চুল পেকে যাওয়া বা চামড়া কুঁচকে যাওয়ার মতো পরিবর্তনগুলো মানুষের বয়স বৃদ্ধির বাহ্যিক চিহ্ন। কিন্তু আরও নিবিড় চিহ্নগুলো পাওয়া যায় শরীরের সূক্ষ্ম বিভিন্ন উপাদানের মধ্যে। মার্কিন বিজ্ঞানীরা সেগুলো পর্যবেক্ষণে এবার রাসায়নিক ‘ঘড়ি’ ব্যবহারের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন।
ডিএনএ রূপান্তরের মাধ্যমে এই ‘ঘড়ি’ বলে দিতে পারবে, কী কারণে মানবদেহের কিছু টিস্যু তুলনামূলক তাড়াতাড়ি বুড়িয়ে যায় এবং কিছু নির্দিষ্ট টিস্যু ক্যানসারে আক্রান্ত হয়। এই আক্রান্ত টিস্যুগুলোই সুস্থ টিস্যুর তুলনায় দ্রুত বুড়িয়ে যায়। এই বিশেষ ‘ঘড়ির’ কার্যক্রমের প্রক্রিয়াটিকে ডিএনএ মিথাইলেশন নামে উল্লেখ করেছেন গবেষকেরা।
বয়স বাড়লে মানুষের ডিএনএর অভ্যন্তরে কয়েকটি এলাকায় মিথাইল গ্রুপের বেশ কিছু রাসায়নিক পদার্থ জমা হয়। এগুলো বেছে বেছে কিছু জিনের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে অবস্থিত ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক স্টিভ হোরাভাথ বলেন, আগে যে বিষয়টি অজানা ছিল তা হলো, বয়স বৃদ্ধির ব্যাপারে আগে থেকে বলে দিতে সক্ষম ব্যবস্থা দেহের অভ্যন্তরেই গড়ে তোলা যেতে পারে। আর সেটি অধিকাংশ টিস্যু ও কোষজুড়ে সত্যিই কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
জিনোম বায়োলজি সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণা নিবন্ধে হোরাভাথ বলেছেন, মানুষের জন্ম থেকে ১০১ বছর বয়স পর্যন্ত শরীরের টিস্যুতে মিথাইলেশনের মাত্রা পরিবর্তন হয়। আর কোন কোন টিস্যু কত বছর বয়স পর্যন্ত ক্যানসারমুক্ত থাকবে, এই প্রক্রিয়ায় প্রায় নিখুঁতভাবে নির্ধারণ করা যেতে পারে।
যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি কলেজ অব লন্ডনের গবেষক অ্যান্ড্রু টেশেনড্রফ বলেন, টিস্যুতে বয়সজনিত পরিবর্তনের চিহ্নগুলো ডিএনএ মিথাইলেশনের মাধ্যমে নির্ণয়ের বিষয়টি হোরাভাথের গবেষণায় এ পর্যন্ত সবচেয়ে গ্রহণযোগ্যভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।
ডিএনএ মিথাইলেশননির্ভর রাসায়নিক ‘ঘড়ি’ তৈরির জন্য হোরাভাথ মোট আট হাজার নমুনার তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করেন। এগুলো সুস্থ মানুষের মস্তিষ্ক, কিডনি ও যকৃৎ এবং অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ৫১টি টিস্যু থেকে সংগৃহীত। এ ছাড়া ক্যানসারে আক্রান্ত ছয় হাজার নমুনা টিস্যু নিয়েও গবেষণা চালান তিনি। এসব নমুনার কয়েকটি ব্যবহার করে ওই ‘ঘড়ি’ তৈরি করা হয় এবং সেটির পরিমাপ যথার্থ কি না, যাচাই করা হয়।
সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্যারিল শিবাটা বলেন, বয়স বৃদ্ধির ব্যাপারটি একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য সমস্যা। বয়সভেদে সবার বুড়িয়ে যাওয়ার ধরন সব সময় এক রকম হয় না। হোরাভাথের গবেষণাটি মানুষের বয়স বৃদ্ধি গবেষণা নিয়ে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলেই মনে হচ্ছে। নেচার।
সূত্র - প্রথম আলো

