বাংলাদেশের অধিকাংশ অঞ্চলে মাতৃ ও শিশুমৃত্যুর হার কমলেও এখনও প্রত্যন্ত চর ও উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে এই অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। সন্দ্বীপ, পটিয়া, কাজিপুর, উল্লাপাড়া এসব অঞ্চলের মধ্যে অন্যতম বলে জানান বক্তারা।
বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ (বিএনপিএস) এবং সন্দ্বীপ, পটিয়া ও চট্টগ্রাম পাবলিক পলিসি ফোরাম ও ঢাকাস্থ সন্দ্বীপ সমিতির যৌথভাবে আয়োজিত ‘চর ও উপকূলীয় অঞ্চলের মাতৃস্বাস্থ্য অবস্থার উন্নয়ন ও মেয়েদের স্কুল থেকে ঝরে পড়া রোধে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সঙ্গে পাবলিক পলিসি ফোরামের সংলাপ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
তারা বলেন, অপেক্ষাকৃত দুর্বল স্বাস্থ্যসেবা, দুর্গম এলাকায় ডাক্তারদের অনুপস্থিতি, গাইনি ডাক্তার, অ্যাম্বুলেন্স, অপারেশন সুবিধা ইত্যাদি না থাকা, অপ্রশিক্ষিত দাইয়ের হাতে সন্তান প্রসব, মায়েদের সংকটাপন্ন অবস্থায় প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে জেলা সদরে যাতায়াতের অসুবিধার কারণে অসংখ্য মা মৃত্যুবরণ করেন।
এই প্রেক্ষাপটে বক্তারা দাবি করে বলেন, অন্তত ৬৫ শতাংশ নিষ্ক্রিয় কমিউনিটি ক্লিনিককে সক্রিয় করতে হবে। পাশাপাশি কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর লোকবল ও সেবা সরঞ্জাম নিশ্চিত করা, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ টেকনিশিয়ান নিয়োগ এবং অ্যাম্বুলেন্সসহ সব ধরনের সেবা-সরঞ্জাম রক্ষণাবেক্ষণে পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ করতে হবে।
এছাড়াও ডাক্তারদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে এমবিবিএস পাশ করার পরে দুর্গম এলাকা বা উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে অন্তত তিন বছর কাজ করা বাধ্যতামূলক করে আইন প্রণয়ন করার সুপারিশ করেন তারা । প্রত্যন্ত এলাকাগুলোর জন্য পৃথকভাবে বাজেট বরাদ্দ করে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে মাতৃস্বাস্থ্যসেবার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করার উপরেও জোর দেন তারা।
বক্তারা বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ শেষ হওয়ার আগেই মেয়েদের ঝরে পড়ার হারও এসব অঞ্চলে অত্যন্ত বেশি। মেয়েদের স্কুল থেকে ঝরে পড়া রোধে দরিদ্র ও প্রান্তিক শিক্ষার্থীদের জন্য দরিদ্র তহবিল গঠন করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য বর্তমান মুদ্রাস্ফীতি অনুযায়ী উপবৃত্তি ১০০ টাকা থেকে পর্যায়ক্রমে মানসম্পন্ন পর্যায়ে বৃদ্ধির কথা পুনঃবিবেচনা করার কথা বলেন তারা।
বক্তারা আরো বলেন, বিদ্যালয়গুলোতে মেয়েদের জন্য পৃথক টয়লেটের সংখ্যা বৃদ্ধি করার পাশাপাশি এসব অঞ্চলের হতদরিদ্র শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি গ্রহণ করা প্রয়োজন।
উপযুক্ত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে শিক্ষক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, প্রাথমিক শিক্ষা পর্যায়ে যৌননিপীড়নমুক্ত নিরাপদ নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্কুল পরিচালনা পরিষদে দলীয় প্রভাবকে প্রশ্রয় না দেয়ারও জোর দাবি জানান তারা।
অনুষ্ঠান থেকে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত চারটি সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যদের কাছে প্রত্যন্ত এলাকার প্রজনন ও মাতৃস্বাস্থ্য পরিস্থিতি এবং মেয়ে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে আনুষ্ঠানিকভাবে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
বিএনপিএস’র নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবীরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদফতরের উপপরিচালক ড. এ এম পারভেজ রহীম, দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশনের প্রদীপ প্রকল্পের চিফ অব পার্টি রাসেল পেপে ও পরিচালক শিলা হক, কমিউনিটি স্বাস্থ্যসেবার অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক ডা. বরেন্দ্র নাথ মন্ডল প্রমুখ।
সূত্র - natunbarta.com

