কক্সবাজার সমুদ্র উপকূলীয় উপজেলা উখিয়া ও টেকনাফের নারী-শিশুরা অপুষ্টির হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) আওতায় এই দুই উপজেলার অন্তত দেড় লাখ নারী ও শিশুর অপুষ্টি দূর করতে বিনা মূল্যে পুষ্টিকর খাবার বিতরণ করে আসছে। গত দেড় বছরে ৬৪ হাজার নারী-শিশু অপুষ্টির ঝুঁকি থেকে রক্ষা পেয়েছে। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সোসাইটি ফর হেল্থ অ্যাক্সটেনশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (শেড) এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
শেডের নির্বাহী পরিচালক মো. উমরা জানান, জেলার আটটি উপজেলার মধ্যে অপুষ্টির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে এই উপকূলীয় দুই উপজেলা (উখিয়া ও টেকনাফ) চিহ্নিত করা হয়েছে। টেকনাফের সাতটি এবং উখিয়ায় পাঁচটি ইউনিয়নে ৫০টি কেন্দ্র স্থাপন করে মা ও শিশুদের পুষ্টিকর খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। এতে অর্থ সহায়তা দিচ্ছে অস্ট্রেলিয়ান এইড। গত দেড় বছরে দুই উপজেলায় ৩৪ হাজার শিশু ও ৩০ হাজার মাকে পুষ্টিসেবা দিয়ে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ঘরে ঘরে উঠান বৈঠকের মাধ্যমে মা ও শিশুদের অপুষ্টি বিষয়ে সচেতন করা হচ্ছে। আগামী ২০১৫ সাল পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলবে।
২২ সেপ্টেম্বর উখিয়া উপজেলার রত্নাপালং গ্রাম গিয়ে দেখা গেছে, শেডের স্বেচ্ছাসেবক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা একটি উঠান বৈঠকে স্থানীয় নারী ও পুরুষদের পুষ্টিকর খাবার নিয়ে আলোচনা করছেন। সেখানে স্থানীয় থিমছড়ি গ্রামের গৃহবধূ আয়েশা খাতুন (৩৩) জানান, গর্ভে বাচ্চা এলে তিনি খুবই দুর্বল হয়ে পড়েন। এরপর তিনি কেন্দ্র থেকে বিনা মূল্যে পুষ্টি (ডব্লিউ+) সংগ্রহ করে খেতে থাকেন।
এরপর তিনি এখন সুস্থ। টেকনাফের নয়াপাড়ার লবণচাষি গিয়াস উদ্দিন (৪৭) জানান, অপুষ্টির শিকার হয়ে তাঁর আড়াই বছরের মেয়ে দুর্বল হয়ে পড়েছিল। তাকেও পুষ্টি (ডব্লিউএসবি ++) খাইয়ে সুস্থ করা হয়।
শেডের উখিয়া উপজেলা ব্যবস্থাপক সুবিমল পাল বলেন, গম, সয়া, আয়রন গুড়া, চিনি, ভিটামিন দিয়ে তৈরি তিন কেজি ওজনের এক প্যাকেট পুষ্টি (ডব্লিউএসবি ++) অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুদের ১৫ দিন খাওয়াতে হয়। অপুষ্টি দূর করতে অনেক শিশুকে সর্বোচ্চ চার মাস এটি খাওয়াতে হয়। আর মায়েদের তিন কেজি ১৫০ গ্রাম ওজনের পুষ্টি (ডব্লিউ+) খেতে হয় ১৫ দিন পরপর।
সম্প্রতি জেলা প্রশাসক মো. রুহুল আমিন উখিয়ার বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে পুষ্টি কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি স্থানীয় রত্না পালং আমতলী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণকেন্দ্রে মা ও শিশুর পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্পের পুষ্টি বিতরণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডব্লিউএফপি কক্সবাজার কার্যালয়ের প্রধান মিনওয়া বুন, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের কক্সবাজারের উপপরিচালক দীপক তালুকদার, উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এস এম আবু সাঈদ এবং শেডের নির্বাহী পরিচালক মো. উমরা।
সূত্র - প্রথম আলো

