময়, তার পরও নাকি এটাই তাঁদের ভালো লাগার জায়গা। বলছি বগুড়ার জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের কথা। কেন ক্লান্তি আসে আর কেনই বা ভালো লাগে, জানা যায় তাঁদের কাছ থেকেই। যেমন অন্য ক্যাম্পাসের বন্ধুরা যখন চায়ের টেবিলে গল্প-তর্কের ঝড় তোলেন, মেডিকেলপড়ুয়া দিলু তখন রোগীদের সেবায় মগ্ন। সারা দিনের ক্লান্তি ভুলে বন্ধুরা যে সময় শরীর এলিয়ে দেন বিছানায়, মারুফকে তখন দেখা যায় কোনো রোগীর ক্ষতের যত্ন নিতে। মারুফ, দিলুদের মতো এই দলে আরও আছেন সাদিয়া, সজীব, রাজু, রাজীবসহ আরও অনেক শিক্ষার্থী, যাঁদের সারা দিন এমনকি রাত অবধি কাটে রোগীর সেবা করে।
‘আর যখন নিভু নিভু সম্ভাবনা নিয়ে বেঁচে থাকা মানুষ আমার সামনেই সুস্থ হয়ে ওঠে আমার সেবা পেয়ে, তখন আমার আনন্দ-উচ্ছ্বাসে কি আর অপূর্ণতা থাকতে পারে, বলুন?’ বলেন সাদিয়া। এই উত্তরে যেন বাকি সবার চোখ ঝলমল করে ওঠে। সারা রাত জাগা মারুফের ক্লান্তি যে এক মুহূর্তে বিলীন হয়ে যায়। সদ্য চাঙা হয়ে ওঠা মারুফের কণ্ঠে ধরা দেয় ডাক্তারি পড়ার প্রাপ্তি ‘একদিক থেকে আমরা সত্যিই ভাগ্যবান। কারণ, মূলত আমরাই প্রত্যক্ষভাবে মানুষের সেবা করতে পারি।’ মারুফের কথায় সায় দেয় সজীব। যুক্ত করে আরও নতুন তথ্য ‘আমি বিষয়টি একটু অন্যভাবে দেখি। যেমন সেবা করছি তেমন শিখতে পারছি। শুধু তা-ই নয়, আমরা ভাগ্যবান আরও একটি কারণে— এখানে প্রচুর রোগী আসে। ফলে শেখার সুযোগও বেশি। আর রোগীরাই তো আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় পাঠ্য।’ যুক্ত করেন রাজু।
তাঁদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় আরও মজার সব অভিজ্ঞতার কথা। দিলু শোনালেন এক হিস্টিরিয়া রোগীর গল্প, ‘রাতে একা ডিউটি করছি। মধ্যরাত পেরিয়ে গেছে এমন সময় হিস্টিরিয়া কেসের একটি রোগী এলেন। আমি তাঁকে অক্সিজেন দিলাম। কিন্তু কোনো পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছিলাম না। বুঝে উঠতে পারছিলাম না, কী সমস্যা হচ্ছে! কিছুক্ষণ পর দেখি তিনি নিজেই সুস্থ’ হয়ে উঠে চলে গেলেন!
সারা দিন ক্লাস আর হাসপাতালের ডিউটির ফাঁকে একটু কি সময় মেলে না নিজের মতো করে থাকার? ‘হ্যাঁ, ঢের পাওয়া যায়। আর তখনই তো সিরিঙ্গির মোড় আর এই সবুজ মাঠ ভরে যায় সাদা অ্যাপ্রন পরা হবু চিকিৎসকে।’ চটজলদি উত্তর রাজুর।
সূত্র - প্রথম আলো

