কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (অস্থায়ী) অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগে প্রসূতির স্বজনেরা গতকাল বুধবার প্রসূতি ওয়ার্ড ও অস্ত্রোপচার কক্ষের আসবাব ভাঙচুর করেছেন। একই দিন ভোলা সদর উপজেলায় ‘হাবিব মেডিকেল সেন্টার’ নামে একটি ক্লিনিকে অবহেলায় জান্নাত বেগম নামের এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ এনে তাঁর স্বজনেরা সেখানে হামলা ও ভাঙচুর করেছেন।
কুষ্টিয়ায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় হাসপাতালের প্রসূতি ওয়ার্ডের সহকারী রেজিস্ট্রার নাজমা খানম ২০-২৫ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন। কুষ্টিয়া মডেল থানার পুলিশ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার সদর উপজেলার জুগিয়া গ্রামের রিক্তা খাতুন নামের এক প্রসূতি হাসপাতালে ভর্তি হন। গতকাল সকালে রিক্তার সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে মারা যায়। এরপর চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ এনে প্রসূতির প্রায় ৩০-৩৫ জন স্বজন হাসপাতালে সেবিকাদের ওপর চড়াও হন। একপর্যায়ে হাসপাতালের অস্ত্রোপ্রচার কক্ষে ঢুকে তাঁরা কিছু আসবাব ভাঙচুর করেন এবং প্রসূতি ওয়ার্ডের চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করেন। জানতে চাইলে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক আজিজুন নাহার প্রথম আলোকে বলেন, ‘ভূমিষ্ঠ হওয়া নবজাতকের ওজন ছিল মাত্র এক হাজার ৩৮০ গ্রাম। এমন নবজাতকের বাঁচার ঘটনা বিরল। তা ছাড়া কোনো চিকিৎসকের অবহেলা থাকলে সেটা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানাতে পারতেন। অস্ত্রোপ্রচার কক্ষে হামলা ও ভাঙচুর করা ঠিক হয়নি।’
জান্নাতের মা নূরজাহান বেগমের ভাষ্যমতে, ভোলা সদর উপজেলার সদুরচর গ্রামের শেখ ফরিদের স্ত্রী জান্নাতকে মঙ্গলবার সকালে ভোলা শহরের হাবিব মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করা হয়। ভোলা সদর হাসপাতালের গাইনি সার্জন রজত কুমার রোগীকে দেখে স্বাভাবিক প্রসবের জন্য অপেক্ষা করতে বলেন। বিকেল পাঁচটার দিকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁর একটি কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। এর কিছুক্ষণ পর রোগীর অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের লোকজন ক্লিনিকের দায়িত্বশীলদের ডাকলেও কেউ আসেননি। সন্ধ্যায় অবস্থার আরও অবনতি হলে ক্লিনিকের লোকজন রোগীকে তাঁর স্বজনদের বরিশাল নিয়ে যেতে বলেন। রাত আটটার দিকে বরিশালে নেওয়ার পথে জান্নাতের মৃত্যু হয়। মৃত্যুর খবর পেয়ে জান্নাতের স্বজনেরা এসে হামলা চালিয়ে ক্লিনিকের দরজার কাচ ও আসবাব ভাঙচুর করেন।
মৃত নারীর মামা সেলিম গাজী বলেন, এ ঘটনায় তাঁরা মামলা করবেন। ক্লিনিকের পরিচালক ও বরিশালের সিভিল সার্জন মিজানুর রহমান বলেন, অস্ত্রোপচারের পর অবস্থা খারাপ দেখে রোগীকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু তাঁর স্বজনেরা বিলম্ব করায় এমন হতে পারে।
সূত্র - প্রথম আলো

