ঘটা করে উদ্বোধন করলেও মুগদা ৫০০ শয্যার সরকারি হাসপাতালে সেবা বলে কিছু নেই। বহির্বিভাগে কয়েকজন চিকিৎসক রোগীদের শুধু ব্যবস্থাপত্র দেন। হাসপাতালে নেই কোনো ওষুধপত্র ও যন্ত্রপাতি। কবে নাগাদ অন্তর্বিভাগ চালু হবে কেউ বলতেও পারেন না।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় এই হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, জরুরি বিভাগকে বহির্বিভাগ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। জনা দশেক চিকিৎসক রোগী দেখছেন। মুগদা ও আশপাশের এলাকা থেকে কিছু রোগী এসেছে। অধিকাংশ নারী ও শিশু। কবির হোসেন নামে এক দোকানমালিক জানালেন, বাড়ির পাশে হাসপাতাল হওয়ায় সুবিধা হয়েছে।
বেলা একটার পর হাসপাতালের চিকিৎসকেরা খাতা দেখে জানালেন, রোগী এসেছিল ১৪৮ জন।এরপর রোগী ছিল না। চিকিৎসকদের বিভিন্ন কক্ষে তখন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের ভিড়। এক এক কক্ষে তিন-চারজন করে ঢুকে পড়েছেন। প্রতি টেবিলে নমুনা ওষুধের স্তূপ।
কথা হয় হাসপাতালের প্রকল্প পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান মিয়ার সঙ্গে। তিনি জানালেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে কর্মরত ৪২ জন চিকিৎসককে এই হাসপাতালে সংযুক্তি দেওয়া হয়েছে। তাঁদের দিয়েই বহির্বিভাগ চালু করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, সীমিত আকারে হলেও আগামী বছর ফেব্রুয়ারি নাগাদ অন্তর্বিভাগ চালু করা সম্ভব হবে।
গত ১৯ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজধানীর মুগদা এলাকার এই সরকারি হাসপাতালের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এই এলাকাটি ঘনবসতিপূর্ণ। কিন্তু সরকারি হাসপাতাল না থাকায় এখানকার রোগীদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ, সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ বা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে যেতে হয়। এই হাসপাতালটি হওয়ায় বিশেষ করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীর চাপ কমবে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধারণা।
প্রকল্প পরিচালক জানিয়েছেন, হাসপাতালের কাজ শুরু হয়েছিল ২০০৬ সালে। মহাজোট সরকার ক্ষমতায় এসে প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নেয়। ১১০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৯ দশমিক ৫২ একর জমির ওপর এই হাসপাতাল তৈরি হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৫০০ শয্যার হাসপাতালে এখন শয্যা আছে ৫০টি। এগুলো হাসপাতাল উদ্বোধন উপলক্ষে আনা হয়েছিল। আছে তিনটি এক্স-রে যন্ত্র, দুটো আল্ট্রাসনোগ্রাম যন্ত্র ও তিনটি ইসিজি যন্ত্র। তবে এগুলো চালু হয়নি।
হাসপাতালের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়া শেষে কবে নাগাদ যন্ত্রপাতি কেনা হবে এবং কবে সেগুলো হাসপাতালে আসবে তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি প্রকল্প পরিচালক।
হাসপাতালের জন্য ৬৫০টি পদের অনুমোদন দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে চিকিৎসকের পদ ১০৩টি ও নার্সের ১৯৫টি। বাবুর্চি, মসালচি, আয়া, ওয়ার্ডবয়, সুইপার, মালী, ডোমের ১৩৯টি পদে নিয়োগ হবে ঠিকাদরিপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে (আউট সোর্সিং করা হবে)। এ ক্ষেত্রে দরপত্রের মাধ্যমে কাজ দেওয়া হবে। তবে সেই প্রক্রিয়া এখনো শুরু হয়নি।
ঠিকাদারদের কাছ থেকে কাজ বুঝে না নিয়েই হাসপাতাল চালু করেছে সরকার। মূল নকশার সঙ্গে ইতিমধ্যে বেশ কিছু বিচ্যুতি ধরা পড়েছে। উদাহরণ হিসেবে একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রেলিংয়ের কাজ ঠিকমতো করা হয়নি (রেলিংয়ের ফাঁক গলে মানুষ পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি আছে)। অন্যদিকে জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকদের কক্ষের সঙ্গে বাথরুম রাখার কথা ছিল, তা রাখা হয়নি। এখন এসব নিয়ে একটি কমিটি কাজ করছে।
হাসপাতালের মূল নকশায় নারী, পুরুষ, চিকিৎসক ও জরুরি বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থাকার জন্য পৃথক চারটি ছয়তলা ভবন নির্মাণের কথা বলা আছে। নার্সদের জন্য ছয়তলা একটি ভবনের কথা বলা আছে। এ ছাড়া ১০ তলাবিশিষ্ট দুটি ও ছয়তলাবিশিষ্ট একটি ফ্যামিলি কোয়ার্টার তৈরির কথাও আছে। এই আটটির মধ্যে একটি ভবনও তৈরি করা হয়নি। প্রক্রিয়াও শুরু হয়নি।
জানতে চাইলে, স্বাস্থ্যসচিব এম এম নিয়াজউদ্দিন বলেন, যন্ত্রপাতি কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশা করি, ডিসেম্বরের মধ্যে হাসপাতাল পুরোদমে চালু হবে।
আর স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক প্রথম আলোকে বলেন, নতুন হাসপাতাল, সবকিছু ঠিকঠাকমতো চলতে একটু সময় লাগবে। তবে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় জরুরিভিত্তিতে সেখানে ওষুধ পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
সূত্র - প্রথম আলো

