‘চোখ রাঙানো’ কথাটার সঙ্গে আসলেই রঙের সম্পর্ক আছে! ‘ভয়-ভীতি’ দেখানো বা ‘শাসানো’ বোঝাতে এ কথাটার প্রচলন বুঝি যুগ যুগ ধরেই। কিন্তু ‘চোখে’র সঙ্গে ‘রাঙানো’র যোগসূত্রটা কী? বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানবজাতি সম্ভবত প্রাচীন পূর্বপুরুষের কাছ থেকেই বিষয়টি পেয়েছে। আদিম যুগের শিকারি মানুষদের বন্যপ্রাণীর সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকার সময়ই হয়তো এই লাল চোখের বিষয়টা শুরু হয়। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এ যোগসূত্র উল্লেখ করে বিজ্ঞানীরা বলেছেন, ব্যক্তিত্ব এবং রাগ-ক্রোধ বা আগ্রাসী মনোভাবের মতো মানসিক অবস্থার সঙ্গে রঙের সম্পর্ক আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ডাকোটা স্টেট ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীদের পরিচালিত এই গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, রাগলে যেমন মানুষের চোখ-মুখ লাল হয়ে যায়, তেমনি রাগী মানুষ লাল রংটাই বেশি দেখেন। রোববার দ্য ইনডিপেনডেন্ট পত্রিকা এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।
গবেষণায় অংশ নেওয়া একদল মানুষকে প্রথমে লাল ও নীলের মধ্যে তাঁদের পছন্দের একটি রং বাছাই করতে বলা হয়। এরপর তাঁদের ব্যক্তিত্বের নানাদিক বিচার-বিশ্লেষণ করা হয়। এতে দেখা যায়, বৈরী ব্যক্তিত্বের অধিকারীরা লাল রং পছন্দ করেছেন।
দ্বিতীয় দফায় গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের পুরোপুরি লাল বা নীল নয় এমন কিছু ছবি দেখানো হয়। এই ছবিগুলোতে যাঁরা লাল রং দেখেতে পেয়েছেন, অন্যদের তুলনায় তাঁরা ২৫ শতাংশ বেশি বৈরী ব্যক্তিত্বের অধিকারী।
তৃতীয় দফার এমন আরেকটি পরীক্ষায়ও দেখা গেছে, অন্যদের তুলনায় লাল রং পছন্দ করা ব্যক্তিরাই অধিক আগ্রাসী। তাঁদের ভাবনাগুলো লাল রঙের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এই রঙের প্রতি তাঁরা পক্ষপাত দেখান।
গবেষকেরা বলেছেন, বৈরী মানুষের সঙ্গে লাল রঙের এই সম্পর্ক হয়তো মানবজাতির বিবর্তনের প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রাচীনকাল থেকে প্রচণ্ড প্রতিকূল প্রকৃতিতে টিকে থাকার লড়াই এবং শত্রুকে মোকাবিলা করা, ভীতি প্রদর্শন, ক্রোধ, আগ্রাসী প্রবৃত্তি ইত্যাদির সঙ্গে এই লাল রঙের সম্পর্ক তৈরি হয়ে গিয়েছিল। এখনো কিছু মানুষের মধ্যে এ বিষয়টি রয়ে গেছে। তাই এমন মানসিক অবস্থার প্রতিফলন এখনো ঘটে লাল রঙের মধ্য দিয়ে। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে জার্নাল অব পারসোনালিটিতে।
সূত্র -প্রথম আলো

