home top banner

খবর

চিকিৎসা-বৈষম্যের শিকার মাদকাসক্ত নারীরা
২৫ সেপ্টেম্বর, ১৩
Tagged In:  health news   Posted By:   Healthprior21
  Viewed#:   111

সরকারি পর্যায়ে নারী মাদকাসক্তদের জন্য আবাসিক চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই। এ ক্ষেত্রে হাতে গোনা কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে এমন সেবা থাকলেও তা অপ্রতুল ও ব্যয়বহুল। ১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী, বাধ্যতামূলকভাবে বিনা খরচে মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা করানোর দায়িত্ব সরকারের। কিন্তু চিকিৎসায় পুরুষের জন্য আবাসিক ব্যবস্থা থাকলেও নারীদের জন্য নেই। এ ছাড়া জেলা অনুযায়ী মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের তালিকা তৈরির বিধান থাকলেও তা কাগজে-কলমেই রয়ে গেছে।
মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসায় যুক্ত কয়েকজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক জানিয়েছেন, নারী মাদকাসক্তের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে ইয়াবা সেবনকারী নারীদের সংখ্যা বেশি দেখা যাচ্ছে। নারী মাদকাসক্তের সংখ্যার সুনির্দিষ্ট তথ্য না পাওয়া গেলেও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ধারণা, মোট মাদকাসক্তের ১০ থেকে ১৫ শতাংশই নারী। অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ইকবাল প্রথম আলোকে বলেন, সরকারিভাবে নারী মাদকাসক্তদের আবাসিক চিকিৎসার সুযোগ নেই। তবে কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে নারীদের জন্য ১০ শয্যার ওয়ার্ড চালুর বিষয়টি পরিকল্পনায় রয়েছে।
রাজধানীর তেজগাঁওয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর প্রাঙ্গণে কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে মোট শয্যাসংখ্যা ৪০। ২০১২ সালে এ কেন্দ্রের বহির্বিভাগে এক হাজার ৬৫৯ জন রোগীর মধ্যে নারী ছিলেন মাত্র পাঁচজন। এ ছাড়া একই প্রাঙ্গণে ২৫০ শয্যার আরেকটি মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের অবকাঠামো তৈরি শেষ হলেও সেখানে জনবল নিয়োগ হয়নি। নারীদের জন্য আলাদা জনবলও চাওয়া হয়নি। আর চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনায় একটি করে আঞ্চলিক নিরাময় কেন্দ্র রয়েছে। এর প্রতিটিতে পাঁচটি করে শয্যা রয়েছে। তবে খুলনার কেন্দ্রটি ২০০৯ সাল থেকে বন্ধ। এসব কেন্দ্রের কোনোটিতেই নারীদের জন্য আবাসিক চিকিৎসার সুযোগ নেই। কেবল বহির্বিভাগে সেবা দেওয়া হয়।
১৯৯১ সাল থেকে কুমিল্লা, যশোর ও রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার হাসপাতালে মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ভুক্তভোগী কয়েকটি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেক সময় লজ্জা এবং সামাজিকতার কারণে নারী মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের লুকিয়ে রাখা হয়। মাদকাসক্তদের আবাসিক চিকিৎসার গুরুত্ব সম্পর্কে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক তাজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, অজু করা ছাড়া যেমন নামাজ আদায় করা যায় না, তেমনি মাদকাসক্তদেরও দেহ ও মন থেকে মাদকের বিষ নিষ্ক্রিয় না করা পর্যন্ত চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব নয়। অন্যান্য রোগে অনাবাসিক চিকিৎসা নিয়ে রোগী ভালো হয়, কিন্তু মাদকাসক্তদের ক্ষেত্রে তা প্রায় অসম্ভব।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্র বলছে, বেসরকারি পর্যায়ে ২০টি জেলায় লাইসেন্সপ্রাপ্ত ৬৯টি মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে মোট শয্যা ৮৭৫টি। ৪৪টি জেলায় সরকারি বা বেসরকারি পর্যায়ে কোনো নিরাময় কেন্দ্র নেই। ২০০৯ সাল থেকে মানিকগঞ্জে আসক্তি পুনর্বাসন নিবাস ‘আপন’ নারী মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করেছে। কেন্দ্রে ২৫ জন নারীর আবাসিক সুবিধা আছে। চলতি মাসে ১৩ থেকে ৩৯ বছর বয়সী মোট ১৫ জন নারী চিকিৎসাধীন। গত বছর এ কেন্দ্র থেকে ৬০ জন নারী চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন।
আপনের কাউন্সেলর খন্দকার আসাদুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, অপুষ্টির চিকিৎসা, ব্যায়াম, খেলাধুলা, মানসিক আচরণ পরিবর্তনসহ একটি নিয়মের মধ্যে এনে সমন্বিতভাবে জীবনমুখী চিকিৎসা দিতে হয় মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের। সুইয়ের মাধ্যমে মাদক গ্রহণ করেন, এমন নারীদের চিকিৎসা করছে কমিউনিটি হেলথ রিহ্যাবিলিটেশন, এডুকেশন অ্যান্ড অ্যাওয়ারনেস (ক্রিয়া)। ক্রিয়ার প্রধান নির্বাহী তরুণ কান্তি গায়েন জানান, কেন্দ্রে মাসে ২০ থেকে ৩০ জন ছিন্নমূল নারী চিকিৎসার জন্য আসেন।
উত্তরার বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র লাইট হাউস ক্লিনিকের সহকারী ব্যবস্থাপক তানভীর আহাদ প্রথম আলোকে বলেন, ৬০ শয্যার এ ক্লিনিকে সাত থেকে আটটি শয্যা নারীদের জন্য বরাদ্দ। এ কেন্দ্রটিতে মূলত উচ্চবিত্ত পরিবারের নারীরা আসছেন।

