বারান্দার রেলিংয়ে মাথা ঠেকিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে সামির। তিন দিন ধরে স্কুলে যেতে হয় না। কারণ হরতাল। হরতাল মানেই ককটেল। মা-বাবা বের হতে দেন না ককটেলের আতঙ্কে। এমনকি বারান্দায়ও বেশিক্ষণ থাকতে দেন না। সামির লালমাটিয়া বালক উচ্চবিদ্যালয়ে পড়ে। সামিরের কাছে হরতাল মানে বাড়িতে বন্দী থাকা।
১৮-দলীয় জোটের ডাকা টানা ৬০ ঘণ্টার হরতালে ককটেলের আতঙ্কে বিপন্ন বোধ করেছেন শিশুদের আভভাবকেরা। আর স্কুলে যেতে ও খেলাধুলা করতে না পেরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শিশুরা।
মেয়েকে শিক্ষকের বাসা থেকে নিয়ে আসছেন মা লায়লা সুলতানা। তিনি বললেন, ‘যে হারে চারদিকে ককটেল বিস্ফোরণ হচ্ছে, বাচ্চাকে নিয়ে ঘরে না ফেরা পর্যন্ত ভয়ে আছি। আজ হরতালের শেষ দিন আর নভেম্বরে বার্ষিক পরীক্ষা, তাই মেয়েকে শিক্ষকের বাসায় পড়াতে নিয়েছিলাম।’
গত তিন দিন স্কুলে যায় না সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র ঐশ্বর্য ধর। সামনে বার্ষিক পরীক্ষা। পাশের গলিতে ইংরেজি শিক্ষকের বাসা। কিন্তু মা সেখানেও যেতে দেবেন না। কারণ হরতালে যখন-তখন যেখানে-সেখানে ককটেল ফুটতে পারে। মা নীলিমা সাহা বলেন, ‘একটু আগেই টেলিভিশনে সংবাদ দেখলাম, রাজধানীর জুরাইনে ককটেল বিস্ফোরণে রহিমা আক্তার (৯) নামের এক শিশু গুরুতর আহত হয়েছে। ককটেলের স্প্লিন্টারের আঘাতে শিশুটির ডান চোখ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ সংবাদ দেখে কি ছেলেকে বাইরে পাঠাতে পারি?’
টানা তিন দিন বন্ধে নিয়মিত পড়াশোনা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে শিশুদের। বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. আকবর আলী বলেন, ‘প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরকারি হিসাবে ছুটি ৭৫ দিন। এ ছাড়া সারা বছর হরতালের কারণে ক্লাসে পাঠদান বন্ধ থাকে। দেশের এমন পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।’
এ বিষয়ে ইউনিসেফ শিশু সুরক্ষা প্রকল্প কর্মকর্তা সৈয়দ ইমতিয়াজ প্রথম আলোকে বলেন, ‘শিশুরা নির্দিষ্ট নিয়মের ভেতর দিয়ে পরিচালিত হয়। ঢাকা শহরে শিশুদের ঘর থেকে বের হতে হয় শুধু বিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য। কিন্তু হরতালে তাদের ঘরে বসে থাকতে হয়, এতে কম্পিউটারে গেম আর টেলিভিশনে আসক্ত হয়ে পড়ছে শিশুরা। শিশুদের কাছে রাজনীতি ভীতির কারণ হয়ে গেছে।’
সূত্র - প্রথম আলো

