বিষণ্নতা এবং নানামুখী চাপে সৃষ্ট এক 'বিষাক্ত পরিবেশে' শিশু এবং কম বয়সি ছেলে-মেয়েদের মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। আর এ তথ্য সাম্প্রতিক এক নিরীক্ষাধর্মী জরিপে বের হয়ে এসেছে। ব্রিটেনে ইয়ংমাইন্ডস নামে একটি জাতীয় পর্যায়ের চ্যারিটির উদ্যোগে ১১ থেকে ২৫ বছর বয়সি ২ হাজার ছেলে-মেয়ের ওপর এ নিরীক্ষা পরিচালিত হয়।
নিরীক্ষায় দেখা গেছে, বিফল হওয়ার ভয়, কষ্টে আর্তচিৎকার, নানা চাপে দিশেহারা এবং বিষণ্নতা নিয়ে বসবাস করে এরা। তাদের বিভিন্ন প্রশ্নের একটি তালিকা দেওয়া হয়। এদের অর্ধেকেরই বেশি বিশ্বাস করে যে, স্কুল বা কলেজে পরীক্ষায় ভালো ফলাফল না করলে তা বড় ধরনের বিফলতা হবে। বাকিরা স্বীকার করেছে যে, এ জন্য তারা গলা ফাটিয়ে আর্তচিৎকার করে কষ্ট হজম করার চেষ্টা করেছে। এদের এক তৃতীয়াংশ জানে না, এ কষ্ট লাঘব করতে কী করতে হবে, কোথায়-ই বা যেতে হবে।
১১ থেকে ১৪ বছরের ছেলে-মেয়েদের অর্ধেকের বেশি জানায়, তারা অনলাইনে অশ্লীল সিনেমা দেখেছে এবং এ অভিজ্ঞতা তাদের সহপাঠীদের সাথে পারস্পরিক সম্পর্কে প্রভাব ফেলেছে।
ওই চ্যারিটিকে সহায়তা দিচ্ছেন লেবার পার্টির নেতা এড মিলিব্যান্ড এবং দ্য স্যাটারডেস গ্রুপের ফ্র্যাঙ্কি স্যানফোর্ড। শিশু ও তরুণ প্রজন্মকে এসব মানসিক যাতনা থেকে রেহাই দিতে হাউজ অব পার্লামেন্টে 'ইয়ংমাইন্ডস ভার্সেস' শিরোনামে ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা হয়।
স্যানফোর্ড বলেন, এই বয়সি ছেলে-মেয়েদের সাথে আমার অনেক কথা বলতে হয়েছে। এ ধরনের সমস্যাই তাদের স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার বড় বাধা। তাই এ ক্যাম্পেইনটিকে আমি সমর্থন করি। এ আয়েজনের সবকিছুই এসব ছোট ছেলে-মেয়েদের নিয়ে।
মিলিব্যান্ড জানালেন, ব্রিটেনে এই নবীনরা যে সমস্যাগুলোতে ভুগছে, তা তাদের সবরকমের বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করছে। অথচ কিছু পরামর্শ তাদের এই অন্ধকার থেকে বের করে আনতে পারে। এ শিশু-কিশোর-তরুণদের সমস্যাটাই আমাদের অন্যতম জাতীয় সমস্যা। তাই এদের সাহায্যে ব্রিটেনকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে হবে।
এ ক্যাম্পেইনের পরিচালক লুসি রাসেল বললেন, দিনের ২৪ ঘণ্টাই এই ছেলে-মেয়েরা যে বিষাক্ত পরিবেশে সময় কাটাচ্ছে, প্রতিনিয়তই এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখতে পারছি আমরা।
সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান
সূত্র - দৈনিক কালের কণ্ঠ