সূত্র - প্রথম আলো

Please Login to comment and favorite this News
Next Health News: প্রত্যাঞ্চলে চিকিৎসকদের আলাদা ক্যাডার গঠনের দাবি
Previous Health News: হাসপাতাল আছে, সেবা নেই

আরও খবর

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় অ্যান্টিবায়োটিক!

সম্প্রতি এক গবেষণায় জানা গেছে, কম বয়সে অ্যান্টিবায়োটিক খেলে পরবর্তী ক্ষেত্রে মানব শরীর বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধ করতে সক্ষম থাকে৷ কলোম্বিয়ার ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যায়লের এ গবেষণা অনুযায়ী, অন্ত্রে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া বিরাজ করে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাস্থ্যকর রাখে৷ কিন্তু... আরও দেখুন

ঢাবিতে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগ ও বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে  ‘Mental Health Gap in Bangladesh: Resources and Response’ শীর্ষক চার দিনের চতুর্থ মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন  হয়েছে। বুধবার ঢাকা... আরও দেখুন

৯টি ভয়ংকর সত্যি, যা আপনাকে ডাক্তাররা জানান না!

অনেক সময় কোনো ওষুধ একটি রোগ সারিয়ে তুললে, সেই ওষুধই অন্য একটি অসুখকে আমন্ত্রণ জানিয়ে রাখে। এমনকি এক্স রে রশ্মিও আমাদের শরীরে ক্যান্সারের মতো মারণ রোগের জন্ম দেয়। ওষুধের প্রভাবে কী কী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে ১. ওষুধে ডায়াবিটিস বাড়তে পারে: সাধারণত ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবিটিস হয়।... আরও দেখুন

প্রাকৃতিক ভায়াগ্রা হর্নি গোটউইড

চীনের একটি গাছের নাম হর্নি গোটউইড। এই গাছ থেকেই অদূর ভবিষ্যতে সস্তায় মিলবে ভায়াগ্রার বিকল্প ওষুধ। পুরুষাঙ্গকে দৃঢ়তা প্রদানের জন্য যে যৌগটি দরকার, সেই আইকারিন প্রচুর পরিমাণে রয়েছে হর্নি গোটউইডে। এই উপদানটিকে প্রকৃতিক ভায়াগ্রা হিসেবে শনাক্ত করেছেন ইউনিভার্সিটি অফ মিলানের গবেষক ডা. মারিও ডেল... আরও দেখুন

ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি দেবে ‘সোনা’

ব্রেন ক্যানসার চিকিৎসায় এবার ব্যবহৃত হবে সোনা৷ কারণ সোনা নাকি ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি  দিতে পারে৷ বিজ্ঞান পত্রিকা ন্যানোস্কেল অনুযায়ী, ব্রেন ক্যানসারের  চিকিৎসার সোনার একটি অতি সুক্ষ টুকরো সাহায্যকারী প্রমাণিত হতে পারে৷ বৈজ্ঞানিকরা একটি সোনার টুকরোকে গোলাকৃতি করে... আরও দেখুন

যৌবন ধরে রাখতে অশ্বগন্ধা

বাতের ব্যথা, অনিদ্রা থেকে বার্ধক্যজনিত সমস্যা। এ সবের নিরাময়ে অশ্বগন্ধার বিকল্প নেই। তেমনটাই তো বলেন বিশেষজ্ঞরা। এমনকি যৌবন ধরে রাখতেও অশ্বগন্ধার উপকারিতা অনস্বীকার্য। ত্বকের সমস্যাতেও দারুণ কাজ দেয় অশ্বগন্ধার ভেষজ গুণ। বিদেশেও এর চাহিদা ব্যাপক। সে কারণেই অশ্বগন্ধা চাষ অত্যন্ত লাভজনক।... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')