১৮ দলের ডাকা টানা তিন দিনের হরতালের দ্বিতীয় দিনে গতকাল সোমবার বগুড়ায় আদালত চত্বরে হাতবোমার বিস্ফোরণ, যুবলীগের কার্যালয়, অ্যাম্বুলেন্স ও হজযাত্রীদের বাসে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
হরতালের পক্ষে-বিপক্ষে লাঠি হাতে শহরের সাতমাথা এলাকায় মিছিল-সমাবেশ করেছে হরতাল-সমর্থক ও হরতালবিরোধীরা। অপরদিকে নন্দীগ্রাম উপজেলা সদরে হরতালের সমর্থনে মিছিল বের করা নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে সাংবাদিকসহ ছয়জন আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার সকাল থেকেই পিকেটাররা শহরের বিভিন্ন মোড় ও পাড়া-মহল্লায় অবস্থান নেয়। এ সময় পিকেটাররা পাড়া-মহল্লার ছোট ছোট মুদি ও পানের দোকান পর্যন্ত বন্ধ করে দেয়।
রোববারের মতো গতকালও সকাল থেকে শহরের বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বগুড়া জেলা জজ আদালত চত্বরে পরপর দুটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এ ছাড়া বেলা ১১টার দিকে শহরের সবুজবাগ এলাকায় ছাত্রলীগের একটি ছাত্রাবাস, গালাপট্রি, চেলোপাড়া, টিটু মিলনায়তন সেউজগাড়ি, খান্দার, স্টেশন সড়কসহ বিভিন্ন স্থানে কমপক্ষে ৩০টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায় হরতাল-সমর্থকেরা। সন্ধ্যার পর শহরের সেউজগাড়ি এলাকায় ছাত্রশিবিরের মিছিল থেকে বেশ কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা থেকে দুটি বাসে হজফেরত যাত্রীরা বগুড়ায় ফেরার পথে শাজাহানপুর উপজেলা সদরের কাছাকাছি পৌঁছালে হরতাল-সমর্থকেরা তাতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কয়েকটি রাবার বুলেট ছুড়ে হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। সকাল আটটার দিকে বগুড়া শহরতলির বনানী এলাকায় পিকেটারদের হামলা-ভাঙচুরের শিকার হয় গাবতলী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি সরকারি অ্যাম্বুলেন্স।
চালক আলম হোসেন জানান, বগুড়ার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে রোগী নামিয়ে দিয়ে গাবতলীতে ফেরার পথে অ্যাম্বুলেন্সটি হামলার শিকার হয়।
নন্দীগ্রামে বিএনপির দুই পক্ষে সংঘর্ষ: এদিকে নন্দীগ্রাম উপজেলা সদরের বাসস্ট্যান্ড চত্বরে বগুড়া-৪ আসনের বিএনপিদলীয় সাংসদ মোস্তফা আলীর পক্ষে-বিপক্ষের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পাল্টাপাল্টি মিছিল বের করার জন্য সেখানে ওই দুই পক্ষের নেতা-কর্মীরা অবস্থান করছিলেন।
একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষের ছবি তুলতে গেলে স্থানীয় সাংবাদিক আবু মুসার ওপর হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা মুসার মোটরসাইকেল ও ক্যামেরা ভেঙে ফেলে। সংঘর্ষে তিনিসহ বিএনপির ছয়জন নেতা-কর্মী আহত হন।
নন্দীগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজাহান আলী বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৬৬টি রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়া হয়েছে।
সাংসদ মোস্তফা আলী বলেন, দলে মনোনয়নপ্রত্যাশী নতুন কয়েকজন নেতা একজোট হয়ে বহিরাগত লোকজন নিয়ে বিএনপির ওপর এই হামলা চালিয়েছে।
মনোনয়নপ্রত্যাশী বগুড়া জেলা বিএনপির সহসভাপতি রাফি পান্না অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘জনবিচ্ছিন্ন সাংসদের ইন্ধনে দলে ঘাপটি মেরে থাকা আওয়ামী লীগের লোকজন আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।’
সূত্র - প্রথম আলো

