শিশুরা দেখে, শুনে, পড়ে এবং অন্যান্য উপায়ে পাঠ্যসহ নানান বিষয় শেখে। অনেক শিক্ষাবিদ মনে করেন, শিশুদের শেখার ধরনের পার্থক্যের ওপর ভিত্তি করে পড়ানোর ধরনেও পার্থক্য থাকা উচিত। আবার অনেক মনস্তত্ত্ববিদ এ ব্যাপারে দ্বিমত পোষণ করে বলেন, শেখার ভিন্ন ভিন্ন ধরন শ্রেণীকক্ষে শিশুদের ওপর তেমন কোনো প্রভাব ফেলে না। কিন্তু ব্যাপারটা আসলে কী?নতুন গবেষণার ভিত্তিতে পশ্চিমা মনস্তত্ত্ববিদেরা বলছেন, প্রতিটি শিশুর শেখার ধরনের পার্থক্য থাকার বিষয়টি খুব গুরুত্বপূর্ণ বলে প্রচলিত ধারণার পক্ষে জোরালো প্রমাণের অভাব রয়েছে।মনস্তত্ত্ববিদেরা শিশুর শেখার ধরনের পার্থক্যের ওপর অন্তত ৭১টি ভিন্ন অনুকল্প তৈরি করেছেন। অনেক শিক্ষক, অভিভাবক ও ছাত্রছাত্রীর দৃঢ় বিশ্বাস, জোরে জোরে পড়ার মাধ্যমে সেই শব্দ শুনে শুনে সবচেয়ে ভালো শেখা যায়। আবার অনেক শিক্ষাবিদ পরামর্শ দেন, যে শিশু যেভাবে শিখতে অভ্যস্ত, তাকে সেভাবেই শেখানো উচিত। যেমন: অনেক শিশু জোরে জোরে না পড়েও ভালো শিখতে পারে। আবার কেউ কেউ মানচিত্র বা প্রতীকের মতো উপকরণের সহায়তায় তাড়াতাড়ি শিখে নিতে পারে। গবেষকদের একাংশ মনে করেন, শিশুদের ধাপে ধাপে কোনো বিষয় শেখানোর পদ্ধতিটি সবচেয়ে বেশি ফলপ্রসূ হয়ে থাকে।যুক্তরাষ্ট্রের কেস ওয়েস্টার্ন রিজার্ভ ইউনিভার্সিটির গবেষক ডেভিড কোব বলেন, শিশুর নিজস্ব ব্যক্তিত্ব তাকে অন্য শিক্ষার্থীদের চেয়ে আলাদা অবস্থানে নিয়ে যায়। আর সেই ব্যক্তিত্বের ভিত্তিতেই তারা মূর্ত ও বিমূর্ত বিষয়গুলো স্বতন্ত্র উপায়ে শিখে নেয়।যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের শিক্ষা বিভাগের অধ্যাপক ফ্র্যাংক কফিল্ড শিশুদের শেখার ধরনের ১৩টি নমুনা পদ্ধতির কথা বলেছেন। ২০০৪ সালে তাঁর ওই গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। আর মার্কিন গবেষক কেন গিবসন ২০০২ সালে দাবি করেন, কম্পিউটারনির্ভর স্লাইড শোর মতো দৃশ্যমান (ভিজ্যুয়াল) পদ্ধতির ব্যবহার শিশুদের শেখানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর সাফল্য এনে দিতে পারে।যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া ইউনিভার্সিটির বিশেষজ্ঞ ড্যানিয়েল উইলিংহ্যাম মনে করেন, গিবসনের মতামত বা শিশুদের শেখার ধরনের পার্থক্যের ধারণাটি যথেষ্ট যুক্তিসংগত নয়। দুটি শিশুর সামর্থ্য সমান হলেও তারা শেখার ক্ষেত্রে ভিন্নরকম দক্ষতা দেখাতে পারে। যেমন: একটি শিশু ঝুঁকি নিতে আগ্রহী এবং অপরটি রক্ষণশীল চরিত্রের হলে শেখার ক্ষেত্রে তারা ভিন্ন ভিন্ন ফলাফল অর্জন করতে পারে, যদিও তাদের সামর্থ্য একই।যুক্তরাষ্ট্রের সান ডিয়েগোতে অবস্থিত ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক হ্যারল্ড প্যাশলার ও তাঁর সহযোগীরা বিস্তর গবেষণা চালিয়েও তেমন জোরালো যুক্তি-প্রমাণ খুঁজে পাননি। সায়েন্টিফিক আমেরিকান।
সূত্র - প্রথম আলো

