রাজধানীসহ দেশের কয়েকটি স্থানে ওষুধের দোকান বন্ধ রেখে চলতি ধর্মঘটের সমাধান নিয়ে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সাথে বৈঠক করেছে বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতি।
বৃহস্পতিবার এই বৈঠক শেষে বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদিকুর রহমান সমিতি কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।
সকাল ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত চলা এই বৈঠকে সমিতির পক্ষ থেকে ৮ দফা দাবি তুলে ধরা হয়েছে বলে জানান সাদিকুর রহমান।
তিনি বলেন, “আমাদের ৮ দফা দাবি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। ওরা আমাকে আজকের ধর্মঘট স্থগিত করার অনুরোধ করেছিল। কিন্তু সারা বাংলাদেশে সর্বসিদ্ধান্তক্রমে চলা এই ধর্মঘট আমি একা বন্ধ করতে পারি না।"
সমিতির পক্ষ থেকে দুইটি দাবি জোরালোভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “আমাদের বিশেষ দাবি হলো আটককৃতদের অবিলম্বে ছেড়ে দিতে হবে এবং দ্বিতীয়ত সিলগালা করা দোকানগুলো ৩ দিনের মধ্যে খুলে দিতে হবে।”
প্রতিত্তুরে সরকারের তরফ থেকে ঈদের আগেই সিলগালা করা দোকান ও আটককৃত ব্যবসায়ীদের ছেড়ে দেওয়ার ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
এছাড়াও বাকি দাবি-দাওয়াগুলোর ব্যাখ্যা দিলে সাদিকুর রহমান বলেন, “ভেজাল, অবৈধ ও নকল ঔষধের বিরুদ্ধে আগামীতে পরিচালিত অভিযানে সমিতির লোক রাখতে হবে। আমাদের কাছে গেজেটেড নোটিফিকেশন ঔষধের পূর্ণাঙ্গ তালিকা নেই। এটা সরকারপক্ষ থেকে সরবরাহ করতে হবে। ফুড সাপ্লিমেন্ট বিক্রি বন্ধে আমাদের পূর্ণ সহযোগিতা থাকবে। তবে আগে নিশ্চিত করতে হবে চিকিৎসরকরা যেন এটা ব্যবস্থাপত্রে না লেখেন।”
ঔষধ প্রশাসন পক্ষে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জাহাঙ্গীর হোসেন মল্লিক। সমিতির পক্ষ থেকে সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বৈঠকে যোগ দেন।
সমিতির পক্ষ থেকে আরো দাবি করা হয়, “ডাক্তাররা যেন আন-রেজিস্ট্রারড ঔষধ ব্যবস্থাপত্রে না লেখেন।”
এছাড়াও যেকোনো সরকারি সিদ্ধান্ত আগে থেকেই সমিতিকে অবগত করার জন্যও বৈঠকে আবেদন করা হয়।
সাদিকুর রহমান বলেন, “আজকের বৈঠক থেকে আমরা মঙ্গলবার পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছি। মঙ্গলবার সারাদেশের জাতীয় শাখা নেতাদের সাথে বসে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
রাজধানীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে দোকানে সিলগালা, গ্রেপ্তার ও জরিমানার প্রতিবাদে সারাদেশে ধর্মঘটের ডাক দেয় বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতি।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রাজধানীর মিটফোর্ড, বাবুবাজার, শাহবাগ ও মালিবাগের ওষুধ মার্কেটের দোকানগুলো বন্ধ ছিল। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।
সুত্র - poriborton.com

