ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালকে ১৬ বছর আগে ৫০ থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে। কিন্তু, কখনোই ১০০ শয্যার জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি। বর্তমানে হাসপাতালটিতে ৫০ শয্যার জনবলও নেই। এতে চিকিৎসাসেবা মারাত্মক বিঘ্নিত হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাব অনুযায়ী ১০০ শয্যার হাসপাতালে একজন তত্ত্বাবধায়ক, ১০ জন সিনিয়র কনসালট্যান্ট, ১১ জন জুনিয়র কনসালট্যান্ট, একজন আবাসিক মেডিকেল অফিসার, ১৭ জন সহকারী সার্জন, একজন মেডিকেল অফিসার (আয়ুর্বেদি), একজন ডেন্টাল সার্জন, দুজন নার্সিং সুপারভাইজার, দুজন মেডিকেল টেকনিশিয়ান (ল্যাব), একজন মেডিকেল টেকনিশিয়ান (ডেন্টাল) ও একজন মেডিকেল টেকনিশিয়ান (ফিজিওথেরাপি) থাকার কথা। কিন্তু বর্তমানে হাসপাতালটি একজন সিনিয়র কনসালট্যান্ট, তিনজন জুনিয়র কনসালট্যান্ট, তিনজন মেডিকেল অফিসার (প্যাথলজিস্ট, রেডিওলজিস্ট, আয়ুর্বেদি) ও একজন ডেন্টাল সার্জন দিয়ে চলছে। হাসপাতালটি ১০০ শয্যার হলেও এখানে ৫০ শয্যারও জনবল নেই। এখনো ৫০ শয্যার বিপরীতে সিনিয়র কনসালট্যান্ট (মেডিসিন), সিনিয়র কনসালট্যান্ট (চক্ষু), জুনিয়র কনসালট্যান্ট (প্যাথলজি), জুনিয়র কনসালট্যান্ট (রেডিওলজিস্ট), জুনিয়র কনসালট্যান্ট (ইএনটি), আবাসিক মেডিকেল অফিসার, ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসার ও ফার্মাসিস্টের পদ খালি। আর সিনিয়র কনসালট্যান্ট (সার্জারি) এ এস এস আবু আহসান ২০১১ সাল থেকে অনুপস্থিত।
গত বৃহস্পতিবার হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সদর উপজেলার শূখানপুখুরী গ্রামের জয়ন্তী রানী বলেন, রোগীর ভিড় থাকায় চিকিৎসকেরা তাঁদের কথা ঠিকমতো না শুনেই পরামর্শ দিচ্ছেন।
হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার আবদুল জব্বার জানান, গত আগস্ট মাসে বহির্বিভাগে তিন হাজার ৭০১ জন পুরুষ, পাঁচ হাজার ৮২ জন নারী ও দুই হাজার ৬০২ জন শিশুকে সেবা দেওয়া হয়েছে। আন্তবিভাগে ৭৪০ জন পুরুষ, এক হাজার ৬৭ জন নারী ও এক হাজার ১৮৯টি শিশুকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ফলে রোগীর অতিরিক্ত চাপ সামলাতে চিকিৎসকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। এতে সেবাও মারাত্মক বিঘ্নিত হচ্ছে।
ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন আবু মো. খয়রুল কবীর জানান, ১৯৯৭ সালের ১২ জুলাই হাসপাতালটি ১০০ শয্যায় উন্নীত করার পর থেকেই তা ৫০ শয্যার জনবল দিয়ে চলে আসছে। বর্তমানে ৫০ শয্যার জনবলও নেই। গত সেপ্টেম্বর মাসের হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় বিষয়টি তোলা হয়েছে। সভায় পনিসম্পদমন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন চাহিদা অনুযায়ী জনবল দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন। জানতে চাইলে রমেশ চন্দ্র সেন গত শুক্রবার প্রথম আলোকে বলেন, চিকিৎসক-সংকটের কথা স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে জানানো হয়েছে। খুব দ্রুত হাসপাতালের শূন্য পদে চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
সূত্র - প্রথম আলো

