এ যেন ভাগ্যের খেলা! পেতেও পারেন, আবার না-ও পেতে পারেন। চিকিৎসকের দেখা না পেলে কপাল খারাপ। জটিল পরিস্থিতিতে রোগীদের জীবন-মরণ সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রায় দেড় মাস ধরে এমন অবস্থা চলে আসছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ৫০ শয্যাবিশিষ্ট এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কমপক্ষে ২১ জন চিকিৎসকের প্রয়োজন। কিন্তু রয়েছেন মাত্র তিনজন। তাঁদের মধ্যে একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ, একজন সার্জারি এবং অপরজন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা।
গত সোমবার দুপুরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, রোগীরা চিকিৎসা পাওয়ার আশায় এদিক-ওদিক ছুটছে। কিন্তু কোনো চিকিৎসকের দেখা পাচ্ছে না। ভর্তি হওয়া রোগীরা এক-দুবার সেবিকার সেবা পেলেও চিকিৎসকের দেখা পাচ্ছে না। একটি কক্ষে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে কর্মীদের নিয়ে সভা করতে দেখা গেছে।
দেখা যায়, তীব্র পেটব্যথা নিয়ে প্রধান ফটকের কাছে একটি ভ্যানে শুয়ে আছেন উপজেলার কুড়াহার গ্রামের আতাউর রহমান (৫৫)। চিকিৎসক না থাকায় প্রাথমিক চিকিৎসাটুকুও জোটেনি তাঁর ভাগ্যে। তিনি বলেন, ‘হাসপাতালোত অ্যাসা কুনো ডাকতোর পাছি ন্যা। একজন কলো, ক্লিনিকোত যাবার। কিন্তুক হামি তো গরিব মানুষ ট্যাকা পামো কুনটি?’
উপজেলার পঞ্চদাস গ্রামের আবদুল খালেক জানান, তাঁর বাবা ডায়েরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে সোমবার সকালে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন। কিন্তু বেলা একটা পর্যন্ত কোনো চিকিৎসক তাঁর বাবাকে দেখতে আসেননি। একজন সেবিকা এসে একবার দেখে গেছেন।
কালাই উপজেলার শ্রীপুর গ্রামের রুবেল মিয়া (৩২) বলেন, ‘আমার বাবা জোব্বার আলী সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে রোববার সন্ধ্যায় ভর্তি হয়েছেন। কিন্তু এখনো কোনো চিকিৎসক বাবাকে দেখেননি। এখানে চিকিৎসক পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মুছা আল মুনছুর বলেন, ‘বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দুজন চিকিৎসক শিগগিরই যোগদান করবেন। আরও কয়েকজন চিকিৎসককে এখানে দেওয়া হবে বলে কর্তৃপক্ষ আমাকে জানিয়েছেন।’
উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোস্তাফিজার রহমান বলেন, প্রায় সাড়ে চার লাখ মানুষের জন্য এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকট থাকাটা মেনে নেওয়া যায় না। অচিরেই প্রয়োজনীয়সংখ্যক চিকিৎসককে যোগদান করানো প্রয়োজন।
সূত্র - প্রথম আলো

