একজন নারী-পুরুষ কেন রাতে ঘুরতে থাকে। এ ঘর ও ঘর, কখনো বারান্দা থেকে রুমে, রুম থেকে বারান্দায়। বাসার প্রতিটি দরোজায় ঘুরে ঘুরে ধাক্কাও খাওয়া হয়। আবার রান্না ঘর থেকে রুমে, রুম থেকে এমনকি বাথরুমেও ঘুরে আসা হয়।
ঘুরাটা যখন অনেক সময় এমন হয়, মনে হয় যেন চরকির মত ঘুরছে তারা। কিন্তু রাতের বেলায় এমন করে মানুষ ঘুরে কেন। চিকিৎসকরা বলছেন, রাতের বেলায় অধিকাংশ মানুষেরই অসুস্থতা বেড়ে যায়।
সেইসাথে রাত যত গভীর হয়, দেখা যায় এই ঘুরাঘুরিটাও অনেক সময় অনেক দীর্ঘ হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যরাতের পর অনেক অসুস্থ মানুষকে দেখা গেছে তাদের ঘুরাঘুরির মাত্রা বেড়ে যায়।
যারা মারাত্মক অ্যাজমা, হার্ট ফেইল্যুরে হাসপাতাল ফেরত কিংবা সিওপিডির (ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পুলমোনারি ডিজিস) মত রোগে আক্রান্ত হয়ে ভুগছেন তাদের ক্ষেত্রে দেখা গেছে রাত যত গভীর হয় ততই তাদের রোগের যন্ত্রণা আরো বৃদ্ধি পায়।
এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, দিন কিংবা সন্ধ্যার তুলনায় রাতে অসুস্থতা আরো জটিল ও দীর্ঘ হয়ে ওঠে।
অনেক ক্ষত্রে এর জন্য যথেষ্ট বিশেষজ্ঞ সেবার অভাবকেই মারাত্মকভাবে দায়ী করা হয়। তবে এর সাথে সাথে রাতের বেলায় অসুস্থতা বেড়ে যাওয়ার জন্য রোগীর মনস্তাত্ত্বিক কারণকেও দায়ী করছেন চিকিৎসকরা। ব্রিটিশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশনের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমনটিই দাবি করা হয়।
অ্যাজমা, মেনোপোজ, আর্থ্রাইটিস, মাথাব্যথা, হার্ট বা হৃদরোগ ও গ্যাস্ট্রিকের রোগীদের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, রাতে তারা বেশ অসুস্থ হয়ে পড়েন।
শতকরা ৬১ জনের মধ্যে দেখা গেছে অ্যাজমার সমস্যা রাতে মারাত্মক আকার ধারণ করে। কপের তীব্র প্রকোপ আর শ্বাসকষ্টের ভয়াবহ অবস্থায় ঘুম যাওয়া অনেক কষ্টসাধ্য একটা ব্যাপার হয়ে ওঠে।
ব্রিটেনের হাসপাতালগুলোতে দেখা যায়, প্রতিদিন কমপক্ষে ২শ অ্যাজমার রোগী ভর্তি হয়। যাদের অনেককে আবার জরুরি বিভাগে নিয়ে চিকিৎসা দিতে হয়।
ব্রিটিশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশনের ওই সমীক্ষায় দেখা যায়, ব্রিটেনের কমপক্ষে ১ কোটি মানুষ আর্থ্রাইটিসের সমস্যায় আক্রান্ত। হাড়ের ব্যাথা, জয়েন্টের ব্যথা, পিঠের ব্যথাসহ নানানরকম ব্যথাগুলো মূলত রাতে বেড়ে যায়।
সেইসাথে যেসব নারীরা মেনপোজের পর্যায়ে পৌঁছেছেন, তাদের ক্ষেত্রেও দেখা গেছে রাতের সময় তাদের অসুস্থতা বেড়ে যায়। এই সময়টায় নারীদের নানারকম শারীরিক ও মানসিক সমস্যা দেখা দেয়।
শরীরের সক্ষমতা এবং শক্তি আগের তুলনায় অনেক কমে যাওয়ায় মনোদৈহিক নানান উপসর্গ দেখা যায়। এরসাথে হরমোনজনিত পরবির্তনের কারণে খুব সহসায় ঘেমে ওঠা তাদের একটা কমন সমস্যা হয়ে ওঠে।
দিনের তুলনায় রাতে ঘেমে যাওয়ার ব্যাপারটা তাদের ক্ষেত্রে প্রায়ই ঘটে থাকে। যেটা আসলে রাতে তাদের দৈহিক-মানসিক যন্ত্রণা, অস্থিরতা, অবসাদগ্রস্ততা ও দুর্বলতারই লক্ষণ। এই অবস্থায় তাদের রাতের নিদ্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
অপরদিকে মাথাব্যথাও এমন একটি সমস্যা যেটি সাধারণত রাতে বেড়ে যায়। চিকিৎসা বিজ্ঞানে এমন অনেক ধরনের মাথাব্যথার কথা বলা আছে, যেগুলোর অধিকাংশই রাতে দেখা দেয়। ক্লাস্টার হেডএক, যেটি মূলত সময় চক্রের সাথে সম্পর্কি। সাধারণত এগুলো রাত ২টার দিকে দেখা দেয়।
এধরনের মাথা ব্যথাগুলো খুবই যন্ত্রণদায়ক হয়ে থাকে। সেকারণে এই মাথা ব্যথাকে সুইসাইড হেডএকও বলা হয়। একইভাবে মাইগ্রেনের ব্যথাও এর মধ্যে পড়ে। যুক্তরাজ্যের শতকরা ৫০ জন মাইগ্রেনের সমস্যায় ভুগে থাকেন।
এছাড়া হার্ট, গ্যাস্ট্রিক এবং ঠাণ্ডাজনিত নানান সমস্যাগুলো রাতের বেলায় বেশি করে দেখা দেয়।
সূত্র: ডেইলি মেইল
সূত্র - - poriborton.com

