অর্থসংকটে পড়েছে হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। সেবার মান পড়ে যাওয়ায় রোগী কমছে। অতিরিক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতায় বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে। অন্যদিকে টাকার অভাবে অবসরে যাওয়া কর্মীরা গ্র্যাচুইটি পাচ্ছেন না।
হাসপাতালটি পরিচালিত হয় রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির বিধিমালা অনুযায়ী। একসময় হাসপাতালের সেবার মান ছিল উন্নত। ১৯৯০ সালের পর থেকে দলীয় বিবেচনায় হাসপাতালের চেয়ারম্যান ও পরিচালক নিয়োগ হচ্ছেন। তখন থেকে প্রয়োজনের বাইরে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
হাসপাতালের পরিচালক সিরাজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, অতিরিক্ত কর্মচারী এ হাসপাতালের সবচেয়ে বড় সমস্যা।
অতিরিক্ত জনবল: ৫২৮ শয্যার হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় ৯০০। ঢাকার ৫৬০ শয্যার শিশু হাসপাতালে এ সংখ্যা প্রায় ৭০০।
হাসপাতালের গড় আয় মাসে তিন কোটি টাকার কিছু বেশি। এর মধ্যে দুই কোটির টাকার বেশি খরচ হয় মাসিক বেতনের পেছনে। ফলে রোগীর পেছনে খরচ করার পর্যাপ্ত টাকা থাকে না।
সিরাজুল ইসলাম বলেন, অন্তত ৩০০ কর্মচারী উদ্বৃত্ত। তাঁদের পেছনে মাসে ব্যয় ৬০ লাখ টাকা। ভারসাম্য আনার জন্য শূন্য হওয়া পদের বিপরীতে অর্ধেকের কম নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
হাসপাতালের করুণ দশা: হাসপাতালের শয্যা ব্যবহারের হার ৫০ শতাংশ। বছরে গড়ে অর্ধেক শয্যাই খালি পড়ে থাকে।
এ প্রসঙ্গে একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী বলেছেন, সেবা বাড়াতে কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ নেই। প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে গেছে হাসপাতালটি।
হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি ওয়ার্ড, কেবিন ও টয়লেট অপরিষ্কার, নোংরা। শয্যা, তোশক, বালিশ, বিছানার চাদর ময়লা ও পুরোনো। প্রয়োজনের তুলনায় বাথরুম ও টয়লেট কম। অপরিচ্ছন্ন বাথরুমগুলো ব্যবহার করতে হয় প্রসূতি ও জটিল অপারেশনের রোগীদের।
সিরাজুল ইসলামের দাবি, হাসপাতালটি আধুনিকায়নের জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন তিনি।
ভবিষ্য তহবিল নিয়ে জটিলতা: কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভবিষ্য তহবিল (প্রভিডেন্ট ফান্ড) ও গ্র্যাচুইটির টাকা বকেয়া পড়েছে। গ্র্যাচুইটির বকেয়া ১০ কোটি টাকা।
অবসর নেওয়া শান্তি কস্তা ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ৩২ বছর হাসপাতালে সেবা দেওয়ার পরও তাঁকে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। অবসরের পর গত তিন বছরেও গ্র্যাচুইটির পুরো টাকা পাননি।
ভবিষ্য তহবিলে বকেয়া পড়েছে সোয়া নয় কোটি টাকা। এসব টাকা বিভিন্ন সময় পরিচালকেরা বকেয়া রেখেছেন। ওই টাকা কোন খাতে খরচ করা হয়েছে তার উত্তর পাওয়া যায়নি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে।
সিরাজুল ইসলাম বলেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর ভবিষ্য তহবিলের দুই কোটি টাকা বকেয়া পড়েছে। বকেয়া শোধ করে দেওয়া হবে। আগের বকেয়ার দায়-দায়িত্ব তাঁর নয়।
হাসপাতালের কাছে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির পাওনা প্রায় এক কোটি টাকা। বকেয়া টাকা পরিশোধ না করায় কমেছে ওষুধের সরবরাহ।
গত ১৯ আগস্ট এ বিষয়ে নার্স-কর্মচারীদের একটা অংশ পরিচালকের কাছে ঘটনা জানতে গেলে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে।
সূত্র - প্রথম আলো

