কোরবানির ঈদের আর বেশি দেরি নেই। সপ্তাহ খানেকের মধ্যে শুরু হবে কোরবানির পশুর বেচাকেনা। এই পশু বিক্রি করে অতি লাভের আশায় বিভিন্ন স্থানে শুরু হয়েছে পশু মোটাতাজাকরণ তৎপরতা। আর এ জন্য মিয়ানমার থেকে প্রচুর নিষিদ্ধ বলবর্ধক বড়ি আসছে দেশে। কক্সবাজারের টেকনাফ-মিয়ানমার সীমান্তের বিভিন্ন চোরাইপথে এসব নিষিদ্ধ বড়ি আনছেন স্থানীয় কিছু অসৎ ব্যবসায়ী। স্থানীয় ভাষায় এগুলোকে বলা হয় ‘পাম্পবড়ি’।
চিকিৎসকেরা জানান, পশুকে নিষিদ্ধ পাম্পবড়ি খাইয়ে দ্রুত মোটাতাজা করা যায়। তবে এসব বড়ি মোটাতাজা হওয়া পশুর জন্য যেমন ক্ষতিকর, তেমনি এসব পশুর মাংসও মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত ও টেকনাফ-মিয়ানমার ট্রানজিট পয়েন্ট দিয়ে স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও চোরাকারবারি প্রশাসনের লোকজনকে ফাঁকি দিয়ে অন্য পণ্যের ভেতরে লুকিয়ে পাম্পবড়ি নিয়ে আসছেন।
টেকনাফ বার্মিজ মার্কেটের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, টেকনাফ সদর, সাবরাং, বাহারছড়া, হ্নীলা ও হোয়াইক্যং ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের পশু ব্যবসায়ীদের কাছে পাম্পবড়ির প্রচুর চাহিদা রয়েছে। সিপ্রোহেপটাডিন, ডেক্সামেথাসোন ও ডেক্সাভেট নামের প্রতি ১০০ বড়ি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকায়।
এসব বড়ি খাওয়ালে গরু-মহিষ ও ছাগল অল্প দিনের মধ্যে ফুলে মোটাতাজা হয়ে যায়। কোরবানির ঈদের পশুর বাজারে বেশি দাম পাওয়ার আশায় ব্যবসায়ীরা এই পদ্ধতির দিকে ঝুঁকছেন।।
স্থানীয় পশু ব্যবসায়ী নবী হোসেন জানান, আকারভেদে একেকটি পশুকে দিনে ১০-১৫টি পাম্পবড়ি খাওয়ানো যায়। এভাবে বড়ি খাওয়ানোর পর এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে পশু মোটাতাজা হয়। আবার কোনো কোনো সময় হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পশু মারাও যায়। কোরবানির ঈদের আগে পশুগুলো ঢাকা ও চট্টগ্রামে নিয়ে বেশি দামে বিক্রি করা হবে বলে তিনি জানান।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও এ কে এম হুমায়ুন কবির জানান, বলবর্ধক এসব বড়ি খাওয়ানোর ফলে পশুর যকৃৎ ও কিডনি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পানি জমে যায়। এই পানি স্বাভাবিকভাবে শরীর থেকে বের হতে না পারায় তা মাংসে সঞ্চারিত হয় এবং শরীর ফুলে যায়। বড়ির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় পশুগুলো রোগ প্রতিরোধক্ষমতাও হারিয়ে ফেলে। মোটাতাজা হওয়া পশুকে বড়ি খাওয়ানো বন্ধ করা হলে যেকোনো সময় তার মৃত্যু হতে পারে। চোরাইপথে আসা এই বড়ি ক্রেতা-বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
উপজেলা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক টিটু চন্দ্র শীল বলেন, এই বড়ি খাওয়া পশুর মাংসও মানুষের জন্য ক্ষতিকর।
জানতে চাইলে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মোজাহিদ উদ্দিন জানান, এ ব্যাপারে দু-এক দিনের মধ্যে উপজেলার হাটবাজারে অভিযান চালানো হবে।
সূত্র - প্রথম আলো

