নগরে সম্প্রতি ২২ মাস বয়সী এক শিশুর পেট থেকে যমজ শিশুর ভ্রূণ অপসারণ করা হয়েছে। বিশ্বে যমজ শিশুর ভ্রূণ অপসারণের এটি দ্বিতীয় ঘটনা। আর বাংলাদেশে এটি প্রথম। একটি বেসরকারি হাসপাতালে এ সফল অস্ত্রোপচারের নেতৃত্ব দেন শিশু বিশেষজ্ঞ পান্নালাল সাহা ও নন্দনকুমার মজুমদার।
এ বিষয়ে প্রথম আলোর পক্ষ থেকে কথা হয় নন্দনকুমার মজুমদারের সঙ্গে। তিনি জানান, চিকিত্সাবিজ্ঞানের ভাষায় এ ধরনের ঘটনাকে বলা হয় ফিটোস ইন ফিটো। এর অর্থ ভ্রূণের ভেতরে ভ্রূণ জন্মানো। সাধারণত এ ক্ষেত্রে ভ্রূণের ভেতরে একটি ভ্রূণের ঘটনাই বেশি জানা যায়। ১৯৯০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম এ ধরনের ঘটনা বিশ্বমাধ্যমে সংবাদ হয়। এর পর থেকে পুরো পৃথিবীতে এ ধরনের অর্ধশতাধিক ঘটনার খবর জানা যায়। বাংলাদেশেও এ ধরনের ঘটনা আগে ঘটেছে। চট্টগ্রামে ২০০৫ ও ২০১০ সালে এ রকম দুজন শিশুর অস্ত্রোপচার হয়েছিল। তবে এর সবগুলোই ছিল একটি ভ্রূণ অপসারণের ঘটনা। যমজ শিশুর ভ্রূণ অপসারণের ঘটনা এটিই প্রথম।
শিশুর পেটে ভ্রূণ জন্মানোর রহস্য প্রসঙ্গে নন্দনকুমার মজুমদার জানান, বাবার শুক্রাণু ও মায়ের ডিম্বাণু মিলে তৈরি হয় জাইগোট। জাইগোট থেকে একটি শিশু জন্ম নেয়। কিন্তু ফিটোস ইন ফিটোর ঘটনায় গর্ভাবস্থার কোনো জটিলতার কারণে মায়ের পেটে জাইগোটটি ভেঙে এক বা একাধিক জাইগোট তৈরি হয়। এর মধ্যে মূল জাইগোটটা বেঁচে যায় এবং বাকিগুলো তার ভেতরে প্রবেশ করে। এতে মায়ের শরীরের ভেতরের পুষ্টি গ্রহণ করে মূল ভ্রূণটি পূর্ণাঙ্গ শিশু হয়ে ভূমিষ্ঠ হয়। কিন্তু তার পেটে থাকা ভ্রূণটি বিকশিত হওয়ার সুযোগ পায় না। প্রতি পাঁচ লাখে একজন শিশুর পেটে এ রকম ভ্রূণ জন্মানোর সম্ভাবনা থাকে।
তাঁর মতে, জিন ও পরিবেশগত কারণে বিশ্বব্যাপী এ ধরনের ঘটনা বেড়ে যাচ্ছে। এর জন্য দেরিতে বিয়ে ও সন্তান গ্রহণও একটি কারণ হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
২০১০ সালে ঢাকায় বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এ ধরনের একটি অস্ত্রোপচারে অংশ নিয়েছিলেন নন্দনকুমার মজুমদার। সে অভিজ্ঞতার ওপর ভর করেই তিনি তাঁর সহযোগীদের নিয়ে এই শিশুটির অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। শিশুটি যখন হাসপাতালে ভর্তি হয় তখনো তাঁদের ধারণা ছিল না, তার পেটে যমজ ভ্রূণ রয়েছে। অস্ত্রোপচারের পরে চিকিত্সকেরা বিষয়টি আবিষ্কার করেন। তিনি বলেন, ‘শিশুটির ভাগ্য ভালো ছিল। তাই খুব জটিল অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়নি। তিন ঘণ্টাতেই আমরা সফল অস্ত্রোপচার করতে সক্ষম হই। এসব শিশু স্বাভাবিক মানুষের মতোই বেড়ে উঠবে।’
অস্ত্রোপচারের খরচ সম্পর্কে নন্দনকুমার বলেন, ‘শিশুটির পরিবার আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল। এই অস্ত্রোপচারের খরচ বহনের সামর্থ্য তাদের ছিল না। কিন্তু আমরা এ অস্ত্রোপচারকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলাম। অস্ত্রোপচারে অংশ নেওয়া চিকিত্সকদের কেউই একটি টাকাও নেননি।’
অস্ত্রোপচারে অংশ নেওয়া অন্য চিকিত্সকেরা হচ্ছেন পান্নালাল সরকার, সত্যজিত্ ধর, সুলতান মাহমুদ ও তানভীর কবির চৌধুরী।
সূত্র - প্রথম আলো

