যন্ত্রের সাহায্যে অনেক কিছুই পরিমাপ করা যায়। এবার মার্কিন গবেষকেরা উদ্ভাবন করেছেন কাজের প্রতি মনোযোগের মাত্রা নির্ণয়ের একটি বিশেষ যন্ত্র। এটি আলো ব্যবহারের মাধ্যমে আপনার মনের গতিবিধি ও অবস্থা সম্পর্কে তথ্য দিতে পারবে। এতে স্পষ্ট হবে আপনি বিরক্ত হয়ে আছেন, নাকি অতিরিক্ত কাজের ধকলের কারণে মনোযোগ হারাচ্ছেন।
আর এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে আপনি কাজের লাগাম টেনে ধরতে পারবেন। ফলে নিশ্চিত হবে মনের স্বাভাবিক সুস্থতা। আর
দূরপাল্লার আকাশযানে পাইলটের মস্তিষ্ককে সব সময় সজাগ রাখার কাজে এই প্রযুক্তি ইতিবাচক ফলাফল এনে দেবে।
মস্তিষ্কের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের এই কাজে ব্যবহার করা হবে বিশেষ একধরনের সফটওয়্যার। এই ব্যবস্থাটি কাজের চাপ পর্যবেক্ষণের জন্য একজন মানুষের মস্তিষ্কের সামনের অংশের বাইরের দিকের আবরণে (প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স) প্রতি সেকেন্ডে ১২ বার আলো ফেলবে। রক্তের হিমোগ্লোবিনকে অক্সিজেনসমৃদ্ধ এবং অক্সিজেনবিহীন করতে যে পরিমাণ আলো শোষিত ও প্রতিফলিত হবে, তা থেকে ইঙ্গিত মিলবে ওই ব্যক্তি কী পরিমাণ মানসিক ধকলের মধ্যে রয়েছেন। মস্তিষ্কের কঠোর পরিশ্রমে বেশি পরিমাণ অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত প্রয়োজন হয়। আর সে ক্ষেত্রে আলো শোষণের মাত্রা স্পষ্টতই পরিবর্তিত হয়।
আর সফটওয়্যারের সাহায্যে সেই সংকেত উদ্ধার করবে অবলোহিত রশ্মির কাছাকাছি পর্যায়ের একটি বর্ণালিবীক্ষণ যন্ত্র। ফলে কাজের সঠিক পরিমাণ বা স্বাস্থ্যকর মাত্রা নির্ধারণ সম্ভব হয়।
গবেষণায় নেতৃত্ব দেন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের মেডফোর্ডে অবস্থিত টাফটস ইউনিভার্সিটির ড্যান অ্যাফেরগান। মস্তিষ্ক পর্যবেক্ষণে ব্যবহূত হয় বড় আকারে ফাইবার-অপটিক তার।
এটি এমনিতে অত্যন্ত বড় আকারের একটি যান্ত্রিক ব্যবস্থা। তবে জার্মানির বার্লিনের চ্যারিটে ইউনিভার্সিটির গবেষক সোফি পাইপার ও তাঁর সহযোগীরা একই ধরনের একটি ছোট আকারের ও পরিবহনের উপযোগী যান্ত্রিক ব্যবস্থা তৈরি করতে সমর্থ হয়েছেন। নিউ সায়েন্টিস্ট।
সূত্র - প্রথম আলো

